ঢাকা, বৃহস্পতিবার 27 December 2018, ১৩ পৌষ ১৪২৫, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) সংসদীয় আসনে ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. শফিকুর রহমান তার আসন নিয়ে ২১ দফা কর্মসূচি দিয়ে বলেছেন, ২০ দলীয় ঐক্যজোটসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতির ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারী শক্তির হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার অধিকার ফিরিয়ে দিতে “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে ২১ দফা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যের শহর রাজধানী ঢাকা। দীর্ঘ ও বিচিত্র অভিজ্ঞতা এ শহরের মানুষের। আপনারা জানেন যে, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ যখন এক কঠিন রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে ঠিক তখনই আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের উপর চলছে অমানষিক জুলুম ও নির্যাতন। এ জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য আলেম উলামা ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। বিগত দশ বছরে সরকারের জুলুম নির্যাতন এবং রাজনৈতিক হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন ২০ দলীয় জোটের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মীসহ নিরাপরাধ মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের ইঙ্গিতে বিশেষ বাহিনীর দ্বারা মিরপুরের অধিবাসী বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মিরপুর-কাফরুলবাসীর প্রিয়জন শহীদ মীর কাশেম আলীর সুযোগ্য পুত্র ব্যারিস্টার আরমানসহ আরো অনেককেই গুম করেছে এবং গুলীতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন ডাঃ তারেক হাসান সজীব, ছাত্রনেতা শহীদ কামারুজ্জামান আলম, মোজাম্মেল হক মঞ্জু, জসীম উদ্দীনসহ অনেকেই। গুলিতে গুরতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন মাহবুব কবির, শাফায়াত কবির, ডাঃ জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট ফিরোজ আলম, ছাত্রনেতা ছোটন ও নিজাম উদ্দিনসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলাচত্বরে রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের হাজারো নিষ্পাপ নেতা-কর্মী এবং কওমী মাদরাসার নিরীহ ছাত্র-শিক্ষকগণ। মিথ্যা বানোয়াট মামলার আসামী হয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের অসংখ্য মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে বছরের পর বছর। ঘর-বাড়ী ও কর্মস্থল ছেড়ে তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরিবার-পরিজনের সাথে দেখা করাতো দূরের কথা বাবা-মায়ের জানাযায়ও অংশগ্রহন করতে পারছেন না অনেকেই। এমনকি বছরের পর বছর ঈদের জামায়াতগুলোতেও শামিল হতে পারছেন না বিভিন্ন মামলা-হামলার কারণে। দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, হানাহানি, মারামারি, খুন-হত্যা-গুম, ধর্ষণ, অন্যায়-অনাচার ও অবিচারের কারণে মানুষ আজ বিক্ষুব্ধ। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি এবং মাদক আসক্তির কারণে যুব সমাজ আজ দিশেহারা। এ পরিস্থিস্তিতে দেশের জনগণ আজ সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের মৌলিক অধিকারসহ ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলমান। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অংশ হিসাবে ২০ দলীয় জোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) নির্বাচনী আসনে ২০ দলীয় জোট আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভোট একটি উৎসব। যুগের পর যুগ ধরেই এটাই ছিল সাধারণ চিত্র। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। ভোটের পূর্বের এমন বিভৎস দৃশ্য ঢাকাসহ দেশবাসী আগে কখনো দেখেনি। অতিসম্প্রতি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার নির্বাচনী সমন্বয়ক ঢাকা মহানগরী উত্তরের ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ড. রেজাউল করিম, রেজাউর রহমান তপনসহ নির্বাচনী এলাকা থেকে কমপক্ষে ২ শতাধিক নেতা-কর্মী সমর্থককে সম্পূর্ণ বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের গ্রেফতারের হাত থেকে নারী শিশুরাও রেহাই পাননি। আমার নির্বাচনী পোষ্টার ঝুলানো ও লিফলেট বিতরণের কারণে অনেক নেতা-কর্মীর বাসা-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। অনেককে বেধড়ক মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আমার নির্বাচনী এলাকায় কোন প্রকার মাইকিং করা ও পোস্টার ঝুলানোর সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা। মাইকিং বের করা কিংবা পোস্টার ঝুলাতে গেলেই সরকার দলীয় প্রার্থীর উসকানীমূলক নির্দেশনার ফলে তার উশৃঙ্খল কর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে অব্যাহত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এক্ষেত্রে সরকার দলীয় প্রার্থীর ভিডিও বক্তব্যের প্রমাণসহ তার অন্যান্য উসকানীমূলক, মানহানিকর বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রমের ব্যপারে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে আমার বিজ্ঞ আইনজীবি তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এতকিছুর পরও তাঁর এধরনের বিধি বহিঃর্ভূত কার্যক্রম থেকে তিনি ন্যূনতম বিরত থাকছেন না। ফলে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বুঝায় তার ছিটে-ফোটাও আমার নির্বাচনী এলাকায় নেই। তারপরও আমরা বসে নেই, বসে থাকবনা। জনগণকে সাথে নিয়ে এই বাধার পাহাড়কে অতিক্রম করব ইনশাআল্লাহ। ৩০ ডিসেম্বর আপনারা সকলে দলে দলে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে চলে আসবেন। আপনার ভোটের আমানত প্রয়োগ করার পাশাপাশি অন্যকে তার ভোট প্রদানের পরিবেশ তৈরিতে সহযোগীতা করবেন। সারাদিন ভোট কেন্দ্রে অটল অবিচল থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের মাধ্যমে নির্বাচনকে সফল করাই হবে আপনার নাগরিক দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, জনগণের ভাগ্য ও এলাকার উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের বরাদ্দের হিস্যা যেমন যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আদায় করে আনতে হবে, তেমনিভাবে মিরপুর-কাফরুলের উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও তার সুফল পেতে হবে। এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার। এই অধিকার আদায়ের জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও অধিকার আদায়ে সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।
তিনি বলেন, আজ নানা ধরনের হতাশা ও অবক্ষয়ের কারণে মাদকের মতো সর্বনাসের বিস্তার ঘটেছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সব ধরনের শিক্ষার মান কমেছে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা ও আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গার্মেন্টর্স কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী ভাই-বোনেরা পাচ্ছেনা তাদের ন্যায্য অধিকার, তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। দারিদ্র বিস্তৃত হচ্ছে গভীরভাবে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট খানা-খন্দকে ভরা। অবস্থা এমন যে মানুষ যেন স্বপ্ন দেখতেই ভুলে যাচ্ছে।
ডা. শফিক বলেন, এই ধরনের অবরুদ্ধ ও নৈরাশ্যের অবস্থা থেকে আমরা বের হয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগুতে চাই। এই অগ্রযাত্রায় পাশে পেতে চাই আপনাদের। ২০ দলীয় ঐক্যজোটসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে আমি আপনাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে চাই। এ লক্ষ্যে আমার ২১ দফা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আপনাদের সামনে সংক্ষিপ্ত রূপে তুলে ধরছি-
(এক) সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোর সাথে সমন্বয় করে সুষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রহণ ও এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিরপুর-কাফরুলকে একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করা এবং এলাকার প্রতিটি মহল্লার মানুষের আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ জীবনমান উন্নত করা।
(দুই) এলাকাবাসীর চলাচলকে নিরাপদ করতে এবং যানজটের কারণে কর্মঘন্টা নষ্ট হওয়া কমাতে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করা হবে।
(তিন) মিরপুর-কাফরুল এলাকার জনগণের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা। বেকার তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা ও ছোট বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা।
(চার) শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এলাকার উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করা। এ ক্ষেত্রে- (ক) যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ভবন নেই, সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ ও ভবন সম্প্রসারণ; (খ) আধুনিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু; (গ) সকল কওমী মাদরাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন এবং যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান; (ঘ) কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার কল্পে তথ্যপ্রযুক্তিসহ কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি এবং সব ধরণের শিক্ষকদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন; এবং (ঙ) গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃত্তি প্রকল্প চালু করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
(পাঁচ) স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে চিকিৎসার মান উন্নত ও সুলভ করা। সকলের জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, ফিজিওথেরাপী সেন্টার, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও ধাত্রী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন। এছাড়াও দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ।
(ছয়) মিরপুর-কাফরুলবাসীর স্বাস্থ্য সেবা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
(সাত) যুব সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের মাদকের ছোবল ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে তাদের নৈতিকতার উৎকর্ষতা সাধন, প্রতিভা বিকাশের জন্য ক্রীড়া সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, বিনোদন পার্ক এবং খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
(আট) নারী সমাজের উন্নয়নে নারী শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার উন্নয়ন। নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি, অধিকার আদায় ও নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
(নয়) শিক্ষা, চাকরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনে এই এলাকায় অবস্থানরত কর্মজীবী নারীদের জন্য আধুনিক কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ এবং কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার ও প্রি-স্কুল প্রতিষ্ঠা।
(দশ) শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, আত্ম ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও অসহায় শিশু-কিশোরদের জন্য কল্যানমূলক কর্মসূচি গ্রহণ। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যে শিশুখাদ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।
(এগার) দারিদ্র বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাসের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং দুঃস্থ মহিলা ভাতা বৃদ্ধিকরণ ও এসব কর্মসূচি যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে, প্রবীণ, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।
(বার) মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য ডিসকাউন্ট এবং বিশেষ সেবা সম্বলিত কার্ড প্রদান কর্মসূচি চালু।
(তের) দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গনতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার, সামাজিক ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন।
(চৌদ্দ) সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার- মুক্তিযুদ্ধের এ তিন মূলনীতির ভিত্তিতে ভয়, শঙ্কা, দূর্নীতি ও শোষণ মুক্ত সমৃদ্ধশালী কল্যাণমূখী সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন।
(পনের) গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংবাদপত্র ও মিডিয়া কর্মীদের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।
(ষোল) সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাসহ ন্যায্য অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা।
(সতের) কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরীর কর্মসূচি গ্রহণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মানের ব্যবস্থাসহ স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডাটাবেইজ তৈরী করে তাদের ব্যবসার উন্নয়নে কর্যে হাসানা প্রদানের মাধ্যমে সহযোগীতা প্রদান।
(আঠারো) গার্মেন্টসকর্মী, গৃহকর্মী, শ্রমিক, দিনমজুর ও কর্মজীবি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। বিশেষ করে গার্মেন্টস কর্মীসহ শ্রমিক অধ্যুষিত বস্তি এলাকার অস্বাস্থ্যকর জীবনের পরিবর্তে সরকারিভাবে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, শিক্ষার্থীদের পড়ার ঘর ও ইন্টারনেট সুবিধা সম্বলিত শ্রমিক নিবাস নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ।
(উনিশ) সন্ত্রাস, মাদক, অসামাজিক ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ।
(বিশ) মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় এবং কবরস্থান-শ্বশ্মান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান।
(একুশ) সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার আদায় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, সকলের সহযোগিতা ও সক্রিয় সমর্থন পেলে মিরপুর-কাফরুলবাসীর অধিকার আদায়সহ সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিসাধনের লক্ষ্যে ঘোষিত ২১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতির প্রধান চালিকা শক্তিই হচ্ছে তরুণ সমাজ। অথচ তোমরাই নিকট অতীতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছ। সরকার দলের মদদে হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনী দ্বারা হয়েছ নির্যাতিত, লাঞ্চিত ও অপমানিত। তোমরাই এদেশের ভবিষ্যৎ কা-ারী, তোমাদের হাতেই দেশকে তুলে দিতে চাই। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তোমাদের কর্মসূচি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন ও নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ন্যায় গোটা জাতিকে আন্দোলিত করেছে। তোমাদের এ আন্দোলন রাষ্ট্রের পরিগঠন ও পরিমার্জন করতে বিবেককে করেছে জাগ্রত। আমি বিশ্বাস করি তোমরাই ভোট ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিয়ে তোমাদের ভোটের আমানত প্রয়োগ করতে পারবে এবং জনগনের ভোট প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে ভোট কেন্দ্রে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, জনগণের অধিকার আদায় ও এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য চাই আপনাদের দোয়া-ভালোবাসা ও ভোটের মাধ্যমে সক্রিয় সমর্থন। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতির ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারী শক্তির হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার অধিকার তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আমাকে “ধানের শীষ” প্রতীকে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ