ঢাকা, শনিবার 15 December 2018, ১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ম্যাচ সেরা মিরাজ, সিরিজ সেরা শাই হোপ

স্পোর্টস রিপোর্টার : সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও জিতল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এটা ২৪তম সিরিজ জয়। আর চলতি বছরের এটি তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের ১৯তম সিরিজ জয়। এছাড়া দেশের বাইরে জিতেছে ৫টি সিরিজ । ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয়। এরপর সাফল্যের খাতায় একে একে নতুন সিরিজ যুক্ত হয়। দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জিতে নেয় ২০০৬ সালে। কেনিয়াকে তাদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। বাংলাদেশ সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ জেতে চলতি বছরের অক্টোবরে। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় মাশরাফির দল। বিদেশে সবশেষ সিরিজ জেতে চলতি বছর। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওদের মাটিতে হারায় ২-১ ব্যবধানে। গতকাল শেষ ওয়ানডে ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল দু-দলের সামনেই। তবে শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইবেটে হারায় বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের এই ম্যাচে বল হাতে ৪ উইবেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেএকাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মেগেদী হাসান মিরাজ। হয়েছেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। টস হেরে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের শুরু  থেকে এক প্রান্তে মিরাজকে দিয়ে টানা বোলিং করিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই  স্পেলেই নিজের ১০ ওভারের কোটা পূরণ করে ফেলেন মিরাজ। প্রথম স্পেলে করেছিলেন ৮ ওভার। পরের স্পেলে বাকি দুই ওভার। দলীয় ২৬ ওভারের মধ্যেই মিরাজের কোটা শেষ। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন মিরাজ। নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১ ওভার মেডেন। রান দিয়েছেন মোটে ২৯টি। তার এমন কৃপণ বোলিং আর উইকেট নেয়ার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে থামতে হয়েছিল ১৯৮ রানের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ৬৯ বল হাতে রেখেই সহজে জয়ের লক্ষ্যে  পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের অপরাজিত ৮১ এবং সৌম্য সরকারের ৮০ রানের ওপর ভর করেই জয়ের বন্দরে পৌছাঁয় টাইগাররা। এমন ম্যাচজয়ী বোলিংয়ের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা অন্য কারও হাতে উঠবে সে সম্ভাবনাও ছিল কম। ম্যাচ শেষে তাই বিচারকদের দৃষ্টিতে সেরা হিসেবে উঠে এলো মেহেদী হাসান মিরাজের নামই। মিরাজ ম্যাচ সেরা হলেও সিরিজ সেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শাই হোপ। টানা দুটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ঢাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছিলেন ১৪৬ রানে অপরাজিত। দলকে জিতিয়েই মাঠ  ছেড়েছিলেন তিনি। সিলেটেও করলেন সেঞ্চুরি এবং এখানেও থাকলেন অপরাজিত। তার উইকেট নেয়ারই যেন কোনো বোলার নেই বাংলাদেশ দলে। প্রথম ওয়ানডেতেও করেছিলেন ৪৩ রান। সব মিলিয়ে তাই সিরিজের সেরার পুরস্কারটি তুলে দেয়া হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফল এই ব্যাটসম্যানের হাতে।

সিরিজ জয়ের আনন্দ নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে আসা মিরাজ বলেন, 'আমাদের  বোলিং নিয়ে সত্যি খুব খুশি আমি। হেটমায়ার যখন ব্যাটে আসলেন মুশফিক ভাই আমাকে বল করার জন্য বললেন। এই সিরিজে আমি তাকে আরও একবার আউট করতে পারায় খুশি। আমরা দলের অনুজরা যদি এগিয়ে আসি দলের জন্য জেতা অনেক সহজ হয়ে যায়। দল হিসেবে আমরা চেষ্টা করবো আমাদের সেরাটা ধরে রাখার।' সাকিবকে টি- টোয়েন্টি সিরিজের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘পুরো সিরিজে বোলাররা ভালো করেছে। বিশেষ করে স্পিনাররা খুব টাইট বল করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক গেছে এই ম্যাচে। আশা করছি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দল ভালো করবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কাজটা দলের জন্য সহজ হবে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ