ঢাকা, বুধবার 26 December 2018, ১২ পৌষ ১৪২৫, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এক দশকের মধ্যে সহিংসতম বছর পার করলো কাশ্মীর

২৫ ডিসেম্বর, সাউথ এশিয়ান মনিটর : মধ্যরাতে কাশ্মীরের সিরনু গ্রামে হাজির হয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা: তিনজন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সেখানে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছিল। শনিবার সকালে, স্থানীয়দের ঘুম ভাঙ্গে বন্দুকের গুলির শব্দে। সহিংসতার কথা ছড়িয়ে পড়লে শত শত তরুণ যুবক ওই এলাকায় জড়ো হয়, জঙ্গিদের পালাতে সহায়তা করার জন্য পাথর ছুড়তে শুরু করে তারা।

নিরাপত্তা বাহিনী তখন ভিড় লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সাতজন নিহত হয়, আহত হয় কয়েক ডজন। এই নিহতদের একজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এটা ছিল এ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা। ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত এই রাজ্যে তিন দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে আসছে। মৃত্যুর হারের সাথে সাথে আরেকটি জিনিসও বাড়ছে। জঙ্গি প্রজন্মকে ভারত দূরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করায় কাশ্মীরে সহিংসতা বাড়ছে এবং কাশ্মীরের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। সরকারি তথ্য মতে, ২০১৮ সালে জঙ্গি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে। এ পর্যন্ত ৩২৪ জনের মতো নিহত হয়েছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলোর হিসেবে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা একশ পেরিয়ে গেছে। কেউই মনে করেন না যে শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে সেখানে।

পুলওয়ামা জেলার সিরনুর ঘটনা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী যখন অভিযান চালিয়েছে, তখনই জনতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের, যারা সরে না গিয়ে তাদের গতি রোধ করেছে।

জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং কাশ্মীর সঙ্ঘাতের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষক অমিতাভ মাত্তু বলেন, মনে হচ্ছে “এমন একটা প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যাদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ছাড়া অন্য কোন ভাবে ভারতের সাথে যোগাযোগ নেই”।

হিমালয় অঞ্চলের এই অংশটির উপর ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই তাদের কর্তৃত্ব দাবি করে। ভারী সামরিক বাহিনী সজ্জিত সীমান্তের মাধ্যমে দুই দেশের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে আছে কাশ্মীর।

জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের উত্থানের শুরু ১৯৮৯ সালে। মাঝের বছরগুলোতে তাদের তৎপরতা কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে। পাকিস্তান জঙ্গিবাদীদের সক্রিয় সহযোগিতা দিয়েছে, যেটা ভারতকে ক্রুদ্ধ করেছে।

জঙ্গিদের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র কয়েকশ। নব্বইয়ের দশক ও এর পরের দশকে তাদের তৎপরতা যেভাবে বেড়েছিল, সে তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। এরপরও জঙ্গি গ্রুপগুলোর জনবল নিয়োগের মাত্রা বেড়ে চলেছে।

দিল্লী ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশানের আইজাজ আহমেদ ওয়ানি বলেন, “জঙ্গিবাদ এখন দেশের ভেতর থেকেই জন্ম নিচ্ছে”। “সামনের বছরগুলো হয়তো আরও সহিংস হবে”।

বিশেষজ্ঞরা ২০১৬ সালের বুরহান ওয়ানি হত্যার দিকে ইঙ্গিত করেন। ২২  বছর বয়সী এই জঙ্গি কমান্ডার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ভক্ত গড়ে তুলেছিলেন। ওই হত্যাকা- ছিল একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট।

ওয়ানির মৃত্যু পরবর্তী সপ্তাহগুলোকে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ হয়েছে কাশ্মীরীদের ক্ষোভ নিরসনের জন্য অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অভাব। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দু জাতীয়তাবাদী মানসিকতাকে আলীঙ্গন করায় সেটা পুরো ভারতেই মুসলিমদের ক্ষুদ্ধ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ