ঢাকা, শনিবার 15 December 2018, ১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সেন্ট্রাল জোনকে ৭ উইকেটে হারাল সাউথ জোন

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে রাজ্জাক-নাফিসদের নিয়ে সাজানো সাউথ জোনসহজ জয় তুলে নেয় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে । ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাউথ জোনের হয়ে সাত উইকেট তুলে নেওয়া মেহেদি হাসান।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে সেন্ট্রাল জোন সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ২৬১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৬৯ রান তুলে। এদিকে, নিজেদের প্রথম ইনিংসে সাউথ জোন ৩৯৭ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় মাত্র ১৩৪। ৩২.২ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিতে সাউথ জোন তিন উইকেট হারায়। ৭ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আব্দুর রাজ্জাকের দলটি।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সেন্ট্রাল জোনের ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৬০ রান। আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষ ব্যক্তিগত ৯ রানে ফেরেন। তিন নম্বরে নামা আব্দুল মজিদের ব্যাট থেকে কোনো রান আসেনি। মার্শাল আইয়ুব ৪৪, দলপতি শুভাগত হোম ২৭, জাকের আলি ১৯, মোশাররফ রুবেল ২১ রান করেন। ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে টেনে নেন তাইবুর রহমান। সাউথ জোনের আল আমিন হোসেন, মেহেদি হাসান তিনটি করে উইকেট পান। দুটি উইকেট পান আব্দুর রাজ্জাক।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সাউথ ওপেনার এনামুল হক বিজয় ১১৮ বলে ১০টি চারের সাহায্যে করেন ৭৭ রান। তিন নম্বরে নামা ফজলে মাহমুদ ৯৯ বলে করেন ৭৪ রান। মাঝে আল আমিন ১৪ রান করে বিদায় নেন। বাংলাদেশের প্রথমশ্রেণির ম্যাচে ৩১ সেঞ্চুরির মালিক তুষার ইমরান ৫৯তম ফিফটি তুলে নিয়ে ১৩০ বলে করেন ৭৮ রান। রকিবুল হাসান রানআউট হওয়ার আগে করেন ৬৫ রান। মেহেদি হাসানের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। সেন্ট্রাল জোনের আরাফাত সানি চারটি আর ইয়াসিন আরাফাত দুটি উইকেট দখল করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে সেন্ট্রালের ওপেনার সাদমান ২৩, পিনাক ঘোষ ১০, আব্দুল মজিদ ২৬, মার্শাল আইয়ুব ১৭ রান করে বিদায় নেন। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ রান আসে দলপতি শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে। সাউথ জোনের মেহেদি হাসান চারটি, কামরুল ইসলাম রাব্বি চারটি করে উইকেট পান।

১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন এনামুল হক বিজয়। ১০১ বলে আটটি বাউন্ডারিতে তিনি ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন। এবং ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন তুষার ইমরান। দুটি উইকেট পান সেন্ট্রালের দলপতি শুভাগত হোম, একটি উইকেট নেন তাইবুর রহমান।

 ইস্ট জোন-নর্থ জোন ম্যাচ নিষ্প্রাণ ড্র

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইস্ট জোন এবং নর্থ জোন। চার দিনের এই ম্যাচটি নিষ্প্রাণ ড্র হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন ইস্ট জোনের রনি তালুকদার, মোহাম্মদ আশরাফুল, আবু জায়েদ রাহি, নর্থ জোনের সানজামুল ইসলাম, নাঈম ইসলাম আর মুমিনুল হকরা।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ইস্ট জোন সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ৪৬৬ রান। জবাবে, নর্থ জোন নিজেদের প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৭৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ইস্ট জোন। তাতে নর্থ জোনের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৫২। ১৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান তোলে নর্থ জোন। এরপর ম্যাচটি ড্র বলে মেনে নেয় দুই দল।

প্রথম ইনিংসে ইস্ট জোনের ওপেনার সাদিকুর রহমান কোনো রান করেই বিদায় নেন। আরেক ওপেনার রনি তালুকদার ডাবল সেঞ্চুরির পথে থাকলেও দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪৫ বলে ১৯টি চার আর ৫টি ছক্কায় ১৮৫ রান করে আউট হন। তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হক ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাঝে মাহমুদুল হাসান করেন ২৯ রান। মোহাম্মদ আশরাফুল ২৫১ বলে ১৫টি চারের সাহায্যে করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৬ রান। তাসামুল হক ১৯, তাইজুল ইসলাম ৩৭ রান করেন। নর্থ জোনের স্পিনার সানজামুল ইসলাম ৫টি, সোহাগ গাজী দুটি, পেসার এবাদত হোসেন দুটি, ইমরান আলি একটি করে উইকেট পান।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নর্থ জোনের ওপেনার জহুরুল ইসলাম -জুনায়েদ সিদ্দীকির ওপেনিং জুটিতে আসে ৯৮ রান। ফরহাদ হোসেন ৬৪ রানে বিদায় নিলেও নাঈম ইসলাম ২৪৩ বলে করেন ১০০ রান। ধীমান ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ৬৮ রান। ইস্ট জোনের হয়ে পেসার আবু জায়েদ রাহি একাই তুলে নেন ছয়টি উইকেট। এছাড়া, এনামুল হক জুনিয়র দুটি, তাইজুল ইসলাম একটি, হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট পান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইস্ট জোনের ওপেনার রনি তালুকদার ১৬ এবং সাদিকুর রহমান ৩৬ রান করে বিদায় নেন। মাঝে মাহমুদুল হাসান ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। ১৯০ বলে ২৩টি চার আর তিনটি ছক্কায় ১৯৪ রান করে বিদায় নেন ১৭তম সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। ১০২.১০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালানো মুমিনুলের ৬ রানের জন্য আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ থেকে যেতেই পারে। মোহাম্মদ আশরাফুল ৫২ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নর্থ জোনের সানজামুল ইসলাম তিনটি, তানভীর হায়দার একটি করে উইকেট তুলে নেন। ৪৫২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে নর্থ জোনের ওপেনার ও দলপতি জহুরুল ইসলাম ব্যক্তিগত ১৫ রানে বিদায় নেন। তাইজুলের বলে আশরাফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আর কোনো উইকেট হারায়নি নর্থ জোন। আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ৫১ এবং ফরহাদ হোসেন ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। এরপরই ম্যাচটি ড্র বলে ঘোষণা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ