ঢাকা, শনিবার 22 December 2018, ৮ পৌষ ১৪২৫, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যমুনা-বড়াল ও হুরা সাগর নদীর নাব্যতা হ্রাস ॥ নৌ-চলাচল ব্যাহত

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর। ছবিটি মোনাকষা পয়েন্ট থেকে তোলা

এম,এ, জাফর লিটন , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ ) থেকে : উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে, নদ-নদীগুলোর নাব্যতা সংকটের কারণে সময়মত ভিড়তে পারছেনা মালবাহী জাহাজ কার্গো। ফলে থমকে দাঁড়িয়েছে বন্দরটির কর্মচাঞ্চল্য। বাঘাবাড়ী বন্দর, বড়াল, যমুনা, হুরাসাগর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালুর চর জেগে ওঠায় কার্যত অচল হবার উপক্রম হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মওসুম এলেই কেবল ভরা যৌবন প্রাপ্ত হয় নদীগুলো, আর সচল ও কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পায় বাঘাবাড়ী নৌ বন্দরটি। লেবার-শ্রমিক-মালিকদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠে বন্দর। উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়া সার, সিমেন্ট, পাট, কয়লা ও নানা পণ্য নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই বন্দরে নিয়ে আসা হয়। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকার উত্তরবঙ্গের সাথে দ্রুত যোগাযোগ সুবিধার লক্ষ্যে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী বড়াল নদীর তীরে নৌ-বন্দর ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে এই বন্দরের আকার বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের শত শত ব্যবসায়ী বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরকে ঘিরে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে থাকে । ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম নৌ-বন্দর হিসেবে পরিচিত লাভ করে । বিভিন্নসময়ে লেবার হ্যান্ডেলিং নিয়োগ নিয়ে দ্বনেদ্বর কারণে বন্দরের কার্যক্রমে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জ যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার স্থল পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নব দিগন্তের সূচনা হয়। ফলে আংশিক গুরুত্ব কমে যায় বাঘাবাড়ী বন্দরের। প্রতিবছর বন্দর অভিমুখী যমুনা নদীর বেড়া ও নগরবাড়ী পয়েন্টের নদীগর্ভে জেগে ওঠা ছোট বড় অসংখ্য বালুচর ড্রেজিং না করায় বাঘাবাড়ী নৌ বন্দরের কার্যক্রম অচল হবার উপক্রম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর নাব্যতা সংকটে কার্গোগুলো বাঘাবাড়ী বন্দরে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। চলতি ইরি বোরো মওসুমে জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেয়ার আশংকা করা হচ্ছে ।

এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই অব্যাহতভাবে বন্দর অভিমুখী নদীগুলো শুকিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অথচ এ ব্যাপারে বহুবার বিআইডব্লিউটি বরাবর আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এ ব্যাপারে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতি বছর এই কৃত্রিম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য বন্দর অভিমুখে ড্রেজিং করে কার্গো চলাচল উপযোগী করা অতিব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা না হলে বন্দর অচল হবার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে এবং চলতি ইরি বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তেলের জন্য ট্যাংকি, কয়লা ও সারের জন্য ট্রাক দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে কার্গোগুলো ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ