ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজাপুরে প্রতিপক্ষের লাথিতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত সন্তান প্রসব ॥ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠি সংবাদদাতা, ৫ ডিসেম্বর: ঝালকাঠির রাজাপুরে আদাখোলা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাসুর জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও তার দুই পুত্রের লাথি ও লাঠির আঘাতে রেকসনা বেগম নামে এক নারীর মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনায় রাজাপুর থানাকে মামলা গ্রহণের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজা এ আদেশ দেন। গত শুক্রবার  রাজাপুর থানায় অভিযোগ দিলেও ওসি তা এফআইর হিসেবে গ্রহণ না করায় রেকসনা বেগম গতকাল আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, রেকসনার স্বামী দরিদ্র জেলে আলমগীর হাওলদার  এর সাথে তার আপন বড় ভাই জাহাঙ্গীর হাওলাদারের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিলো। গত ২৩ নভেম্বর শুক্রবার সকালে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় জাহাঙ্গীর হাওলাদার, তার দুই ছেলে নাইম  ও কাইউম এবং স্ত্রী নাছিমা বেগম আলমগীরকে মারধর করতে থাকে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে ৯ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী রেকসনা বেগম এগিয়ে গেলে তার পেটে কয়েকটি লাথি মারে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা। পরে আহত রেকসনাকে উদ্ধার করে রাজাপুর থানায় নিয়ে গেলে পুলিশের পরার্মশে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ডা. আবুল খয়ের মো. রাসেল তাকে এক সপ্তাহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকতে হবে বলে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে রাজাপুর থানায় রেকসনা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাজাপুর থানার এসআই নেছার উদ্দিন তার বাড়িতে তদন্তে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আলমগীর হোসেন তাকে দুই হাজার টাকা দেয়। তখন নেছার উদ্দীন বলে পরে আরও তিন হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু নেছারউদ্দীন আলমগীরের কাছ থেকে টাকা নিয়েও অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে কোন আইনী সহযোগিতা করেনি। গত ২৫ নভেম্বর প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে  স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নাম কেটে দেয় রেকসনার। গত ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে রেকসনা বাড়িতে বসে মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেন। গ্রাম্য দাই সুফিয়া বেগম জানান, মৃত  ছেলে সন্তানটি প্রসবের পর সন্তানটির বাম উরুতে কালো আঘাতের দাগ ও অন্ডোকোষ ভাঙা পানি ভরা দেখতে পান। পরে মৃত শিশুটিকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে ডাক্তার রাসেল বলেন ময়নাতদন্তের জন্য থানায় জিডি বা মামলা করতে হবে। থানায়  গেলে এসআই নেছার উদ্দীন মোবাইল ফোনে মৃত শিশুর ছবি তুলে রেখে আলমগীরকে থানায় প্রবেশ করতে না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুনরায় এ বিষয়ে মামলা করতে গেলে ওসি মামলা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে অসুস্থ অবস্থায় রেকসনা বেগম মঙ্গলবার আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত রাজাপুর থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ