ঢাকা, বুধবার 19 December 2018, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যশোর শহরে ধানের শীষের প্রার্থী অমিতকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলী ও বোমা হামলা

যশোর সংবাদদাতা : যশোর সদর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী গণসংযোগে আবারও বোমা হামলা ও গুলী চালানো হয়েছে। গত রাতে যশোর শহরে সিটি প্লাজা এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। চিহ্নিত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সুস্থ আছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিশাল কর্মীবহর নিয়ে বাজারে দোকানে দোকানে ভোট প্রার্থনা করতে যান। এক পর্যায়ে তিনি সিটি প্লাজা এলাকায় ক্যাম্পেইন করার সময় এলাকার বেশ কিছু হত্যা মামলার আসামী চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাধনের নেতৃত্বে একটি সশ্বস্ত্র গ্রুপ এসে পরপর দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় জনতা ধরধর বলে তাদের ধাওয়া করলে তারা দুই রাউন্ড গুলী করে পালিয়ে যায়। এ সময় প্রার্থী অমিত জনগণ ও তার কর্মীদের উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোতয়ালী থানা থেকে মাত্র ৩শ’ গজের মধ্যে প্রধান বাজারে প্রকাশ্যে এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক বিলম্ব করে। প্রসঙ্গত দুই দিন আগে শহরের পূর্ব বারান্দিপাড়ার কদমতলা, মুড়লী জোড়া মন্দির এলাকা ও শহরতলীর ধর্মতলা এলাকায় অমিতের ওপর ৩ দফা হামলা চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা অমিতকে ছুরিকাঘাত ও বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যা প্রচেষ্টা চালায়। তবে সৌভাগ্য এবং জনতার প্রতিরোধে তিনি এখনও অক্ষত আছেন।
এদিকে আজ এই ঘটনার আগে মাগরিবের পর শহরতলীর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘুরুলিয়া গ্রামে আওয়ামীলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা বিএনপি নেতা কবির হোসেনের দোকানে হ্মালা চালিয়ে তাকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তারা কবিরকে গুলী করার চেষ্টা করলে তিনি কোন রকমে রক্ষা পান। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এই বাহিনী পরে ইউনিয়নের ছোট বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে ধানের শীষের অফিসের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অশ্রাব্য গালাগাল ও হুমকি দিয়ে চলে যায়। প্রায়ই একই সময় সন্ত্রাসীরা শহরতলীল আরবপুর ইউনিয়নের মন্ডলগাতি ও নিমতলীতে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, এ সব বিষয়ে তারা কোতোয়ালি পুলিশকে অবহিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিক কোথাও কোন অভিযোগের খবর তাদের জানা নেই। তারা আরো জানান, ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রায় প্রতিদিনই জেলার রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোথাও সন্ত্রাসী তৎপরতা থামেনি এবং কারও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ