ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুস সামাদ এর ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি লাভ

খুলনা অফিস : খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুস সামাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিস (আইবিএস) হতে Civil Justice System in Bangladesh: Status, Impediments and Accelerating Strategies’ শিরোনামে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ২৪৮তম সভায় উক্ত গবেষণা কার্যটি অনুমোদিত হয়। 

তাঁর এ গবেষণা কার্যটি বিচার বিভাগে দেওয়ানী মামলার জট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে দেওয়ানী মামলার সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ। এক একটি মামলা শেষ হতে প্রায় ১০-১৫ বছর সময় লাগে। তিনি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থার সমস্যা সমূহ তুলে ধরেছেন এবং সে সকল সমস্যা সমূহ নিরসনে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, জাপান ও জার্মানির দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য একটি আধুনিক বিচার ব্যবস্থার রূপরেখা বর্ণনা করেছেন। তাঁর এ গবেষণাটি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬ বছর। এই দীর্ঘসময়ে তিনি তাঁর বিচারিক অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সারা দেশের বিভিন্ন আদালতের ১৬৫ জন বিচারক, ১৬৫জন আইনজীবী ও ১৬৫জন বিচারপ্রার্থী জণগণের কাছ থেকে প্রশ্নমালার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আরো ৩জন বিচারপতি, আইন কমিশনের সদস্য, আইন মন্ত্রণালয়ের সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা, ৮জন জেলা ও দায়রা জজ এবং ৮টি জেলা বারের সভাপতি সহ সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাজ্যের SOAS বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ।

ড. মো. আতিকুস সামাদ ১৯৮৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. আতাউর রহমান বাংলাদেশ আনসারের জেলা কমানডেন্ট হিসেবে অতিসম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০০২ সালে যশোর বোর্ড হতে মানবিক বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫ম ও ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ হতে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। উক্ত সময়ে তিনি আইন বিভাগে রেকর্ড পরিমান নম্বর অর্জন করে উক্ত বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে ২য় স্থান অধিকার করেন। তিনি ২০১০ সালে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১২ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ বিচার বিভাগে সহকারী জজ হিসেবে রাজশাহী জেলা জজ আদালতে যোগদান করেন। চাকর জীবনে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং সর্বশেষ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর লেখা দুইটি গ্রন্থ ‘Commercial Laws of Bangladesh’ এবং ‘ADR and Legal Aid’ ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাঁর লেখা বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ IBS Journal, Stamford Law Journal, Asia Pacific Law Journal, BPDM Research Journal, Quatimate Law Journal সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জার্নালে স্থান পেয়েছে। তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগে এমন একটি কার্য পদ্ধতি আবিষ্কার করা যার মাধ্যমে চলমান মামলা জট নিরসন হবে। তিনি তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে তত্ত্বাবধায়ক, আইবিএস এর শিক্ষক, গবেষক, বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক এবং তাঁর স্ত্রী ৩৪তম বিসিএস (নন ক্যাডার) এর একজন সদস্য। তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ