ঢাকা, মঙ্গলবার 25 December 2018, ১১ পৌষ ১৪২৫, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এবার ৭ বছরের কারাদণ্ড নওয়াজ শরীফের

২৪ ডিসেম্বর, দ্য ডন : গত ৬ জুলাই একটি দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের পর এবার আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে।

আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরিফকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার পাকিস্তানের অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালত এ দুই মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে।

লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে (অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলা) গত ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় পাকিস্তানের আদালত। একই মামলায় তার মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। মরিয়মের স্বামী ও নওয়াজের মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরকেও আদালত এক বছরের সাজা দেয়।

গত সেপ্টেম্বরে নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ। মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ রুপিতে নওয়াজ ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

অ্যাভেনফিল্ড মামলার রায় ঝুলে থাকলেও গতকাল সোমবার নওয়াজের বিরুদ্ধে অন্য দুই দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আল আজিজিয়া দুর্নিত মামলায় নওয়াজকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ও আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে তা বিলম্বিত হয়। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে রবিবারই নওয়াজ লাহোর থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছান।  দুপুর ২টার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। তার পৌঁছানোর পর পরই রায় ঘোষণা করে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল দুনিয়ার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয় আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নাম উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী দলগুলো থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পানামা পেপারস প্রকাশের পর বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার সুপারিশ করা হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফের পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলায় রায় প্রদান করলেও অন্য দুই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে বিরত রাখেন বিচারপতি মোহাম্মদ বশির। পরে এ দুই মামলা বিচারপতি আরশাদ মালিকের আদালতে পাঠানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ