ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোগী বহনে অক্ষম খুলনা জেনারেল হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স

দীর্ঘ বছর রোগী বহন করতে করতে অবশেষে নিজেই অকেজো হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের দু’টি এ্যাম্বুলেন্স। এ্যাম্বুলেন্স দু’টি হাসপাতালের সামনে বছরের পর বছর পড়ে থেকে মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দু’টির গ্লাস, ইঞ্জিন, চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মানুষ খুলে নিয়ে গেছে।

অকেজো দু’টি এ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও খুলনা সদর হাসপাতালে বর্তমানে কাগজে-কলমে দু’টি এ্যাম্বুলেন্স সচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি সপ্তাহের ৫/৬ দিন যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল থাকে। ফলে দরিদ্র রোগীদের পড়তে হয় বিপাকে। অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে রোগীদের প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়। এতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় এ সেবা থেকে। এ অবস্থায় আক্ষেপে রোগীরা বলছেন, আমরা সেবা পাবো কিভাবে এ্যাম্বুলেন্স নিজেই মুমূর্ষু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের সামনে একটি এ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর একটি জরুরি বিভাগের সামনে রয়েছে। বছরের পর বছর খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় এ্যাম্বুলেন্স দু’টির সবকিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। অযত্নে পড়ে থাকায় গাড়ির কাঠামো ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। যন্ত্রাংশের অধিকাংশই চুরি হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে ভালো অ্যাম্বুলেন্স দু’টিও বয়সের ভারে নুজ্য। একটি চলে, অপরটি অচল। একাধিক রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, অয্ত্ন, অবহেলা ও মেরামতের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স দু’টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সচল দু’টির একটি প্রায় নষ্ট থাকে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। দুর্ঘটনা কবলিত ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে হয় বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, অটোরিকশা অথবা ব্যক্তিগত ভাড়া করা গাড়িতে।

আবু জাফর নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা সোনার হরিণের মতো। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স । মাত্র একটি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলছে তাদের রোগী পরিসেবা। আর এ রকম পরিস্থিতিতে রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। তিনি জানান, রোগীর স্বজনরা দিগুণ দামে বাইরে থেকে এ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেটকার ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী পরিবহনের জন্য। মিজান নামের এক রোগী বলেন, সরকারি এ্যাম্বুলেন্স সেবা আমাদের ভাগ্যে নেই। এ্যাম্বুলেন্স নিজেই মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। খুলনা জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে দিনে শত শত রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্র পান। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ রোগীও এ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পান না। রোগীর সেবা দিতে হলেও তিন থেকে চারটি এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন বলে মনে করছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও নার্সরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার বার স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আরও এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার তাগিদ দিলেও অধিদফতর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। 

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ও ১৪ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স চেয়ে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান ডিও লেটার পাঠান। 

খুলনা সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক আসাদ বলেন, অকেজো দু’টি এ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কাগজে কলমে দু’টি ভালো থাকলেও একটি অকেজো। অন্যটি দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া যায় না। কয়েক দফা খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এ্যাম্বুলেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, খুলনা সদর হাসপাতালে কমপক্ষে ২-৩টি সচল এ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নতুন একটি এ্যাম্বুলেন্স চেয়ে আমরা বার বার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাইনি। আশা করি পাবো। দেখি এ বিষয়ে কালকে আবার কথা বলবো। রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। নতুন এ্যাম্বুলেন্স না পওয়া পর্যন্ত রোগীদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। হাসপাতালে যে দু’টি এ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তা প্রায় ১০-১৫ বছরের পুরনো। ওই দু’টি আর মেরামত সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ