ঢাকা, সোমবার 10 December 2018, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবাধে বালু উত্তোলনে হুমকিতে সমতল ভূমি ও ঘরবাড়ি

নরসিংদী থেকে আসাদুল হক পলাশ: নরসিংদীর শিবপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি খনন করে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে এসব বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। উপজেলার দুলালপুর, শিমুলতলা, দত্তেরগাঁওসহ গ্রামের অধিকাংশ জমিতে শ্যালোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে একাধিক প্রভাবশালী। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে অনেককে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীর পক্ষে থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। সরেজমিন শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাইফুল ফকির নামে এক বালু ব্যবসায়ী বাড়ি পাশের ফসলি জমি খনন করে শ্যালোমেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছেন। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক বালূ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘ ১০/১৫ বছরে একইভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করছেন একাধিক। স্থানীয় প্রশাসনসহ রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী চক্রটি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলনের অবৈধ ব্যবসা করছেন। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দুলালপুর ইউনিয়নের কৃষি জমি ও বাড়িঘর তৈরীর উপযোগী জমি কমে যাচ্ছে। দত্তেরগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলে, বালু ব্যবসায়ী সাইফুল ফকির দীর্ঘদিন ধরে তার ফসলি জমির পাশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এতে ভেঙে তার জমির অনেকাংশে মাটির নিচে দেবে গেছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে মৌখিকভাবে অনুরোধের পর একাধিকবার তিনি স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ২০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। জেলা প্রশাসক ইউএনওকে ব্যবস্থা নিতে বললেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
একই গ্রামের অপর কৃষক কামাল হোসেন বলেন, সাইফুল ফকির এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বাধা দিতে গেলে তিনি অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানান।
যোগাযোগ করা হলে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ