ঢাকা, শুক্রবার 28 December 2018, ১৪ পৌষ ১৪২৫, ২০ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কবিতা

কান

নয়ন আহমেদ

 

কাদা ও ধূলির নিষিক্ত গল্পে

কান্না ও হাসির ধানমুখো উপাখ্যানে

যুদ্ধ ও ঘৃণার উপত্যকা ডিঙিয়ে

প্রেম আর মমত্বের উদযাপনে

সহস্র কোটি কানকে নিয়োজিত রেখেছি।

দৃষ্টি ও দ্রষ্টব্যের ভেতরে কানকে গাছের মতো রুয়ে দিয়েছি। 

প্রকৃত শ্রবণকারী হবে।

 

মানুষেরা হৃদয়পুরের গল্প শুনতে পাবে।

 

 

আমার হৃদয়ে

আহসান হাবিব বুলবুল

 

কবিতার পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়ে

আমার হৃদয়ে,

কখনো আনন্দে কখনো বেদনায় ভাঙ্গে মন

ঝরাপাতার শব্দে অনুক্ষণ।

গানের সুরে সুরে ওঠে ঢেউ

আমার হৃদয়ে,

কখনো ভাসি ভালোবাসায় কখনো বিষাদে

নদীর পাড় ভাঙ্গার শব্দ নিরাদে।

 

ভোরের শিশির ঝরে ঝরে পড়ে

আমার হৃদয়ে,

কখনো শীতলতায় কখনো উষ্ণ পরশে

নির্ঘুম রাতের স্বপ্ন আবেশে।

 

মানুষের কোলাহলে জাগে সাড়া

আমার হৃদয়ে,

কখনো মমতায় কখনো গ্লানিতে 

ঝর্ণার নির্ঝর কান্নায় নিরব নিশিতে।

 

জীবনপাখি

হাসান নাজমুল

 

উদ্দেশ্যবিহীনভাবে জীবনপাখির ডানা ধরে

টেনে নিয়ে যায় কেউ; সম্পূর্ণ শূন্যকে 

অবরোধ করে ক্ষুদ্র ঘরে ফেরানো যায় না,

কেবলি বিভ্রান্ত হতে হয়!

অজান্তেই হারিয়ে যায় জীবনখেই,

শত খোঁজাখুঁজি করে উড়ে যাওয়া ঘুড়ির-

সুতো ধরে টানলেই আকাশে ধরায় মেঘ,

বহুবার নিয়ন্ত্রণহীন হতে হয়

আচমকা ফের ফিরে পায় গতি,

এভাবেই জীবনপাখির চলে যায় তাবৎ জীবন।

 

 

বরফ গন্ধ

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

 

ফুরুৎ ফুরুৎ ওড়ে যায় নদী

ছুঁড়ে দেয় বরফ গন্ধ বেসামাল

নদী ওড়ে যায় দুরন্ত দুরাকাশের বাঁকে

পিছনে জেগে থাকে মুক্ত এক মঞ্চ

ওই মহ্ছের পর দাঁড়িয়ে গান গায় নির্বোধ এক বালক।

ঝিমঝিম লোকালয়, ঝিম মারে সময় 

দরোজায় দরোজায় আলোর ঝংকার প্রবল 

বাতাসের ঠোঁটে ঠোঁটে গন্ধ সবুজ

নিভে যায় কেবল বাঁকা চাঁদ রাত্রির।

যে নদী ওড়ে যায় ফিরে নাতো আর

বালক শুধু জেগে থাকে। জেগে থাকে নির্বাস।

 

 

বিজয় শব্দটি

মালেক মল্লিক

 

বিজয়,

এই শব্দটি শোভা বর্ধনকারী 

কোন বাগানের ঝরে পড়া গোলাপ নয়।

 

সহ¯্র বা অযুত নয় 

ত্রিশ লক্ষ মানব শব্দ কোষের বিনিময়ে 

পাওয়া একটি ঋদ্ধ উচ্চারণ।

 

গদ্যময় শব্দের গাঁথুনিতে যেমন কবিতার জন্ম হয়

যেমন বন্যা প্লাবিত অঞ্চল জন্ম দেয় উর্বর পলিমাটির

দৃষ্টিহীন কুয়াশার দিন পেরিয়ে যেমন জন্ম নেয় 

ফাগুনের নরম রোদের ঘ্রাণ

চৈত্র দিনের দোজখের ওম পেরিয়ে যেমন সৃষ্টি হয়

চাতক বৃষ্টি

অমানিশা রাত পেরিয়ে যেমন জন্ম হয় জোছনা শোভিত রাত

আর হৃদয় পুড়ানো প্রেম যেমন জন্ম দেয় 

বাসর রাতের হরিৎ খোয়াব

তেমনি রক্ত নদী পেরিয়ে পেয়েছি ‘বিজয়’ শব্দটি।  

 

মুয়াজ্জিন

শফিকুল ইসলাম শফিক

 

কণ্ঠে আমার প্রতিনিয়ত

একটি ধ্বনিই প্রতিধ্বনি হোক,

এ দুটি চোখ পাহারায় রেখেছি 

সুরগুলো মিলায়ে খুঁজি নূরানী প্রেম।

 

যখন মসজিদের দিকে ধাবিত হয়

মু’মিনের সাড়াশব্দ শুনতে পাই,

ঈমানী রৌশনীতে সবল হতে চায় 

শাশ্বত নামাযের প্রভুর ডাকে।

 

অগ্র কাতারে যেতে মুসল্লির ব্যাকুলতা

মসজিদে এত কার প্রেমের আবাদ? 

ইসলামের রাহে ছুটে চলে মুসাফির 

হে প্রভু, আমাকেও আজাদ করে দিও।

 

প্রত্যাশার বীজ বুনেছে অন্তঃকরণে

কালেমার পতাকা সুদিন আনুক, 

অতিষ্ঠ পাপের দেরাজ ভেঙ্গে আসে

সাক্ষ্য দিচ্ছি ওরাই প্রকৃত মু’মিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ