ঢাকা, মঙ্গলবার 18 December 2018, ৪ পৌষ ১৪২৫, ১০ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশের অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিবে

গতকাল সোমবার রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয় -সংগ্রাম

# পুলিশ ও সেনা ব্যতিরেকে চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা থাকবে না, পরপর ২ মেয়াদের বেশি একজন প্রধানমন্ত্রী নয়, থাকবে না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি
# গণঅভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর। পরিবর্তনের লক্ষ্যে দলে দলে জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে, অনিয়ম রুখবে --- ড. কামাল হোসেন
# জনগণ তাদের মালিকানা ফিরে পাবার জন্য জেগে উঠেছে --- মির্জা ফখরুল
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এই হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আর ১০/১২ দিন বাকী আছে। নির্বাচন হতে দেন। সুষ্ঠু ইলেকশন না হতে দেয়া, জনগণ যেভাবে পরিবর্তন আনতে চায় তাকে না হতে দেয়া, জোর করে রাষ্ট্রকে আবারো মানে গত পাঁচ বছর যেটাকে আমি বলি বিনা নির্বাচনে এটাকে এভাবে ভোগ করা হয়েছে। এটা করলে আমি সতর্কবাণী দিতে চাই, তাহলে দেশের অবস্থা তখন ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে। যেটা কারোই কাম্য নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সকলকে ‘কে কি করছে সতর্ক থাকি এবং নির্ভয়ে সোচ্চার থাকি’ এই আহ্বান জানান ড. কামাল হোসেন।
 দেশের এ সংবিধান প্রণেতা বলেন, সময় এসেছে দেশের মানুষ রুখে দাঁড়ান। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মালিকানা নিজের হাতে নিন। যেমন ক্ষমতার মালিক জনগণ এটা সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে লিখে দেয়া হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেছিলেন। এই মালিক হওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিলো।  পরিবর্তনে  ও জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনে করে ৩০ ডিসেম্বর দলে দলে জনে জনে ভোট কেন্দ্রে যাবে, ভোট দেবে। ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করে অনিয়ম রুখবে। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত  নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেখে বাড়ি ফিরবে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণঅভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর। এটা সকলকে মনে রাখতে’ হবে। সবাই ভোটের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধার করা হবে।
নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার বেআইনি অভিহিত করে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন গ্রেফতার হচ্ছে। সেদিন ৬৮১ জনের একটা গ্রেপ্তারের তালিকা দেয়া হয়েছিলো সেটা ২/৩দিনে এখন ১৯ শ’ হয়ে গেছে। এটা লজ্জার বিষয়, এটা জাতীয় লজ্জার বিষয়। এটা শুনে আমাদের ১৬/১৭ কোটি মানুষ লজ্জা পাবে যে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যে স্বাধীনতার জন্য এতো জীবন দিয়েছিলো ইভেন কী বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিনের মতো নেতাকে জীবন দিতে হলো। সেই বাংলাদেশে জনগণকে এভাবেই আক্রমণ করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনী আমি অনুরোধ করি আবেদন করি, আপনাদেরকে যেকোনোভাবে বুঝানোর চেষ্টা করি যে এদেশ সকলের। আপনারাও এদেশের নাগরিক-এগুলো করবেন না। তারা (পুলিশ) বলে, স্যার কী করবেন হুকুম। আমি বলতে চাই বেআইনি হুকুম কিন্তু কোনো হুকুম হতে পারে না। এটা আইন। আমি পুলিশ একাডেমিতে বহু বক্তৃতা দিয়েছি সকলকে বলেছি, বেআইনি আদেশ মানা একটা অপরাধ। এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আইজি সাহ্বে আপনাকে আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, আপনার একটা সুনাম ছিলো- এটাকে রক্ষা করেন। পুলিশ বাহিনীকে এই ধরনের এলোপাতাড়ি এরেস্ট থেকে সরে থাকতে বলেন।
নির্বাচনের প্রচারণায় পুলিশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।   সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর পেশাশক্তির হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি প্রায় ৫০ বছর উপরে এসবের সঙ্গে জড়িত আছি। এরকম অবস্থা আমি জীবনে দেখি নাই, আপনারাও দেখেন নাই। আপনারা কী দেখেছেন প্রত্যেক প্রার্থীর ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তিনি বলেন, আপনারাই বলেন, লিখছেন, নৌকা ছাড়া কোথাও ধানের শীষের ােকনো পোস্টার দেখা যাচ্ছে না। তাহলে বলুন, এটা কি রকম লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড।
ড. কামাল বলেন, এটা এখন হচ্ছে। জনগণ যখন রাষ্ট্রের মালিক থাকে না, তখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে পড়ে কায়েমী স্বার্থবাদী দেশি-বিদেশেী নানা গোষ্ঠী। এটার মাশুল দিতে হয়েছে দেশের জনগণকে। দেশে সীমাহীন দুর্নীতি। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। কীভাবে সম্ভব হলো? যারা দায়িত্বে আছেন তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই। ব্যাংকের কথা বলতে চাই আমি। এতে রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর আস্থা হারাবে মানুষ। আমি বলব না। আপনারা নিজে নিজে জেনে নেবার চেষ্টা করুন যে ব্যাংকের দেনা কোন পর্যায়ে চলে গেছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই ইশতেহারে বাংলাদেশের জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো উঠে এসছে। এটা সাম্প্রতিককালে একটা বিপ্লবিক ইশতেহার বলে চিহ্নিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জনগণ তাদের মালিকানা ফিরে পাবার জন্য যেভাবে জেগে উঠছে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে দেশের মানুষ এগিয়ে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ তাদের মালিকানা আদায় করবে এবং যে অপশক্তি রয়েছে যারা স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে চায়, মানুষের অধিকারকে হরণ করতে চায় তাদেরকে পরাজিত করবে।
 সোমবার ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে ৩৫ দফা প্রতিশ্রুতি রেখে ফ্রন্টের এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এই ইশতেহার পড়ে শুনান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে মূল মঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির আসম আবদুর রব, শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্র্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বসেন। ইশতেহার ঘোষণার এই অনুষ্ঠানে ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মাহ্বুব উল্লাহ, অধ্যাপক মোস্তাহিদুর রহমান, মোস্তফা জামান আব্বাসী, অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিএনপির রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ড. সাহিদা রফিক, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এ ইসলাম, অধ্যাপক ড. সুকোমাল বড়ুয়া, রুহুল আলম চৌধুরী, শাহজাদা মিয়া, এনামুল হক চৌধুরী, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, জাহেদ উর রহমান, গনদলের গোলাম মওলা চৌধুরীসহ পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, উচ্চকক্ষ সংসদ গঠনসহ ৩৫ দফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপিকে নিয়ে পাঁচ দলের গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৫ দফা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বানীর বলরুমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হেসেন এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,  আজ আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি। এটা জনগণের ইশতেহার। জনগণের কল্যাণ, জনমতের ভিত্তিতে এটা তৈরি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি ভোটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে দেশে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে ২১ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, ৩৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও ১৪ দফা প্রতিশ্রুতি এই মিলে আমাদের এই ইশতেহার। এই নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের কল্যালে সরকার পরিচালনা করবে। এই পরিচালনার মূল নীতি হবে ঐকমত্য, সরকারের অন্তর্ভুক্তি এবং যেকোনো রকমে প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত রাখা।  প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিকানা জনগণ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেতে বর্ণিত এই নীতি র ভিত্তিতে শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতা দলের মানুষের নয়। এই মালিকানা থাকবে নির্বাচনে পরাজিত নেতা, কর্মী ও সমর্থকদেরও। এই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে নির্বাচনে পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীরা অংশ গ্রহণ করছেন। এই নির্বাচনে তিন‘শ আসনের মধ্যে ২৪২টি আসন রেখে জাতীয় যুক্তফ্রন্টের শরিকদের ১৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এরমধ্যে গণফোরামকে ৭টি, জেএসডিকে ৪টি, নাগরিক ঐক্যকে ৪টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। বাদ বাকী ৩৯টি আসন জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটকে দেয়া হয়েছে।
৩৫ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্যসমূহ :
 প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যিই লক্ষ্য : মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, মামলার ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারবর্হিভুত হত্যার ঘটনাসমূহ সমাধানে  ‘সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান  ও বিভেদ নিরসন কমিশন’ গঠন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অতীতের হয়রানি মামলা সুরাহা লক্ষ্যে খোলা মনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা : বিচারবর্হিভুত হত্যাকান্ড ও গুম পুরোপুরি বন্ধ, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল, রিমান্ডের নামে পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন বন্ধ, সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার বন্ধ, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্দদের ক্ষতিপুরণ দেয়া এবং মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী ওপর বাচিক কিংবা শারীরিক যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখা হবে। যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন : সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাদের ওপর যেকোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার : যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য : সংসদে একটি উচ্চ কক্ষ সৃষ্টি করা হবে। সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে ৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য : প্রধানমন্ত্রী  ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারপ্রাপ্ত আনা হবে। একটানা পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। সংসদে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত করা হবে।
স্বাধীন কমিশন গঠন: বিচারপতিসহ সব নিয়োগের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়নে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে উল্লেখযোগ্য নারী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হবে।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন কমবে : সংসদে মহিলা আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। তবে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে ন্যূনতম বিশ শতাংশ নারীদের মনোনয়ন দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
প্রাদেশিক সরকার :  প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা পরীক্ষার জন্য একটি সর্বদলীয় জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।
দুর্নীতির তদন্ত : বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতির তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
ন্যায়পাল নিয়োগ : ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে এবং সংবিধান নির্দেশিত সব দায়িত্ব পালনে ন্যায়পালকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে।
আর্থিক খাতে দুর্নীতির তদন্ত : আর্থিক খাত ব্যাংকিংখাতে লুটপাটে জড়িতদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ব্যাংকসমূহকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হবে।
সরকারি চাকরি বয়সসীমা : পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে বয়সের কোনো সময়সীমা থাকবে না। সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না।
 বেকার ভাতা চালু : ৩০ বয়সসীমার উপরে শিক্ষিত বেকারদের জন্য  ভাতা চালু করতে একটি কমিশন গঠন করা হবে।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়কর, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইশতেহারে করণীয়সমূহ তুলে ধরা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ