ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বার্ষিক আয়ে এগিয়ে আওয়ামী লীগের আক্তারুজ্জামান বাবু মামলায় জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

খুলনা অফিস : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বাবু বার্ষিক আয়ে এগিয়ে থাকলেও মামলায় এগিয়ে রয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট ও ২৩ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান হলফনামায় পেশা হিসেবে ঠিকাদারী ও কৃষিকাজ দেখিয়েছেন। কৃষি খাত থেকে বাৎসরিক আয় ৩২ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৬৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৭ টাকা। তার স্ত্রীর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ব্যাংকে জমা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ টাকা, উপহার হিসেবে স্বর্ণ পেয়েছেন ৩০ তোলা। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে ১ লাখ টাকার, আসবাবপত্র ১ লাখ টাকার। তার স্ত্রীর কাছে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য খাতে ৭ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ টাকা রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি উল্লেখ করেছেন তিনি। দায়ের ঘরে ঠিকাদারী কার্যাদেশের বিপরীতে প্রাইম ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া আছে ১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ১৪৩ টাকা। তার স্ত্রীর কোন স্থাবর সম্পদ উল্লেখ করেননি তিনি। 

হলফনামায় পেশা হিসেবে তামিম এন্টারপ্রাইজ, মালামাল সরবরাহকারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা দেখিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংকে জমা ১১ হাজার টাকা, শেয়ার ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্র্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে তার। স্ত্রীর ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের ৭ কাঠা অকৃষি জমি রয়েছে তার। যৌথ মালিকানায় ৫ বিঘা কৃষি জমি এবং ১ বিঘা অকৃষি জমি রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ৪ কাঠা। একটি সেমিপাকা ঘর এবং ও পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি রয়েছে তার। প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইসলামী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা থেকে বিনিয়োগ সুবিধা বা ঋণগ্রহণ করেছেন ১২ লাখ টাকার। তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে। আর পূর্বের ৩টি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। 

এদিকে খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা পেশা হিসেবে ঠিকাদারী ব্যবসা দেখিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। পূর্বের একটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫০ টাকা। তার স্ত্রীর চাকরি থেকে আয় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪১ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬৮ হাজার টাকা, ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। একটি মাইক্রোবাস ও ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। ঢাকা পূর্বাচলে শুন্য দশমিক ৩৮২৫ একর জমিতে বাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রীর খুলনা পুলিশ লাইনে ও ঢাকায় ফ্লাট এবং শুন্য দশমিক ৮২৫১ একর অকৃষি জমি রয়েছে। 

এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু ও মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলনের গাজী নূর আহমাদ, জেএসডির আয়ুব আলী, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মির্জা গোলাম আজম ওরফে মির্জা আজম, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন এবং কমিউনিস্ট পার্টির সুবাস চন্দ্র সানা।

এদিকে আশির দশকে খুলনাঞ্চলের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর। খুলনার স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ক্লিন ইমেজের অধিকারী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত কয়রা-পাইকগাছার বঞ্চিত মানুষেরা তাই মাওলানা আজাদকেই তাদের সমর্থন দিতে চান।

বিগত নির্বাচনে মূলতঃ এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বর্তমানে যিনি এমপি হিসেবে রয়েছেন তিনি বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। আর আওয়ামী লীগ একাদশ নির্বাচনে যাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেই আক্তারুজ্জামান বাবু কয়রা-পাইকগাছার কেউ নন। তিনি খুলনা তেরখাদা এলাকার হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও দ্বিধা দ্বন্দের মধ্যে রয়েছেন। কয়রা-পাইকগাছার স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব নেই বললেই চলে। খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনের প্রার্থী না হয়ে খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছে অস্বস্তি ও ক্ষোভ।

খুলনা-৬ আসনটিতে জামায়াতের প্রভাবও লক্ষ্যনীয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে ৪৬.৩% ভোট পেয়েও এ আসনে সামান্য ব্যবধানে হেরে যান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোহরাব আলী সানা ৫২.৩% ভোট। বিগত নির্বাচনগুলোতে এ আসনে মূলত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে আসছে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে বর্তমান খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রচারণায় রয়েছেন। সকল মামলায় জামিনে থাকার পরেও গত ২৭ অক্টোবর এ জামায়াত নেতাকে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকা যাওয়ার পথে গ্রেফতার করে ডিবি। কিন্তু তাতে থেমে নেই দলের প্রচারণা। এরই মধ্যে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দেন জোটের নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা। তারা আশা করছেন দ্রুতই নির্বাচনী মাঠে ফিরবেন তাদের পছন্দের এ প্রার্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ