ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কানাডায় হুয়াওয়ের সিএফও গ্রেফতার

৬ ডিসেম্বর, বিবিসি : চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার কন্যা কানাডায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ১ ডিসেম্বর হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও প্রধান ফিনান্সিয়াল কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝৌকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের এ ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে হুয়াওয়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করে মেংকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কানাডার চীনা দূতাবাস।  

হুয়াওয়ে জানিয়েছে, অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কাছে প্রায় তেমন কোনো তথ্য নেই এবং ‘মেং অন্যায় কোনো কিছু করেছেন বলেও তাদের জানা নেই’।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলার মধ্যেই গ্রেপ্তারের এ ঘটনাটি ঘটল।

কানাডার বিচার মন্ত্রণালয় মেংয়ের গ্রেপ্তারের তারিখ ও স্থান নিশ্চিত করে বলেছে, “তাকে হস্তান্তর করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং শুক্রবার তার জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে।”   

মেং বিস্তারিত কিছু প্রকাশ হওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানিয়েছেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে আদেশ জারি করায় এ বিষয়ে তারা আর বিস্তারিত কিছু জানাতে পারছে না বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নিউ ইয়র্ক ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট মেংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দায়ের করেছে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য লঙ্ঘনের জন্য হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হুয়াওয়ে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন করেছে এমন সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও অর্থ বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রয়োজনীয় নথি দাবি করেছে।

এই কোম্পানিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বারবার অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি চীন সরকারের গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও যুক্তি দেখিয়েছেন তারা। এই গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সিনেটর বেন সাস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ বিঘিœত করার জন্য চীন বেপরোয়াভাবে নিয়োজিত আছে এবং এ কাজে তারা প্রায়ই ‘বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে’।  

 “কানাডীয় অংশীদাররা এই প্রধান ফিনান্সিয়াল কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা আমেরিকানরা কতৃজ্ঞ,” বলেছেন সাস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ