ঢাকা, শনিবার 15 December 2018, ১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য সকল পদ্ধতিই আ’লীগ ব্যবহার করতে চাচ্ছে

বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশেই নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। যারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে সহযোগিতা করেন। দুঃখজনক ভাবে আমাদের বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন তারা চরম পর্যায়ের সরকার দলীয় লোকের ভূমিকায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে.এম. নুরুল হুদা সরকারী চাকরীতে থাকা অবস্থায় জনতার মঞ্চ নামক মঞ্চ তৈরী করে সরকার পতনের আন্দোলনও করেছেন। অনির্বাচিত অবৈধ আ’লীগ সরকার তাকে কৌশল করে ওই পদে বসিয়েছে। তিনি সিইসির দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার দলীয় ক্যাডার রূপেই আচরণ করে যাচ্ছেন।
একজন বয়স্ক মাহবুব তালুকদার চিৎকার দিয়ে কিছুই করতে পারছেন না। এর পূর্বে কাজী রকিবুল ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনিও ছিলেন আ’লীগের বিশেষ ক্যাডার। তার পূর্বে শামসুল হুদা ছিলেন- তিনিও ছিলেন আ’লীগের ক্যাডার। এমনকি তিনি বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য সরাসরি কাজ করেছেন। ছহুল হোসাইন কি ধরনের নির্বাচন দিয়েছিলেন তা প্রমাণিত হয়েছে তিনি সম্প্রতি আ’লীগের মনোনয়ন পত্র কেনায়। একটা সময় বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনে কমিশনার হতেন সাবেক বিচারপতিগণ। যাদের অনেকেই ছিলেন অ্যাপিলেট ডিভিশনের বিচারপতি। এবং তাদের  মধ্যে ছিল নিরপেক্ষতা। ছিল তাদের ব্যক্তিত্ব। ছিল মান মর্যাদা। সম্প্রতি এই ১২ বছরে আমরা অনেক ব্যতিক্রম দেখছি। যেটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এরা সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে চলছে। যেমন ইভিএম (Electronic Voting Machine) ক্ষমতাসীন আ’লীগ চাচ্ছে। এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের লোকজন এটিই ব্যবহার করতে চাচ্ছে। যেটির বিরোধীতা করছে এন্টি আ’লীগ শিবির।
বিশ্বে এর পূর্বে এই ইভিএম যত জায়গায় ব্যবহার হয়েছে তত জায়গায় এর বিরোধীতা করেছে বিরোধী দল। এবং এর পক্ষে থেকেছে সরকারী দল। বিশ্বের ২০ টি দেশে এই ইভিএম পদ্ধতি পরীক্ষা হয়েছে। চালু আছে ১৩টি দেশে। যেমন-সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, কানাডা, ব্রাজিল, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা, প্যারাগুয়ে, স্পেন, ভুটান, ভারত, পানামা, নেদারল্যান্ড ও জার্মানি। এর মধ্যে এই পদ্ধতি বাদ দিয়েছে প্যারাগুয়ে, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস। জার্মানিতে কোর্টে এই ইভিএমকে অসাংবিধানিক ঘোষনা করেছে। আয়ারল্যান্ডেও এই পদ্ধতি ছিল- তারাও এই বন্ধ করেছে। ইটালি গবেষণা করে দেখেছে যে এটার মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি করা সম্ভব। ফ্রান্স, ব্রিটেন এটি কখনও ব্যবহার করেনি। ম্যাসিডোনিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইউক্রেন এটির মাধ্যমে ভোট চুরি যে করা সম্ভব সেটা প্রমাণিত করে ছেড়েছে। আ’লীগ পূর্বের ন্যায় এবারও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে যেতে চাচ্ছে।  বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার এর একটি অংশ। আবার ইভিএম সরঞ্জামাদি ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে তারা। আ’লীগ ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যার কারণে ইভিএম এর মত একটি বিতর্কিত পদ্ধতি যেভাবে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে হুমকি দিচ্ছে নৌকায় দেখিয়ে ভোট দিতে হবে, নইলে বাড়ীতে থাকতে পারবে না, ক্রসফায়ারে দেয়া হবে।” এধরনের কথা বলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। রাস্তা দখল করে তারা নৌকার শো-ডাউন করছে অথচ বিরোধী দলের কাউকে বের হতে দিচ্ছে না। আ’লীগের ক্যাডারদের থেকে নিয়োগ দেওয়া পুলিশ বাহিনী জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পেলেও তারা আ’লীগের পালিত সন্ত্রাসের ন্যায় আচরণ করে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে এই আ’লীগ মার্কা পুলিশ অফিসারদের কাছে যে টাকা পয়সা জমা হয়েছে তা বের করলে সেই টাকা দিয়ে পদ্মা নদীতে আরো কয়েকটি সেতু নির্মাণ সম্ভব। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে একজন পুলিশের এসপি যিনি ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশে অফিসার পদে (ডিসি) থাকার সময় বিএনপির একজন নেতাকে যিনি প্রকাশ্যে পিটিয়েছিলেন। তিনি এখন প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক! এধরনের চরম হিংস্র, দলবাজ, দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসারে দেশ ভরা। জেলা প্রসাশক, ইউএনও পদেও রয়েছে আ’লীগের ক্যাডার দিয়ে ভরা। এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে কেমন নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে বিরাট প্রশ্ন।
-সাইফুল ইসলাম তানভীর

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ