ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ধানের শীষের প্রচারণায় আ’লীগ পুলিশের হামলা-গুলী চলছেই

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার সপ্তম দিনেও ধাণের শীষের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার মহান বিজয় দিবসের দিনেও নির্বাচনী প্রচারণায় গুলী-চাপাতি দিয়ে হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশও হামলায় অংশ নেয় বলে বিএনপি জানিয়েছে। গতকালের হামলার ঘটনায় প্রার্থীসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে।
নরসিংদী: নরসিংদী-২ আসনে পাচদোনা এলাকায় বিএনপির প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খানের নির্বাচনী প্রচারণায় গুলী-চাপাতি দিয়ে ফের হামলা চালিয়েছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় গণসংযোগের সময় এ হামলা চালানো হয়। এতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলার সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলী করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের ঢাকা আনা হয়েছে। হামলাকারীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও চারটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় র‌্যালিতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার নয়া বাজার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নোমান চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। একই আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. আফসারুল আমীনের সমর্থকদের বিজয় র‌্যালী থেকে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ নোমানের।
নোয়াখালী: নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। এ সময় গাড়িবহরে থাকা সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিএনপির অন্তত দশ নেতাকর্মী গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। গুলীর ঘটনায় জয়নুল আবেদীন ফারুক অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও আহত হয়েছেন কয়েকজন। গুলী করা হয়েছে গাড়িবহরে থাকা অন্তত ৫টি গাড়িতে। এ সময় ১০-১২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ও ভাঙচুর করে। ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তিনি উপজেলা সদরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। এ সময় সেনবাগ বাজারের সন্নিকটে রাস্তার উপর তাদের গাড়িবহরে এ হামলা চালানো হয়।
চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে বিএনপি প্রাথীর গণসংযোগে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে পুলিশসহ ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ধানের শীষ প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় গণসংযোগে যান পৌর এলাকার ১নং ওয়াডের নতুন রাস্তায়। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অতকিত হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে শেখ মানিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রশিদসহ বিএনপি'র ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।
বাগেরহাট: বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ সালামের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রার্থী এম এ সালামসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। রোববার বেলা ১২টা নাগাদ এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি প্রার্থীর এম এ সালাম জানান, আহতদের মধ্যে ৮ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে মোল্লারহাট উপজেলার কোদালিয়া বাজারে গণসংযোগের সময় বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লারহাট-ফকিরহাট) আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মাসুদ রানার গাড়ি বহরে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় প্রার্থী মাসুদ রানাসহ ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
কুমিল্লা: কুমিল্লার চান্দিনায় ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি’র সমর্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
শনিবার রাতে উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের ফতেহপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৯ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। সংঘর্ষের সময় একটি মটরসাইকেল ভাঙচুর এবং স্থানীয় বাজারের দোকান-পাট ভাংচুর করে তারা।
নাটোর: নাটোরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ৩ বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নাটোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি বেলা ১১টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করে। পরে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আসন্ন নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে দলটি।
ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ৪/৫টি মাইক্রোবাস ও ১০টি মোটরসাইকেল। রোববার সকালে উপজেলার হাকিমুদ্দিন নামক এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের
সিপিবি’র তীব্র নিন্দা: নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি) আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোট মনোনীত প্রার্থী কমরেড জলি তালুকদারসহ নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের পূর্বপরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি। তিনি কাস্তে প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। রোববার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলমের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় দপ্তর বিভাগ থেকে এই নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক হামলা চালায়। নেত্রকোণায় যে হামলা হয়েছে, তা পূর্বপরিকল্পিত এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে।
বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন: গতকাল রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়ে নির্বাচনী মাঠে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। তারা জেনে গেছে সামান্যতম সুষ্ঠু ভোট হলেও তাদের ভরাডুুবি হবে, ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে। তাই দেশজুড়ে এতো সহিংসতা ও রক্তাক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। নির্বাচনের শুরুতে তারা বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরাতে চেষ্টা করেছে।
সারাদেশে হামলার চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী হাটখোলা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে আওয়ামী সশস্ত্র কর্মীরা আক্রমণ চালায়, এতে দু’জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। ঢাকা মহানগর ৪১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলীকে রাত ১০টায় ওয়ারী থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শিল্পাঞ্চল থানা পোস্টার লাগানোর সময় ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোঃ শরিফ, যুবদল সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিম এবং যুবদল নেতা মিজান, আবু সুফিয়ানকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শাহবাগ থানা বিএনপির নেতা মোঃ হাসান, কলাবাগান থানা বিএনপি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, বিএনপি নেতা সবুজ, রিপন ও জসিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পটুয়াখালী-৩ দশমিনা থানাধীন তেতুলিয়া বাজারে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীরা বিএনপির অফিস ভাংচুর করে অফিসের চেয়ার এবং মাইক লুট করে নিয়ে যায়। নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু রায়হানকে রুপমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা-১ দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤ক্সাদক নজরুল ইসলাম মেম্বার, সহ-সভাপতি রশিদ দেওয়ান, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, ছাত্রদল নেতা আরিফ এবং পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২৫ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
তিনি বলেন, নরসিংদী জেলা মহোহরদী উপজেলা সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্বাচনী এলাকায় ৭৯ জন নেতাকর্মীর নামে গাড়ী পোড়ানোর মিথ্যা মামলা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌর বিএনপির সভাপতি বদরুল ইসলাম মোল্লা বাবুল এবং যুবদল সহ-সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ছাত্রছায়ায় মনোহরদী উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ীঘর ভাংচুর করছে। মানিকগঞ্জ-১ ধানের শীষে প্রার্থী এস এম কবির জিন্নার নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে পুলিশের উপস্থিতিতে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে বিএনপির গাড়ী বহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১৪/১৫টি মোটরসাইকেল ও ৭টি গাড়ী ভেঙ্গে ফেলে। ১০/১২ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মদসহ তিন জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হবীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুশফিক আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রাজশাহী বাগমারা থানা বিএনপি নেতা ডা. আব্দুল বারী, জোটের নেতা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আকরাম হোসেনও খোদাবক্স মেম্বার, রাজশাহী-৬ চারঘাট থানা বিএনপি’র সদস্য রফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ মৌল ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও ছাত্রদল সাবেক সভাপতি সহ মোট ৮ জন, নাটোর জেলা তেতুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম নাজমুল হক নাজু, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, তেতুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল জব্বার, সিনিয়র সহৃ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, পরানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মান্দা উপজেলা ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিউল হাসান রবি, মান্দা উপজেলা যুবদল সভাপতি প্রকৌশলী মিজানুর রহমান নান্টু, নাটোর-২
দলীয় অফিস থেকে বের হওয়ার পর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাচ্চু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলম, নওগাঁ-২ ধামইরহাট থানা যুবদল সদস্য কামাল হোসেন, ইউনুস ইসলাম ও পতœীতলা থানার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সোহরাব এবং একই থানাধীন আকবরপুর ইউনিয়ন ঐক্যফ্রন্ট নেতা সারোয়ার হোসেন, শেরপুর-১ গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য আশরাফ আলী, শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, জেলা যুবদল সদস্য ফরিদ, ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি শহীদুল, ২০ দলীয় ঐক্যজোট নেতা লুৎফর, জেলা যুবদল সদস্য নাজিম এবং ইলেকশন কমিটির সভাপতি লালামিয়া, শেরপুর-৩ বিএনপি কর্মী শহীদুল ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব, ময়মনসিংহ-৫ নজরুল ইসলাম ও আব্দুল মিয়া, ফরিদপুর-১
আমিনুর মল্লিক ও আমির হোসেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা জাসাস সভাপতি, শিবগঞ্জ কিচক ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও শিবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন মেম্বার, বরিশাল-২ উজিরপুর পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু, হবিগঞ্জ-৩ পৈল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন মেম্বার, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ৭নং নুরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক, বিএনপি সদস্য জালাল আহমেদ, মামছুল হক, লাখাই থানার ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হেদায়েত উল্লাহ, বরকত উল্লাহ, ৪নং পৈল ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমেদ তোতা, সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, জেলা যুবদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গুলজার খান, মৌলভীবাজার-১ বড়লেখা থানার উপর শাহবাজপুর ইউপি যুবদরের আহ্বায়ক জামিল আহমেদ, মৌলভীবাজার-৪ থেকে ১নং মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি মোঃ সুফি মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মছদ্দর আলী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের সদস্য মোছাব্বির মিয়া, ২নং ভূনবীর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ মেম্বার, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান আতা মিয়া, নোয়াখালী-৪ সুবর্নচর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বাচ্চু মিয়া, চর জুবলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ, জবালীয় ৯ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা মিজান সহ এ.এইচ. বাহাদুর, কাদির, হানিফসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রিজভী জানান, ধানের শীষের অফিস ও নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট-২ আক্কেলপুর উপজেলার রকিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় দখল, চাপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভায় পুলিশ হামলা করে অফিস ভাংচুর করে, নওগাঁ-১ নিয়ামতপুর উপজেলার সুফিয়া বাজারে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়া, নাটোর-২ সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের উপর হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করে তার মটর সাইকেল ছিনতাই, হাফিজ ইব্রাহিমকে বাড়ি অবরুদ্ধ, পটুয়াখালী-১ ধানের শীষের প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তা-বে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি, নাটোর-৪ গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে বিএনপি কর্মীদের উপরে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা, আখাউড়ার সাবেক মেয়র প্রার্থী মন্তাজ কমিশনারের বাড়িতে ধানের শীষের মিটিং করার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলা, বাগেরহাট-২ কচুয়া থানার কাঠাল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুল বাশার শেখকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী সরকারী পুকুড় পাড়ে নিয়ে হাতুড়ী ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ও মেরুদন্ড ভেঙ্গে মারাত্মক জখম, বরিশাল-১ গৌরনদী কাশেমাবাদ প্রার্থীর নিজ এলাকা সহ গতকাল দিবাগত রাত ১২ টা থেকে ২.৩০ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মোট ১২ টি বাড়ি ভাংচুর সহ ব্যাপক তান্ডব, চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিতোবা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাহের গাজীর বাড়িতে পুলিশ সহ ৪০ থেকে জন জন আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সমস্ত আসবাবপত্র ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট, খুলনা-৪ রূপসার ২নং শ্রীফলতলী ইউনিয়নের জোয়ার গ্রামে ধানের শীষের প্রচারণার সময় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা, গোপালগঞ্জ-২ প্রার্থীদের প্রচারনার মাইক চালাতে বাধা, পোস্টার পোড়ানো, রাতে প্রার্থীর বাসায় পুলিশ হামলা, জামালপুর-৩ মির্জা আজমের থানা মাদারগঞ্জ এলাকায় মাইক চালানো ও পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা, জামালপুর-৫ সদর আসনে নির্বাচনী প্রচারনাকালে বিএনপির প্রার্থীর উপর হামলা, নেত্রকোনা-১ এলাকায় সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মহড়া, যশোর-৩ সদর উপজেলার আরিফপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থীর গণসংযোগকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার গাড়ী লক্ষ্য করে বোমা হামলা, গাজীপুর-১ বোয়ালীয়া ও ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রচারনার পথসভায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ