ঢাকা, বুধবার 19 December 2018, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দেয়া বক্তব্য সত্য নয় -সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে আলোচনা-সমালোচনায় ‘নাখোশ’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে সিইসি বলেন, ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের সংজ্ঞা কী? এ কথা বারবার বলা হয় কেন, লেভেলপ্লেয়িং ঠিক নেই? কোথায় লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নাই, কিসের ফিল্ড ঠিক নাই?’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে রাঙামাটিতে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মাহবুব তালুকদার সত্য বলেননি। নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
গত সোমবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি মনে করি না নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন।
গতকাল মাহবুব তালুকদারের এ মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি দ্বিমত পোষণ করেন। নুরুল হুদা বলেন, ‘সবাই নিজেদের মতো প্রচারণা চালাচ্ছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অসুবিধা কোথায়?’
মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সমতল এলাকার মতো পাহাড়েও গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। প্রত্যক ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। পার্বত্য অঞ্চলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো ঝুঁকি নেই। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা সব সদস্য ও সামগ্রী আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এক হাজার ৮শ’র বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এতকিছুর পরেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই কীভাবে?’
সিইসি বলেন, ‘প্রার্থীরা পথসভা করেন, মাইক ব্যবহার করেন, পোস্টার ছাপান, পোস্টার বিলি করেন, মানুষের কাছে যান, কেউ কোনোদিন তাদের বাধা দিয়েছে? সরকারি দল বা বিরোধী দল মিটিং-মিছিল আবার অনেক সময় শোডাউনও করছে। তাদের কি কেউ বাধা দিয়েছে? তাই যদি না হয় তাহলে নির্বাচনে প্লেয়িং ফিল্ড আছে বা নেই- এই প্রশ্নের অবকাশ নেই। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা আসে কেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩ হাজার ৬০০ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৮৪৬ জন প্রার্থী আছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি আসনে ছয়জন। এতে প্রমাণ হয় যে, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে।’
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিআইজি মো. গোলাম ফারুকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ