ঢাকা, শনিবার 15 December 2018, ১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনে ইভিএম বিতর্কের সমাধান জরুরি

-আবু মুনীর
ইভিএম মানে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে Electronic Voting Machine (EVM). ব্যবহারের সুযোগ রেখে সর্বশেষ RPO সংশোধন করা হলো ৩১ শে অক্টোবর ২০১৮। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের পর সংসদ অধিবেশন না বসায় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংশোধিত আইনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। RPO এর সংশোধিত আইনে নতুন ৩টি বিধান সংযোজন করা হয়েছে। (১) ভোট গ্রহণে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি Electronic Voting Machine (EVM). ব্যবহার। (২) কোম্পানি বা ফার্মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা অংশিদারকে সাত দিন আগের পরিবর্তে মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ। (৩) অনলাইনেও প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার বিধান। বাংলাদেশে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিঃ তারিখ রোজ রবিবার অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৬টি আসনে Electronic Voting Machine (EVM). ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে  নির্বাচন কমিশন (EC) আসন ৬টি হলো ঢাকা- ৬ ও ১৩, চট্টগ্রাম -৯, রংপুর – ৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা- ২, সারা দেশে ৩০০ আসনে ৩০৫৬ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন তন্মধ্যে প্রথম বাছাইয়েই নির্বাচন কমিশন ৭৮৬টি মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (৭৮৬) আল্লাহর নামে শুরু করেছেন ফরমায়েসী নির্বাচন কার্যক্রম।
২০৬ আসনে বি.এন.পি দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। মানবদেহে ২০৬টি হাড় রয়েছে। এবারের নির্বাচনে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে বি.এন.পি বিজয় ছিনিয়ে আনার অঙ্গিকার নিয়েই ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে ৯৪টি আসন ছেড়ে দিয়ে মোট ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ১৬২ নং নেত্রকোণা ২ আসনে বি.এন.পি দলীয় মনোনীত ধানের শীষে প্রার্থী হয়েছেন হাড়ভাঙ্গা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার আনোয়ার। হাসান আজিজুল হক রচিত নির্বাচিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রবন্ধ বইয়ের ১৪৬ পৃষ্ঠায় ‘গণতন্ত্র ঃ বাঁও মেলে না’ শিরোনামে লিখেছেন, ‘...... মোট কথা, জনগণের কথা বলার জন্য জনগণ নেই। আমি আমরা। জনগণ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, সময় হলেই জাগবে। তাহলে অপেক্ষা করা যাক!....’ এই শিরোনামেই ১৫০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “....... প্রবল তোড়ে বাংলাদেশ নিচে নামছে। নেমে যাওয়া চলছেই। এখনও বাংলাদেশ ‘গণতান্ত্রিক একটি দেশ’। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। শুধু এই নামটুকু নিয়েই টিকে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।.......” উক্ত বইয়ের ১৫৪ পৃষ্ঠায় ‘জনগণ জিতবেই’ শিরোনামে লিখেছেন, “....... জোটগুলি পালোয়ানের মতোন তাল ঠুকছে, লড়াই করছে, বিশাল নাটকের আয়োজন করছে, রক্তারক্তি, খামচা-খামচি, গালি-গালাজ চালাচ্ছে আর পুরো দেশের মানুষ দর্শক হয়ে দেখছে। তাদের কিছু বলারও নেই, কিছু করারও নেই।....” লোকেরা সাধারণত খারাপ বা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে তিন কারণে (১) আল্লাহর ভয়ে (২) সমাজের চাপে (৩) আইনের ভয়ে হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে গেছেন, যাতে পরষ্পর সমবেদনা, সহানুভূতি ও সহযোগিতা বিদ্যমান ছিল। একজনকে মন্দ কাজ করতে দেখলে সকলে তাকে নিষেধ বা বারণ করত। ভাল কাজ থেকে পশ্চাৎপদ হতে দেখলে সকলেই তাকে উক্ত ভাল কাজ করার জন্য আদেশ ও উৎসাহ প্রদান করত। কেউ বিপদে পড়লে সকলেই তার প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করে তাকে সান্ত¡না প্রদান করত এবং তার বিপদ মোচনে যথাসাধ্য সাহায্য সহানুভূতি করত। কেউ সম্পদশালী হলে তাতে সকলেই খুশী হত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বৃটিশ শাসনের বিষফল স্বরূপ এখন আর আমাদের সমাজে সে সুন্দর সমাজ বন্ধন নেই। ইসলামী জীবন বিধানের প্রধান একটি ফরয এবং বড় একটি শিক্ষা হচ্ছে, সৎ কাজের আদেশ ও উৎসাহ প্রদান এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। অথচ ইংরেজদের স্বভাব হচ্ছে, “Oil your own machine- নিজের চরকায় তেল দাও।” হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলে করীম (সাঃ) বলেছেন, “ তোমাদের কেউ যেন তার ভাইকে তার আসন হতে উঠিয়ে দিয়ে পরে নিজেই সেই আসন গ্রহণ না করে।” (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ