ঢাকা, বুধবার 19 December 2018, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান (বামে) আইজিপি (অব.) নূর মোহাম্মদ (ডানে)

এম. সাঈদুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া) আসনে এবার বাঘে-সিংহে লড়াই। এখানে বড় দুই দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। একজন হলেন আওয়ামীলীগের সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ, অপরজন হলেন দুই দুই বারের সাবেক এম. পি. মেজর অব. আখতারুজ্জামান। এরা দুজনই কটিয়াদীর চান্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এই আসনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সাতবার চান্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারাই এম.পি. নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও নিশ্চিত এই আসনে চান্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাই এম.পি. নির্বাচিত হচ্ছেন। এই আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিপিবির নুরুল ইসলাম, জাকের পার্টির মো. আব্দুল জব্বার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সালাউদ্দিন রুবেল এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির তারেক মো. শফিকুল ইসলাম।
২০০১ সালের ৮ম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি ছিল একমাত্র কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে। তখন এখানে ইউনিয়ন ছিল ১০টি। এই আসনে ১৯৭০ ও ৭৩ সনে এমপি হয়েছিলেন আওয়ামীলীগ নেত প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান খান চুন্নু মিয়া। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে এমপি হয়েছিলেন মেজর অব. আখতারুজ্জামানের অনুজ সহোদর আনিসুজ্জামান খোকন। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালের এরশাদের শাসনামলে এমপি হয়েছিলেন জাতীয় পার্টি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান চাঁন মিয়া। ১৯৯১ সালে এমপি হয়েছিলেন তখনকার বিএনপি নবাগত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ১৯৯৬ সালের ৭ম সংসদ নির্বাচনে আবারো এমপি হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। ২০০১ সালের অষ্টম ও ২০০৮ সালের ৯ম সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নে বাসিন্দা বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়াত ডা. এম.এ. মান্নান। তবে ২০০৭ সালে সীমানা পূননির্ধারণের কটিয়াদীর সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলাকে যুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালের ১০ম সংসদ নির্বাচনে এমপি হন পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন। অর্থাৎ ১৯৭০ সাল থেকে ১১টি সংসদের মধ্যে ৭টি সংসদেই কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারাই এম.পি. নির্বাচিত হন। এবারও সেই সম্ভাবনা নিশ্চিত।
সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিনের চাকরি ও কুটনীতিকের জীবনশেষে এবার এলাকার উন্নয়নের ভাবনায় নবীন মুখ হিসেবে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছেন। নির্বাচনের অনেক আগেই তিনি দুই উপজেলায় গণসংযোগ, মতবিনিময় এবং সমাবেশ করে আসছিলেন। আর প্রতিটি কর্মসূচীই এলাকাবাসীর আর্থিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগে হয়েছে বলে জানা গেছে। নুর মোহাম্মদকে ঘিরে কেবল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ এলাকাবাসী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আখতারুজ্জামান ৫ম ও ৭ম সংসদে এমপি হলেও ৮ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডা. এম. এ. মান্নানের হেরে যান। পরবর্তীতে ৯ম সংসদ নির্বাচনে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী ভুইয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১০ সংসদ নির্বাচনতো বিএনপি বয়কটই করেছিল। এবার ১১ সংসদ নির্বাচনে আখতারুজ্জামানকে আবারো বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। এতদিন বিএনপির একটি নুর মোহাম্মদের পক্ষে কাজ করলেও এখন তাদের মধ্যে অনেকেই বিএনপির নির্বাচনী কর্মকা-ে ফিরে আসছেন। কাজেই বিএনপি এখানে কঠিন লড়ায়ের আশা করছে।
পাকুন্দিয়ায় ভোটের স্রোত যেদিকে থাকবে তার বিজয় মোটামোটি নিশ্চিত এই বিতর্কে সবাই একমত। বর্তমান আওয়ামীলীগ সাংসদ মো. সোহরাব উদ্দিনের বাড়ি এই উপজেলায় হওয়ায় ভোট যুদ্ধে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। মনোনয়নের দৌড়ে হেরে ইতোমধ্যেই যিনি নির্বাচনের ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। নৌকা প্রার্থী আর বর্তমান এমপির মধ্যকার শীতল সম্পর্কও রাতারাতি পরিবর্তনের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এসব সমীকরণের সূত্র ধরেই এই আসনে ধানের শীষ প্রতীককে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা।  এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ২৬৫ জন। আগামী ৩০ শে ডিসেম্বর ভোটের দিনের ফয়সালার দিকে এখন সবার দৃষ্টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ