ঢাকা, শনিবার 29 December 2018, ১৫ পৌষ ১৪২৫, ২১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় কাউন্সিলর ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরী ও জেলায় পুলিশের অভিযানে কেসিসি কাউন্সিলর ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছেন। কেএমপি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মনিকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ। তাকে গত নবেম্বর মাসে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আড়ংঘাটা থানা পুলিশ কাজী এনামুল হক (৫৫) নামের স্থানীয় একজন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী থানা পুলিশের অভিযানে ৫৯ জন বিএনপি নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। 

এদের মধ্যে অন্যতম, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি ফজলে হালিম লিটন, খানজাহান আলী থানা বিএনপি’র সভাপতি মীর কায়ছেদ আলী, দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন তোতন, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি এইচ এম আবু সালেক, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাউজিং বাজার কমিটির সভাপতি খোদাবক্স কোরায়েসি কাল্লু, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আলম বাবু, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছা সেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সেলিম কাজী, মহানগর ছাত্র দলের সহ-সভাপতি মল্লিক জাহিদুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক শামীম আজাদ খান মিনু, জসিম উদ্দিন খাজা, ইঞ্জিনিয়ার শাহাবুদ্দিন সাবু, ১০ নং ওয়ার্ড যুবদলনেতা আব্দুস সালাম, সাবেক ছাত্র নেতা মাসুদ পারভেজ বাবু, সভাপতি দৌলতপুর থানা ছাত্র দলের সভাপতি মাইনুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সহ-প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নূর ইসলাম বাচ্চু, নগর যুবদলের সহ-সভাপতি সোলায়মান, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আলম বাবু, ছাত্রদলের আশরাফুল ইসলাম।

অপরদিকে খুলনা জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে বুধবার সকাল ৮টা থেকে গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মো. আনিচুর রহমান জানান, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টে ৬০জন ও মাদকসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এদিকে নগরীর আড়ংঘাটার গাইকুড় এলাকা থেকে কাজী ইনামুল হক (৬০) নামে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ‘ঢাকার কথা’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেন। ধানের শীষের প্রচার করেন এমন ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তাই নাশকতার সৃষ্টির আশঙ্কায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়ংঘাটা থানার ওসি। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা করেছেন।

জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সাংবাদিক ইনামুল হককে বৃহস্পতিবার সকালে গাইকুড় এলাকার পত্রিকা অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে ইনামুল হকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাকে থানায় আটক করে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে আড়ংঘাটা সাংবাদিকরাসহ সর্বস্তরে জানাজানি হলে পুলিশ আড়ংঘাটা থানা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে আদালতে প্রেরণ করে।

আড়ংঘাটা থানার ওসি রেজাউলি করিম জানান, কাজী ইনামুল হক কয়েকদিন পূর্বে আড়ংঘাটায় বিএনপি’র গণসংযোগে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল এবং তার কিছু ফুটেজ তাদের কাছে আছে। নাশকতার একটি মামলা সন্দেহজনক আসামি হিসেবে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ওসি জানান। তবে ওসি রেজাউল করিম রহস্যজনক কারণে দু’ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন সংবাদিকদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ