ঢাকা, বুধবার 19 December 2018, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : চোখে না দেখলে যেন বিশ্বস করা যায়না। দৃশ্যটির কথা মনে পড়লেই শরীর শিউরে উঠে। মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে এ যেন এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। উপজেলার কোলাপাড়া ব্রাম্মনপাইকসা গ্রামের প্রভাবশালী কর্তৃক তপন খানের বিরুদ্ধে বসবাসরত প্রায় ১০/১২টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি জোরপূর্বকভাবে দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করায় চরম ভোগান্তীতে পড়েছে ঐ পরিবারের সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা-যায়, ডাক্তার দেখানোর জন্য বৃদ্ধ আবুল কালাম তার ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী মমতাজকে কাঁধে নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে যাওয়ার এক করুণ দৃশ্য। ভূক্তভোগী ওছমান বেপারীর ছেলে আবু সাইদ বেপারীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তাদের পূর্বপুরুষসহ তারা প্রায় ১০/১২ টি পরিবারের ৬০/৭০ জনের সদস্য দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল। প্রায় ৪/৫ মাস পূর্বে পার্শবর্তি বাড়ির মালিক ডাঃ ওয়াচ খান এর ছেলে তপনখান পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের ৮ ফুট চওড়া রাস্তাটির মাত্র ২ ফুট চওড়া রেখে সরকারি খাস জায়গাসহ রাস্তার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে। ফলে ঐ রাস্তা দিয়ে এক জন সুস্থ লোক কষ্ট করে কোন রকম যাতায়াত করতে পারে। এছাড়া অসুস্থ ও গর্ভবতীদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে কিংবা কারও মৃত্যু হলে চরম ভোগান্তীতে পড়তে হয় পরিবারের লোকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে ও শুকনো মৌসুমে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয় তাদের। বসবাসরত পরিবারের সদস্য মাহীন জানায়, গত ২ মাস পূর্বে হাসানঢালীর স্ত্রী আরজুদা বেগম ও ৬ মাস পূর্বে মোহাম্মদ বেপারীর স্ত্রী মাবিয়া মারা যায়। তাদের লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়ার কোন রাস্তা না থাকায়, ঐ পরিবারে সদস্যসহ নিকট আত্মীয়রা চরম বিপাকে পড়ে যায়। লাশটি কবরস্থানে নেওয়ার রাস্তা না থাকায়, তপন খানকে হাতে-পায়ে ধরে অনেক অনুরোধ করা হয়। পরে তপন খান তার নিজ বাড়ির উপর দিয়ে লাশ কবর স্থানে নেওয়ার অনুমতি দেয়। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ১২৫ বছর বয়সী মৃত ওসমান বেপারীর স্ত্রী নূরজাহান বেগম অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পড়ে রয়েছেন। চিকিৎসা করার প্রয়োজন হলেও যাতায়াতের রাস্থা সংকুচিত হওয়ার কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের করতে পারছেনা তার পরিবারের সদস্যরা। ফলে অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন তাকে বাড়িতেই  পড়ে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া ভুলক্রমে স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা কিংবা ছোট ছোট শিশু বাচ্চারা কেউ যদি তপনখানের বাড়ির ভিতর দিয়ে মুল সড়কে প্রবেশ করে। তবে তাদের শুনতে হয় তপন খানের অকথ্য ভাষার নানা গালা-গালসহ সহ্য করতে হয় মারধরও। এ ব্যাপারে জানার জন্য  তপন খানের কাছে একাধিক বার মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি মোবাইলটি রিসিভ করেননি।  প্রভাবশালী কর্তৃক অবৈধভাবে সরকারি খাস জায়গাসহ যাতায়াতের ৮ ফুটের রাস্তায় নির্মাণ করা জবর-দখলি প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভূক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ