ঢাকা, শুক্রবার 28 December 2018, ১৪ পৌষ ১৪২৫, ২০ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঝিমিয়ে পড়া সৈয়দপুরকে চাঙ্গা করলো হাতপাখা

সৈয়দপুর (নীলফামারী): সৈয়দপুরে হাতপাখার মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে : নীলফামারী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীতা আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ায় সৈয়দপুর উপজেলায় নির্বাচনী আমেজ অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। গেণ স্তিমিত পরিবেশটাকে আবারও চাঙ্গা করে তুলেছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী তথা হাতপাখার পক্ষে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া গণজোয়ার। গত ২৪ ডিসেম্বর আদালতের রায়ের খবর পাওয়ার পর থেকে সৈয়দপুর শহরের সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা ঝিমিয়ে পড়েছিল। অনেকের মন্তব্য ছিল এবার আর ভোট দিবেনা সৈয়দপুরের লোকজন। কিন্তু হঠাৎ করেই ২৫ ডিসেম্বর সকালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে শহরের প্রধান সড়কে একটি মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা গেণ ঝিমিয়ে পড়া পরিবেশটাকে আবারও সতেজ করে দিয়েছে। আবার জেগে উঠেছে সৈয়দপুরের সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা। নতুন করে মোড় নিয়েছে ভোটারদের হিসেবে নিকেশ। যে ভোটাররা গতকালও ভেবেছিল তাদের পছন্দের প্রার্থী না থাকায় তারা ভোট দিবেনা। তারাও এখন হাতপাখার প্রার্থীর প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করছেন। ইতোমধ্যেই রব উঠেছে বিএনপি’র প্রার্থীতা হারানো আমজাদ  হোসেনসরকার ও জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন বঞ্চিত আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী হাতপাখার প্রতি মৌন সমর্থন দিয়েছেন। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি এধরণের নির্দেশনাও এসেছে বলে কথা উঠেছে। 

উপজেলার সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি’র প্রার্থী সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো: আমজাদ  হোসেনসরকার ভোট করতে না পারলেও এখনও আমাদের পছন্দের প্রার্থী রয়েছেন তিনি হলেন হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম। 

এ ব্যাপারে শহিদুল ইসলাম জানান, আমার বাড়ি নীলফামারী-৪ আসনের কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। সে কারণে আমার নির্বাচনী কার্যক্রম মূলত: কিশোরগঞ্জ কেন্দ্রিক ছিল। কারণ সৈয়দপুরের মেয়র প্রার্থী থাকায় তার একটা নিজস্ব ইমেজের কারণে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কিন্তু তার প্রার্থীতা স্থগিত হওয়ায় সে হাওয়া এখন হাত পাখার প্রতি। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন সৈয়দপুরের ভোটারদের কাছে এসেছি। তাছাড়া জাপার প্রার্থী সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে একজন অনভিজ্ঞ ও সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় তার নিজস্ব ইমেজ যেমন নাই তেমনি তার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথেও নেই কোন সম্পৃক্ততা। এ কারণে তার প্রতি কিশোরগঞ্জ সহ সৈয়দপুরের ভোটারদের ভরসা কম। তাই তরুণ প্রজন্মের ও বিজ্ঞ ভোটাররাও এখন হাতপাখা নিয়ে ভাবছে। আমজাদ  হোসেনসরকার প্রার্থী থাকায় হিসেব নিকেশ ছিল কিশোরগঞ্জের ভোট তিন ভাগে ভাগ হবে। কিন্তু এখন সে ভোট মোটামুটি লাঙ্গল ও হাতপাখা সমভাবেই পাবে। সেক্ষেত্রে  সৈয়দপুরের ভোট যে প্রার্থীর পক্ষে যাবে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে বলতে পারি হাতপাখাতেই সৈয়দপুরবাসী বেশি ভরসা ও আস্থা রাখবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ