ঢাকা, শনিবার 8 December 2018, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রস্তাব ও সমর্থনকারীসহ ২৭ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

শরীয়তপুর সংবাদদাতা, ৫ ডিসেম্বর: শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর প্রস্তাবকারী সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি, ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সমর্থনকারী সখিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনাকারী ২৭বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সখিপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়ায় আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ মানিক বাদী হয়ে সোমবার রাতে সখিপুর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন । এ মামলায় আরো ৩৫জনকে অজ্ঞাতনা আসামী করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবী বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণের জনপ্রিয়তা দেখে তারা ঈর্ষান্নিত হয়ে এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যাতে করে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনে ভোট চাইতে যেতে না পারে। বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলেও দাবী করেছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সন্ধ্যায় দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মাল বাজার এলাকায় এনামুল হক শামীমের সমর্থনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত বেপারীর নেতৃত্বে বিএনপির ৫০-৬০ নেকা-কর্মি এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই নেতা  আহত হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। এর পর সোমবার সখিপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, শরীয়তপুর-২ আসনটি নড়িয়া উপজেলা ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানার নয়টি ইউনিয় নিয়ে গঠিত। ওই আসনের আ.লীগের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। আর বিএনপির প্রার্থী শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ। মামলার আসামীরা সবাই শফিকুর রহমান কিরনের সমর্থক। মামলার বাদী আওয়ামীলীগের প্রার্থী এনামুল হক শামীমের সমর্থক। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ নির্বাচনের মুহুর্তে এমন মামলা দিয়ে নেতাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে দুরে রাখা, আতঙ্ক সৃষ্টি ও হয়রানি করা ছাড়া কোন কারণ থাকতে পারে  না।
মামলায় সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজমল হক নান্টু মালত, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ মাসুম বালা, বিএনপি নেতা ও দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জি, সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মানিক বকাউল, সখিপুর থানা যুবদলের  সহ-সভাপতি শাহাদাত বেপারী, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজিব সরদার, বিএনপি নেতা ও দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের  ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোতালেব মাল, সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি নিহাদ সরদার, সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইউসুফ জিসান বালা, দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ওসমান তাঁতী ও সাধারণ সম্পাদক কামাল বেপারীসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
সখিপুর থানা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরদার বলেন, এই মামলাটি একটি সাজানো নাটক। ঘটনার দিন কোন বিএনপি নেতাকর্মী ঐ এলাকায় যায়নি। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও আমাদের জানা নেই। আমাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় বাধাগ্রাস্ত করতেই এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ