ঢাকা, সোমবার 10 December 2018, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে অর্ধ শতাধিক ছড়া-খাল : সংস্কারের দাবি

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অর্ধ শতাধিক ছড়া-খাল। ছড়া-খাল গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে উপজেলায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারন করে।
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকের শত শত একর জমির ফসল, ঘরবাড়ি, মৎস্য প্রকল্প, রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে প্রতিবছর এলাকাবাসীকে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই চলতি শুষ্ক মৌসুম ছড়া-খাল গুলো সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করেন উপজেলা কৃষক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট মহল।
জানা গেছে, খইয়াছড়া ইউনিয়নের নাপিত্তা ছড়া দিয়ে বর্ষা মৌসুমে নিচিন্তা, দুয়ারু, নয়দুয়ার, পোলমোগরা, মসজিদিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার পানি প্রবাহিত হয়।
এছাড়া ওই ছড়া দিয়ে পাহাড় থেকে সারা বছর পানি নেমে আসে। ওই পানি শুষ্ক মৌসুমে চাষীরা শাক সবজিসহ ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করে। কিন্তু ওই ছড়া বর্তমানে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা শেষ হতেই ছড়াতে কোন পানি নেই। এই এলাকার কৃষক মো.সবুজ, আলমগীর, লক্ষন জানান, ছড়া সংস্কারের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ছড়াটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে পাহাড়ি ঢলের পানি ছড়ার পাড়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে এবং ঢলের পানি খালে পড়তে অনেক সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় এ বছরও আমন চাষের জন্য তৈরি করা আশি ভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয় বিভিন্ন ফসল। মিরসরাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ছড়ার নাম মহামায়া। মহামায়া ছড়ার পানির শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয় মহামায়া সেচ প্রকল্প। কিন্তু ওই প্রকল্পের সুফল অল্প সংখ্যক কিছু কৃষক ভোগ করতে পারলেও বেশির ভাগ কৃষক মহামায়ার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ হিসেবে জাফরাবাদ, বাঘঘোলা, নয়াপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার কৃষকরা জানান, মহামায়া ছড়ায় আগের কোন রূপ নেই।
ছড়ার কোথাও ভরাট হয়ে গেছে আবার কোথাও ছড়া দখল করে বাড়িঘর তৈরি করার ফলে ছড়া সরু হয়ে গেছে। ফলে সেচ প্রকল্পের পানি ছড়া দিয়ে বেশি দূরে আসে না। তাই কৃষকও ছড়ার সুফল পায় না। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ও মিরসরাই পৌরসভার পানি এছড়া দিয়ে নিষ্কাশন হয়। কিন্তু ছড়ার দূর্দশার কারণে বর্ষার সময় বৃষ্টির পানিতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ডুবে যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, খাল গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ বলেন, এ উপজেলার ৬২ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। আর এদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাল ছড়াগুলো সংষ্কার করা গেলে ফসলের ক্ষতির পরিমান অনেক কমে যাবে।
উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, খাল ছড়াগুলোর সংষ্কার না করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দিক উঁচু হয়ে যাওয়া, অবৈধ ভাবে খাল দখল, অপরিকল্পিত বাড়িঘর, পুল, কালভার্ট নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শুষ্ক মৌসুমে খাল ছড়াগুলোর ভাটির দিক থেকে সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন কলে মনে করেন তার্ া।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, আমরা এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন শেষ হলে ছড়া খাল গুলো সংস্কারের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় দেখব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ