ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চাল ও মাছের দাম বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর সবজি বাজারে সরবরাহ প্রচুর। তাই বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। আর কিছু সংখ্যক সবজির দাম এখনো নাগালের বাইরে। এদিকে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু কেন চালের দাম বাড়লো এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কিছু বলতে পারছে না। মাছের বাজারেও বেশকিছু মাছের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারগুলোতে দেখা গেছে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত চালান। সবজির চালান বেশ বেড়েছে। সামনের সপ্তাহে আরও বাড়বে। তখন দাম আরও কমবে। এদিকে সরু চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু হঠাৎ করে চালের দাম এভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ সর্ম্পকে ব্যবসায়ীরা কিছুই বলতে পারছে না। অপরদিকে মাছের বাজারের দাম বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শসা ও কাঁচা মরিচ। এছাড়া প্রতি কেজি গাজর ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০, মূলা ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা ও কাকরোল ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এছাড়া বাজারে প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি আঁটি কলমি শাক, লাল শাক ৭ থেকে ১০ টাকা, লাউ শাক ২০ থেকে ২৫ টাকায়, পালং শাক, পুঁই শাক ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা করে বেড়েছে। হঠাৎ করে এই দাম বাড়ার কোনো কারণ বলতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তবে অনেকে অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর এটি একটি কৌশলমাত্র।
বাজারে প্রতি কেজি সিরাজ মিনিকেট ও মিনিকেট চাল ৫৭ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। স্বর্ণ চাল ৩৮, মোটা চাল ৩৫, সাকি-২৮ ৪৪ থেকে ৫০, আমিন-২৮ ৪০ থেকে ৪৮টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মসুর ডাল (দেশি) ১০০ টাকায়, মসুর ডাল মোটা ৭০ টাকায়, মুগ ডাল ১২০ টাকায়, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার খোলা ৯০ টাকায় ও বোতলজাত ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আবার দাম কমেছে বাজারে আসা মৌসুমের নতুন আলুর। কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০টাকা। তাছাড়া প্রতি কেজি আদা ১৪০ টাকায়, রসুন ভারতীয় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় ও দেশি রসুন ৮০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৪০ টাকা, ভারতীয় ৩০ টাকা এবং পুরনো আলু ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে দামের পরিবর্তন হচ্ছে না মাছ-গোশতের বাজারে। তবে কৌশলে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া মাছের বাজার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মাছ বিক্রেতা রবিন জানান, বাজারে এখন মাছ-গোশতের চাহিদা কম। যদিও চালান ভালো। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম না বাড়ালে আমরা কখনই দাম বাড়াই না।
বাজারে প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি জোড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি ট্যাংরা মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কৈ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ২৭০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গোশতের দাম রয়েছে আগের মতোই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, গরুর গোশত ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায় ও খাসির গোশত ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ