ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রংপুরের ৬টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের সম্পদের যত রকমফের

রংপুর অফিস : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী  হেভিওয়েট প্রার্থীদের সম্পদের তথ্যে পাওয়া গেছে। রংপুর জেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং অফিসার বরাবর তাঁদের দাখিলকৃত হলফনামা থেকে এসব তথ্য বেরিয়েছে।
এর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বার্ষিক আয় প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা। এছাড়া জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার ৯৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কোন জমি নেই। একই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধক্ষ্য এইচএন আশিকুর রহমান সবচেয়ে ধনী। আর একই দলের অপর কেন্দ্রীয় নেতা টিপু মুন্সির নিজ নামে কোন টাকা নেই।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় রংপুর-৩ সদও ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর প্রদত্ত হলফনামায় দেয়া তথ্যে জানিয়েছেন তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস। পিতা-মকবুল হোসেন, মাতা- মজিদা খাতুন। স্থায়ী ঠিকানা- নিউ সেনপাড়া, রংপুর সদর।  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বছরে আয় করেন  মোট ২ কোটি ১৭ লাখ ৪২ হাজার ২০৪ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বিশেষ দূতের সম্মানী ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৯৬ টাকা, সংসদ সদস্যের সম্মানী ১২ লাখ ৬০ হাজার, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সম্মানী ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা । তার মাসিক আয় ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৭ টাকা হিসেবে বছরে  আয় হয় ১ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ২০৪ টাকা। এছাড়া অস্থাবর স¤পত্তি হিসেবে নিজ হাতে নগদ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা ও স্ত্রীর হাতে নগদ আছে ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা আছে- সোনালী ব্যাংকে ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার ২২ টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯১ টাকা। নিজের নামে বিভিন্ন কো¤পানির শেয়ার আছে ৪৪ কোটি ১০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকার। এছাড়া নিজের নামে রয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকার এফডিআর, ডিপিএস ৯ লাখ টাকার। স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার এফডিআর, সেভিং সার্টিফিকেট ৬০ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ আছে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ১০০ ভরি স্বর্ণ। নিজের নামে ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র রয়েছে ৬০ হাজার টাকার। আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৫ লাখ টাকার।  নিজ নামে ব্যবসায় মূলধন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১৫৪ টাকা ও জমি বিক্রয় ২ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন এরশাদ।
স্থাবর স¤পদের মধ্যে দেখানো হয়েছে নিজের নামের কৃষি জমি না থাকলেও স্ত্রীর নামে রংপুরে ৩৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ এবং ঢাকার পূর্বাচলে ১৮ লাখ টাকার সাড়ে ৭ কাঠা জমি আছে। বনানীতে নিজের নামে শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে, যার মূল্য ৭৭ লাখ টাকা। রাজধানীর বারিধারায় ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, বনানীতে ৪৯ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ৬২ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আর স্ত্রীর নামে গুলশানে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও গুলশান মডেল টাউনে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার জমি দেখানো হয়েছে হলফনামায়। ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ঋণ আছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা। অথচ রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত পুরাতুন ওরিয়েন্টাল সিনেমা হলের পরিত্যাক্ত বিরাট এলাকা নিজ নামে নাম ফলক সাটানো থাকলেও এটি তিনি হলফনামায় রহস্য জনক ভাবে উল্লেখ করেননি। 
 রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী মসিউর রহমান রাঙ্গার কোন মামলা নেই। তার কৃষিখাত থেকে আয় হয় বছরে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৮ টাকা। এছাড়া বাড়ি ভাড়া পান ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ টাকা। ব্যবসা বাবদ তার আয় হয় ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ টাকা। চাকরি খাতে তার আয় দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতে আয় রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩২ টাকা। এছাড়া রাঙ্গার স্থাবর সম্পদ, কৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক দালান ও ফিলং স্টেশন রয়েছে। যার মূল্য  কয়েক কোটি টাকা।  পেশা হিসেবে দেখানো হয়েছে পরিবহণ মালিক ও সাধারণ ব্যবসায়ী।
রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরী। তাঁর  বাড়ি, এপার্টমেন্ট ও দোকান ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শেয়ার ও সঞ্চয় পত্র রয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার।  শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি। তার পেশা হিসেবে দেখানো হয়েছে শিক্ষক, চিকিৎসক, আইন ও পরামর্শক। এসব খাতে তার বার্ষিক আয় হয় ২৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতে তার আয় দেখানো হয়েছে আরো ৯১ হাজার টাকা। নিজ নামে নগদ টাকা রয়েছে ২৭ লাখ ৭২ হাজার ১শ টাকা এবং স্বামীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা। তার কাছে স্বর্ণ ও অন্যান্য অলঙ্কার রয়েছে ৩০ ভরি। স্পিকারের নিজস্ব কোন কৃষি কিংবা অকৃষি কোন প্রকার জমি নেই।   
রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির  কোষাধ্যক্ষ এইচএন অশিকুর রহমান সবচেয়ে বিত্তশালি।  তার কৃষিখাতে জমি রয়েছে ১  কোটি ৬০ লাখ টাকার। ব্যবসায় রয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। শেয়ার ও সঞ্চয় পত্র রয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকার। চাকরির পারিতোষিক খাতে আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৬০ হাজার টাকা। অন্যান্য খাতে ৭৮ হাজার টাকা আয় দেখানো হয়েছে। তার কাছে  নগদ টাকা রয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া স্বর্ণ রয়েছে ৪০ ভরি।
রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয়  কমিটির সদস্য টিপুর মুন্সির নিজ নামে নগদ কোন টাকা নেই। নেই কৃষি জমি। চাকরি খাতে আয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। টিপু মুন্সির স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ৩৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। স্ত্রীর নামে বন্ড, স্টক একচেন্জ ৪ কোটি লাখ ৫১ হাজার ৬১ হাজার টাকা। স্বর্ণ রয়েছে ৬০ হাজার টাকার। এছাড়া হলফনামায় আসবাব পত্র দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ