ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনই হবে কি হবে না তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা আছে

গতকাল রোববার দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন -সংগ্রাম

# নির্বাচন যাতে না হয় সে ষড়যন্ত্রই করছে সরকার --- ড. কামাল
# প্রার্থীদের ওপরই যদি গুলী হয় তাহলে নির্বাচন হবে কীভাবে?--রব
# আমরাও ৩০ ডিসেম্বর যুদ্ধ করবো ---মান্না
স্টাফ রিপোর্টার : ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অব্যাহত হামলার ঘটনায় আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানে যথেষ্ট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।  তিনি বলেন, কারণ ক্ষমতাসীনরা জনমত বুঝে গেছে। যে কারণে জোর করে ক্ষমতায় থাকার সব ধরনের চেষ্টাই তারা করছে। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় ক্ষমতাসীনরা সে চেষ্টাই করছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নির্বাচনই হবে কি হবে না তা নিয়ে আশঙ্কা আছে। নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে দেশে যে পরিবেশ-পরিস্থিতি তাতে আপনারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কিনা এরকম প্রশ্নের জবাবে গতকাল রোববার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা এই আশঙ্কার কথা জানান।
তিনি বলেন, আশঙ্কা তো আছেই। সরকার বুঝতে পারছে মানুষের জনমত তাদের পক্ষে নেই। তাই নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে তারা দিবেনা এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আপনারাও এটা জানার চেষ্টা করলে জানতে পারবেন। জনমত কোনো দিকে আছে? সরকারের পক্ষে আছে না যারা বিরোধী দলের পক্ষে আছেন তা আপনারা জেনে নিন। আমরা শুধু আপনাদের তথ্যগুলো দিচ্ছি। এ ব্যাপারে (বানচাল) আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনারা দেখুন। পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে নির্বাচনের প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা, গুলীবর্ষণসহ নানা ঘটনা তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আজকে বিজয় দিবস। এই বিজয় দিবসের সাথে নির্বাচনেরও কাজ চলছে। আমাদের স্বাধীন দেশের সংবিধানে নির্বাচিত সংসদের বিধান রয়েছে। দেশের মালিক জনগণ। ১৭/১৮ কোটি মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন নির্বাচনের মাধ্যমে। সেই কারণে নির্বাচনের গুরুত্ব দেয়া হয়। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য। এটা আপনারা (গণমাধ্যম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন যাতে স্বাধীনভাবে জনগণ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। আপনারা সকলে থাকবেন।
তিনি বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, দেখেন দুঃখজনক হলেও সত্য আপনারাই তথ্য দিচ্ছেন পত্র-পত্রিকায় দেখছি যে, ভোটারদের ওপর হুমকি দেয়া হচ্ছে, যারা মিছিল করছেন তাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং ভোটের প্রচারণায় প্রার্থীরা গুলীবিদ্ধ হয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এটা কারো খেয়াল-খুশির ব্যাপার নয়।
দেশের এ সংবিধান প্রণেতা বলেন, সংবিধানে আছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। যারা নির্বাচনে বাঁধার সৃষ্টি করে, আক্রমন করে,অন্যভাবে সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা কথা। এটা হলো সংবিধানের কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালন  করার ব্যাপারে আমরা ঘাটতি দেখছি। অন্যদিকে আমরা দেখছি বিরোধী দলের প্রার্থী হয়রানি করা হচ্ছে। অবাক কান্ড তারা শিকার হচ্ছেন আক্রমণের, তাদেরকে গ্রেফতার করে বন্দী করা হচ্ছে আরা যারা আক্রমন করছে তারা বহাল তবিয়তে আছে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে এসব ঘটনা যদি ঘটতে থাকে স্বাভাবিক ভাবে আশঙ্কা হবে ভোটের দিন কী হবে? আপনারা সবাই জনগনের হয়ে পাহারা দেবেন ভোটের দিন সেরকম কোনো কিছু যাতে না ঘটে। ভোটাররা যাতে তাদের অধিকার ফিরে পাবে, স্বাধীনভাবে যাতে তারা ভোট দিতে পারে না, অন্যভাবে জ্বাল ভোট দেয়। আমাদের পাশাপাশি থেকে এসব অবলোকন করতে হবে।
নির্বাচনের আর ১৩ দিন। আপনারা সেভাবে মাঠে নামতেই পারেননি বলছেন। এমতাবস্থায় বাকি সময়টুকুতে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন বলে মনে করেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, অবশ্যই টিকে থাকতে পারবো। জনমত থাকলে মাঠে টিকে না থাকার কোনো প্রশ্নই নেই।
একাদশ নির্বাচন রেখে বিএনপিকে নিয়ে যে পাঁচ দলের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে সেই বিরোধী জোটের ইশতেহার আজ সোমবার প্রকাশ করা হবে। ড. কামাল হোসেন বলেন, সোমবার সকাল ১১ টায় হোটেল পূর্বানীতে ইশতেহার ঘোষনা করা হবে।
জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আগামী ৩০ তারিখ নির্বাচন। আর মাত্র ১৩ দিন বাকী। এখন যদি প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষন হয়, তাদের গ্রেফতার করা হয়, তাহলে নির্বাচন হবে কিভাবে?। তিনি বলেন, শনিবার নোয়াখালীতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের ওপর পাঁচটা গুলি করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী প্রার্থী রুমানা মাহমুদের ওপর গুলি হয়েছে, ঢাকায় সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। ঢাকা- ৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০ আসন সহ বিভিন্ন আসনে হামলা হয়েছে। আমি উত্তরাতে সেদিন মাজারে গিয়েছিলাম সেখানে হামলা হয়েছে। এখন ১৩ দিন আগে যদি গুলি হয় তাহলে এরপরে কী  চালাবে? ট্যাংক চালাবে, কামান চালাবে? এ কী অবস্থা? পৃথিবী কোথায়, জাতিসংঘ কোথায়, কমনওয়েলথ কোথায়? আমরা তো মানুষ। একাত্তর সালে বর্বর পাকিস্তানীরাও এরকম ঘটনা ঘটায়নি।
তিনি বলেন, তারা (ক্ষমতাসীনরা) জনগণকে নামতে দেবে না, কর্মীদেরকে নামতে দেবে না, প্রার্থীদেরকে নামতে দেবে না, এটা কী? আমরা তো নির্বাচন করতে চাই। ভয় দেখালে ভয় পাওয়ার লোক আমরা নই। এটা ভয় না ওরা তো গুলী চালাচ্ছে।
রব বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদেরকে সংযত থাকতে বলছি, সহনশীল থাকতে হবে, সাহসের সাথে থাকতে হবে। আমরা যদি একবার জনগণকে বলি এই হামলার মোকাবিলা করো, জনগন যদি মোকাবিলা করতে যায় পরিণতি কী হবে সেটা একটু চিন্তা করুন। আমি বলতে চাই, আজ জনগণ জয়লাভ করতে চাচ্ছে। জনগণকে যদি জয়লাভ করতে না দেন একাত্তর সনে জনগণ যদি অস্ত্র দিয়ে জবাব দিয়ে থাকে এখন অস্ত্র ছাড়া ব্যালেটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে আপনারা সংযত হোন। আপনারা হামলা-মামলা বন্ধ করুন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দিন।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনে যেসব সহিংসতা হচ্ছে সব কিছু সরকারের মদদে করা হচ্ছে। ওরা স্বশস্ত্র নিরস্ত্র জনগণের ওপর হামলা করছে। আমরা শুধু বলতে চাই, আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি। তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাহলে আমরাও যুদ্ধ করবো। ৩০ ডিসেম্বর আমরা ব্যালেটের মাধ্যমে এর জবাব দেবো।
ঢাকাসহ সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার নানা অভিযোগও তুলে ধরেন নেতারা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন পাটোয়ারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ