ঢাকা, শনিবার 29 December 2018, ১৫ পৌষ ১৪২৫, ২১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শেষ মুহূর্তে ধানের শীষের কৌশলী প্রচারণা

খুলনা : খুলনা-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীতে মেষ নির্বাচনী মিছিল বের করে

* ধানের শীষের পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লবের সম্ভাবনা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রচার মাইক ভাংচুর, ইজি বাইক চালক ও প্রচারককে ব্যাপক মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের থানা সড়ক সংলগ্ন ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের সামনে থেকে ধানের শীষের প্রচারণায় মাইককে আটক করে থানাতে নিয়ে যায়। প্রচারক ওয়াজেদ আলী ও ইজিবাইক চালক মামুন জানান, তারা ধানের শীষের প্রচারণা কালে পুলিশের এস আই আব্দুল হামিদ সহ ওসি তদন্ত তাদেরকে থানাতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদেরকে ব্যাপক মারপিট করে। পরে ইজি বাইকে থাকা প্রচার মাইক তারা ভাংচুর করে। এমনকি থানাতে প্রচার মাইক,হর্ণ,ব্যাটিসহ অন্যান্য প্রচার সরাঞ্জাম আটকে রাখে। বুধবার সন্থা পর্যন্ত থানা চত্ত্বরে ভাংচুরকৃত প্রচার মাইক দেখতে পাওয়া যায়। কয়েকজন সাংবাদিক সাথানে ভাংচুরকৃত প্রচার মাইকে ছবি তুলতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ ছবি তুলতে নিষেধ করে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উল্লেখ্য সাতক্ষীরা-২ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাদ্দীস আব্দুল খালেক কারাগার থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। এলাকাতে তার জনপ্রিয়তাও তুলনামুলক বেশি। ফলে তার নির্বাচনি প্রচার কাছে পুলিশ ও সরকার দলীয় সশ¯্র বাহিনী চরম ভাবে বাধা দিচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। এর আগেও তার ৫টি প্রচার মাইক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সাতক্ষীরাতে ধানের শীষের দুই প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আটকের পর এর নির্বাচনী কর্মী,পোলিং এজেন্টসহ ধানের শীর্ষের সক্রিয় নেতা কর্মীদের গ্রেফতার চলছে। দাড়ি টুপি দেখলেই জামায়াত মনে করে গণগ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। গোটা জেলাতে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে। ভোটারদেও মাঝে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছে সাতক্ষীরাতে কি পুলিশ যুদ্ধ ঘোষণা করলো।
সাতক্ষীরা ৪ শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ আংশিক আসনে ধানের শীর্ষের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কারাবন্দি জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী,কন্যা,বড় ছেলের শিশু পুত্র ও কন্যার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ । মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সাতক্ষীরা কারা ফটকের সামনে থেকে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে।
ধানের শীষের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে গাজী মঞ্জুরুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান, তার আম্মা মাকসুদা ইসলাম,তার শিশু পুত্র গাজী শামসুল আরেফিন,তার এক মাত্র বোন স্কুল শিক্ষিকা শারমিন ফেরদাউস ও বোনের স্কুল পড়–য়া মেয়ে নাইমা সুলতানা দোলাকে সাতক্ষীরা কারাফটকের সামনে থেকে ডিবিপুলিশ একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। কারাগারে থাকা তার পিতার সাথে সাক্ষাৎ শেষে ফিরে আসার সময় দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার দাবী তুলে নিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টা পর তার মায়ের মোবাইল থেকে জানানো হয় তারা সাতক্ষীরা ডিবিতে আসে। পরিবারের কোন সদস্য পেলে ডিবি পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেবে। পরে বিকেলে তাদের পরিবারের এক সদস্য ডিবিতে গেলে পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয় না। বিষয়টি তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাষক এসএম মোস্তফা কামালকে জানায়। তিনি জানান,অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলি আহমেদ হাসেমী জানান,তারা জেলগেট থেকে বের হয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র করছিল। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে গাজী নজরুল ইসলামকে তার শ্যামনগর সদরের বাসা থেকে আটক করে শ্যামনগর থানা পুলিশ।
এদিকে জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারী ,বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৮৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পযন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২২ জন, কলারোয়া থানা থেকে ১৫ জন, তালা থানা থেকে ৫ জন, কালিগঞ্জ থানা থেকে ১০ জন, শ্যামনগর থানা থেকে ৮ জন, আশাশুনি থানা থেকে ১১ জন, দেবহাটা থানা থেকে ৭ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩ আসনের ধানের শীর্ষের প্রার্থী ডা.শহিদুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কোন ওয়ারেন্ট বা পেন্ডিং মামলা না থাকা সত্ত্বেও আমার নির্বাচনী এলাকা দেবহাটা উপজেলার বেজরআটি গ্রামের কওছার আলী মোড়লের ছেলে কবির হোসেন (৩৮) ও আশাশুনি সদর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ সরদারের ছেলে মোঃ রুহুল আমিন (৫২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাছাড়া আমার সাথে নির্বাচনী প্রচার কার্যে অংশ নেয়া নেতৃবৃন্দের বাড়ী বাড়ী পুলিশ হানা দিয়ে তল্লাশী চালাচ্ছে এবং হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
দুপুর ২টায় কালিগঞ্জ থানার চম্পাফুল ইউনিয়নের বারদহা বাজারে আমার নেতা কর্মীরা পোষ্টার লাগাতে থাকলে ওই এলাকার আরশাদ আলী সরদারের ছেলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ ও কালিগঞ্জ থানার এসআই মুরাদ এর নেতৃত্বে বিএনপির কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর চালায় এবং গ্রেফতারের হুমকি দেয়। এসআই মুরাদ নিজে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ধানের শীষের সকল পোষ্টার ছিড়ে ফেলে।
এছাড়া আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে দুপুর বেলা আমাদের কর্মীরা পোষ্টার লাগাতে থাকলে আশাশুনি থানার এসআই মঞ্জুরুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বাজারে ধানের শীষের সমস্ত পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং কর্মীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দেয়। আশাশুনি থানার শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা বাজারে আমার নেতা কর্মীরা পোষ্টার লাগাতে থাকলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমীর জোয়ার্দ্দার ও তার ছেলে পলাশ, ছহিলদ্দীনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, রামপদনের ছেলে দিবাকর মেম্বর, অবুল কাশেমের ছেলে ইব্রাহিম, মদন কুমার সহার ছেলে বাপীসহ আরও আনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে আমার নেতা কর্মীদের বাধা দেয় এবং জীবন নাশের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। তারা এসময় বিএনপি কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। আশাশুনির দরগাহপুর গ্রামে স্থানীয় আ’লীগ দলীয় চেয়ারম্যান মিয়ারাজ আলীর নেতৃত্বে ইউপি সদস্য মনিরুল ও দরগাহপুরের ওয়াজেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম দরগাহপুর বাজারে ধানের শীষ প্রতীকের সমস্ত পোষ্টার ছিড়ে ফেলে এবং কাউকে ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট না হওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দেয়। মোট কথা সাতক্ষীরা-৩ আসনের সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারাভিযানে চরম বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরা সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রচার করার সময় আ.লীগের প্রার্থীর নেতা কর্মীরা প্রচারের মাইক আটকিয়ে রেখে প্রচার না করার হুমকী দেয় । এ সময় ধনের র্শীষের লিফলেট কেড়ে নিয়ে নেয়। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বৈকারী ,আগরদাড়ী,ধুলিহর সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র মহড়া দেখায় ।এসময় নৌকায় ভোট না দিলে ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা ৪ আসনে পুলিশ নুরনগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোবারক হোসেনকে গ্রেফতার করে। কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদল সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালামসহ বিএনপির পাঁচ নেতার বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে লুটপাটের অভিযোগ করেছে আনোয়ার হোসেন এবং আব্দুস সালাম। তাদের দাবি সোমবার রাতে ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল্লাহর নেতৃত্বে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলায় অংশ নেয়া লোকজন তাদের বাড়িতে লুটপাট চালায় বলেও তারা অভিযোগ করেন। সানাউল্লাহর নেতৃত্বে হামলাকারীদের তান্ডবে হাত ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। সেনা বাহিনী নামার সাথে ধানের শীষের বেশ কিছু স্থানে টানালেও সরকার দলীয় ক্যাডাররা ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলেছে।
সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব নিজের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাদের দলীয়করণের উর্দ্ধে থেকে পুনরায় তাদের নিয়োগের দাবীতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। গত কাল রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের কাছে এ ব্যাপারে আলাদা দুটি লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
কলারোয়ায় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মারপিট ঘর বাড়ি ভাঙ্গচুর নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে ৩ সাংবাদিকসহ ১৬জনকে পিটিয়ে হাতপা ভেঙ্গে গুরুতর জখম এবং ১২ ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়েছে। ফলে হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মারপিট করে আতংক সৃষ্টির মাধ্যমে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি হ্রাসে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদরে ইবিএম এ ভোট গ্রহণের কারণে অনেটা চিন্তিত হয়ে পড়েছে নৌকার প্রার্থী। তাই ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের কোন ভোটার যেন যেতে না পারে তার জন্য জেলা ব্যাপি দলীয়কর্মী ও পুলিশ দিয়ে পাহারা বসিয়েছে। ধানের শীষের কোন ভোটার যেন ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে। সাতক্ষীরার পরিবেশ ভাষা দিয়ে লিখে পাঠকদেরও বোঝানো সম্ভব নেই। এমনকি সাংবাদিকরাও রয়েছে কঠিন চাপের মুখে।
বাগমারা (রাজশাহী)
সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় নির্বাচনকে ঘিরে আইন শৃংখলাবাহিনীর আটক ও মামলা অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে শতাধিক জনকে বিভিন্ন কারণে আটক করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক-শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ভাবে চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের একের পর এক আটকে ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুলিশের অব্যাহত আটকের ঘটনায় বড় বিহানালী ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা শরিফুল ইসলাম, তাহেরপুর পৌর বিএনপি’ নেতা আরিফুল ইসলাম। হামিরকুৎসা ইউনিয়নে নির্বাচনের প্রচারে উভয় দলের এছাড়া গত মঙ্গলবার বিএনপি’র প্রার্থী আবু হেনার পক্ষে মোটর সাইকেল নিয়ে প্রচারণা মিছিলের সময় পুলিশ ১১জনকে আটক করেছে। একই ভাবে শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বানাইপুর গ্রামের বিএনপি’র কর্মী আব্দুল জব্বার (৪৮) ও তাহেরপুর পৌরসভার খয়রা মহল্লার খোরশেদ আলম (৩৫) কে আটক করা হয়। এছাড়া ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকের পরিচালক বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডাক্তার আব্দুল বারী (৫৩) কে ঝিকরা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, দেউলা গ্রাম থেকে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম (৬০) ও শ্রীপুর ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি আমজাদ হোসেন (৪৮), গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান, হাটগাঙ্গোপাড়া কারিগরী কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম (৫২), উত্তর কোয়ালীপাড়া গ্রামের জান বক্্র (৪৫), কোনাবাড়িয়া গ্রামের ইয়াকুব আলী (৪৬) ও হাটগাঙ্গোপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান (৪৭)সহ ২০/২৫ জনকে পুলিশ আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের পরিবারের অধিকাংশদের দাবি তাদের বিরুদ্ধে থানায় কখনই মামলা ছিল না। পুলিশ মিথ্যা গায়েবী মামলা দিয়ে তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করছে।
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, আটককৃত বড় বিহানালী ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা শরিফুল ইসলাম ও তাহেরপুর পৌর বিএনপি’ নেতা আরিফুল ইসলাম গত ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কেন্দ্রীক আ’লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার মামলার আসামী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতা ঘটাতে পারে এমন আশংকায় অধিকাংশদের আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কাপাসিয়া (গাজীপুর)
সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৪ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির হিমু।
থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নাশেরা গ্রামের সুপার মার্কেট সংলগ্ন সড়কে ১০/১২ জন দুস্কৃতিকারী অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ককটেল ফাটিয়ে টানানো নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশ ২২ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ওলামা দল ও শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের মৃত: বারেকের পুত্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ (৬৪), বিএনপি নেতা খিরাটি গ্রামের সুরুজ আলীর পুত্র মুকুল মিয়া (৫৫), তরগাঁও গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের পুত্র স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ ইব্রাহিম খলিল (৪০), কড়িহাতা ইউনিয়নের চর খামের গ্রামের মৃত: আঃ ছাত্তারের পুত্র বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম (৪৮), তরগাঁওয়ের নবীপুর গ্রামের খালেক মুন্সির পুত্র বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন (৬৩), কড়িহাতা ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের জহর আলী মাঝির পুত্র হালিম উদ্দিন মাঝি (৪৫), রাউৎকোনা গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র শ্রমিকদল নেতা ওমর ফারুক চাঁন মিয়া (৪০), আড়ালিয়া গ্রামের মৃত: চাঁন্দে আলীর পুত্র ঔষধ ব্যবসায়ী যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন খোকা (৪০), ডুমদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম কেরামতের পুত্র ছাত্রদল নেতা হাছান মিয়া (২২), কাশেরা গ্রামের মৃত: আলাউদ্দিনের পুত্র বিএনপি নেতা জামশেদ আলী বাচ্চু (৪৯), মৈশন গ্রামের মৃত: বনি আমিনের পুত্র মুকছুদুল আমান অনি (২৪), সরসপুর গ্রামের কামরুজ্জামানের পুত্র নাজমূল ইসলাম হৃদয় (১৮), সরসপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর পুত্র বিএনপি নেতা মাসুদ ব্যাপারী (৩৫), চাঁদপুর ইউনিয়নের কাজাহাজি গ্রামের মৃত ইসমাইল মোড়লের পুত্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোড়ল (৩৯), মৈশাধামনা গ্রামের মৃত: আব্দুল হেকিম মোড়লের পুত্র মোঃ ফরিদ মিয়া (৪৮), মৈশাধামনা গ্রামের মৃত: আবু সাঈদ মোড়লের পুত্র মোঃ সারফুদ্দিন মোড়ল (৩৩), বিএনপি নেতা বানার হাওলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মালুর পুত্র মোজ্জাম্মেল হক রিপন (৩৬), ভিটিপাড়া গ্রামের মৃত রহমত আলীর পুত্র ওলামা দল নেতা মোঃ ফাইজ উদ্দিন (৬০), মৈশাধামনা গ্রামের মোঃ মোতালেব খানের পুত্র মাসুদ খান (৩৪), তরুন গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র মোঃ নুরুল ইসলাম (৬০), পেওরাইট গ্রামের সামসুদ্দিনের পুত্র মোঃ আরজু মিয়া (৪৭), সোহাগপুর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র হাদিউল ইসলাম (৩৫)। গ্রেফতারকৃতদের নিয়মিত ও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অধিকাংশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
সংবাদাতা : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিএনপি’র দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও হাটপাড়া দ্বিমুখী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। পীরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ জানান, তাদের নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ
সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর সদরে বীরনোয়াকান্দি গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর অব. আখতারুজ্জামানের উঠান বৈঠকে হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপির-জামাতের ১৬৪ জ্ঞাত এবং ২শ-৩শ জন অজ্ঞাত নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে এসল্ট মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় মেজর আখতার ও কটিয়াদী থানার পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর অব. আখতারুজ্জামান জানান সোমবার সন্ধার পর কটিয়াদী পৌর এলাকার বীর নোয়াকান্দি গ্রামে নির্বাচনী উঠান বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পুলিশ অতর্কিত ভাবে আমিসহ নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে আমি আহত এবং রক্তাক্ত হই। আমার চোখের সামনে আমার ছেলে রনিকে পিটিয়ে আহত করে গুম করে ফেলতে চেয়েছিল। আওয়ামীলীগের লোকজন আমার সমাবেশে হামলা করেনি। পুলিশ হামলা চালিয়ে সভা বানচাল, আমাদেরকে পিটিয়ে আহত ও বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে। আমাদের কর্মী দ্বারা পুলিশের ৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও ৫ পুলিশকে আহত করার নাটক সাজিয়ে আমার নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার রাতে বীরনোয়াকান্দি গ্রামে আওয়ামী লীগ বিএনপির সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষের সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং তার কর্মীদেরকে পুলিশের উপর হামলা করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ১৬৪ জন জ্ঞাত এবং ২শ-৩শ জন অজ্ঞাত লোকের বিরুদ্ধে এসল্ট মামলা দায়ের করা হয় । বুধবার আট জনকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাপাহার (নওগাঁ)
সংবাদদাতা : নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসনে বিএনপি ও ২০ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী, নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তাদের নির্বাচনে বাধা দেওয়ায় নিয়ামতপুর থানার সামনে ১৫ মিনিট অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক এবং অবস্থান কর্মসূচীর আগে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের নিমদীঘি থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ।
জানাগেছে আটককৃতরা হলেন ভাবিচা গ্রামের মৃতঃ মানিকুল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২), একই গ্রামের মৃত হজরত আলীর পুত্র জালাল উদ্দিন,তিলিহারী গ্রামের শের মোহাম্মদের পুত্র শামসুল আলম পচা (২৭), চকসিতা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র রিয়াদ হোসাইন বিদ্যুৎ (২৩), নিমদিঘী গ্রামের একরামূলের পুত্র জিয়াউল হক জিয়া (৩৩), ও শফিকুল ইসলাম (৪২)।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা স্বাধীন ভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছি না। আমাদের পোষ্টার লাগানো, মাইকিং এ বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় আমাদের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে যাতে আমরা নির্বাচনী প্রচার চালাতে না পারি। সেজন্যই নিরূপায় হয়ে আজ বেলা সাড়ে সাড়ে ১১টায় নিয়ামতপুর থানার সামনে ১৫ মিনিট অবস্থান কর্মসূচী পালন করি। সেখানেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তাহলে আমরা যাবো কোথায়? আপনারা সাধারণ জনগণ বিচার করবেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তোরিকুল ইসলাম গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা প্রত্যেকে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার
সংবাদদাতা : মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মী গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মৌলভীবাজার-২ আসনে(কুলাউড়া) নির্বাচনী এলাকার ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জয়নুল ইসলাম জুনেদ, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, কুলাউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন চৌধুরী, মিনার মহলের জাবেদ,ছকাপন নিবাসী যুবদল নেতা আব্দুল লতিফ, টিকরার মহব্বত খান, রাউৎগাঁওয়ের মহিত ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও ভাটেরা ও কুলাউড়া ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে ৩০/৩৫ জনকে আটক করেছে। এখন কুলাউড়ার জনপদে পুলিশি আতংক বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের নিশ্চিত বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কুলাউড়ার চৌধুরীবাজারে প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয় এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারও করে। মঙ্গলবার প্রার্থীর কুলাউড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুরের পথসভার মঞ্চ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভেঙ্গে ফেলার পর পুলিশ আক্রমণ চালায়। ওখান থেকে পুলিশ বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য আলম, যুবদল নেতা রাহেল, সাকির, লিয়াকতকে গ্রেফতার করে। এর পূর্বে পুলিশ পৃথিমপাশায় বিএনপি নেতা ইনতাজ আহমদ কুটি, মো. অহিদ, করের গ্রামের চেরাগ আলীসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। উপজেলা বিএনপির পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এই এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা সকল এই গণপ্রেফতারে নিন্দা এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানান। এবং হামলা মামলার ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানান করেন।
বোদা (পঞ্চগড়)
সংবাদদাতা: পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর মৌলানা আব্দুল খালেককে আটক করেছে পঞ্চগড় থানা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নাশকতার আশংকায় তাকে আটক করে বলে জানা যায়।
সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ)
নিরাপত্তার সাথে নিজ বাড়িতে অবস্থান ও নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে অবাধ প্রচারণায় সুযোগ নেই। ২০ দলিয় জোটের নেতা কর্মী সর্মথকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ত্রকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোন ওয়ারেন্ট না থাকা সত্ত্বেও প্রতি দিন ২০ দলিয় নেতাকর্মীসর্মথকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করে সলঙ্গা উত্তর কালিকাপুর গ্রামের বিত্রনপি নেতা আব্দুল মালেক মেম্বর, তাড়াশ ঝুরঝুরি গ্রামের জামায়াত সন্দেহ সাইফুল ইসলাম, ধুবিল ইউপি ঝাউল গ্রামের বিত্রনপি নেতা ইলিয়াস মেম্বর। এ নিয়ে সলঙ্গাতে গত ৮ দিনে ত্রকই কায়দায় মোট ৫০ জনের মত গ্রেফতার করা হয়। ত্ররা সবাই বিত্রনপি - জামায়াতের কর্মী সমর্থক। পুলিশ ত্রদের বিভিন্ন গায়েবি মামলায় গ্রেফতার দেখায়। সলঙ্গা থানা পুলিশ ত্রদেরকে ২৫ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ত্রছাড়া পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রায়গঞ্জ, তাড়াশ,সলঙ্গা আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের আশপাশের প্রভাবশালী ও সাধারণ ধানের শীষ নেতা কর্মী- সর্মথকদের বেছে বেছে পুলিশের ত্রই গ্রেপ্তার ও ২০ দলীয় নেতা কর্মী ও সর্মথকদের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে। বিত্রনপি সূত্রে আরো জানা যায়, সেনাবাহিনী নামায় সধারণ ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও পুলিশের গ্রেফতার আতংকে ও আওয়ামীলীগের সস্ত্রীদের ভয়ে ২০ দলীয় নেতা কর্মীরা রাতে বাড়ি ছাড়া। তারা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে প্রচার প্রচরণা চালাতে পারছেনা।ধানের শীষে প্রচারণায় বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না ২০ দলীয় নেতা কর্মীরা। তারা আরো বলেন সলঙ্গার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সলঙ্গা বাজার, মালতিনগর বাজার, ধুবিল বাজার, দবিরগঞ্জ বাজার, কেশনাদিঘি বাজার, নিমগাছি বাজার, তাড়াশ বাজার গুল্টা বাজার বোসতুল বাজার, বিনশাড়া বাজার আমশড়া বাজারসহ আরো বিভিন্ন বাজারে ধানেরশীষের পোস্টার ছিঁড়ে তা আগুন দিয়েছে বলে জানা যায়। আওয়ামীলিগ নিজেরা নাশকতা চালিয়ে তার দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ২০ দলীয় মনোনিত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার হীন উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে ধানে শীষের নেতা - কর্মীদের কেন্দ্র ভিত্তিক গ্রেফার ও ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা শত হামলা মামলা সত্ত্বেও যখন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন,ত্রমনকি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জনগণ তখন ধানের শীষের নেতা- কর্মীদের উপর হামলা - মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের ভোট কারচুপির পরিকল্পনায় বাধা হতে পারে এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নেরই কাজ করছে পুলিশ।
নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে এহেন কাজ থেকে বিরত থাকতে নিরপেক্ষ থাকার আহবান জানান।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
কালিহাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদকে আটক আটক করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ। ২৬ ডিসেম্বর বুধবার ভোরে উপজেলার সহদেবপুর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন জানান, রতনগঞ্জ বাজারে নৌকার নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম,সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা অমিত দেব নাথ ও নির্বাচনি তদন্ত কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। 
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলার রামগড়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে পুলিশসহ দুপক্ষে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে। বুধবার(২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সভা প- হয়ে যায়। এসময় পুলিশ পরিস্থতি সামাল দিতে দুই রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এদিকে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ভুইয়ার পক্ষে তাঁর চাচা সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শহরের প্রধান সড়কে নির্বাচনী মিছিল বের করে। দুপুরে মিছিলটি উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস সংলগ্ন বাস স্টেশনে শেষ করে সেখানে পথসভায় সমবেত হয়। এসময় পুলিশের বেষ্টনীতে থাকা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিস প্রাঙ্গনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে শ্লোগান দেয়। অদূরে সমবেত বিএনপির নেতাকর্মীরাও শ্লোগান শুরু করে।
এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ দুপক্ষকে সামাল দিতে দুই রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পরে বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ঘটনায় দুজন পুলিশসহ আওয়ামী লীগ বিএনপির কমপক্ষে ২৫জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বাস চালক আব্দুল কাদের(৩৫) ও মো. সেলিম (২৮)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহত কাদেরকে চ্ট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাইবান্ধা
নাশকতার অভিযোগে গাইবান্ধায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বাবু ও বাদিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রহমান সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে গাইবান্ধা শহর এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেন বাবু এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকা থেকে গোলাম রহমান সুমনকে আটক করা হয়।
মোশাররফ হোসেন বাবু সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামের মমতাজ হকের ছেলে এবং গোলাম রহমান সুমন বাদিয়াখালী ইউপির রিফায়েতপুর গ্রামের গোলাম ওয়াদুদ বাচ্চুর ছেলে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার ঘটনান সত্যতা জানিয়ে বলেন, আটককৃত দুই বিএনপি নেতা একাধিক নাশকতা মামলার আসামি।
কেশবপুর (যশোর)
যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকায় গত ২ দিনে বিএনপির দুটি প্রচার মাইকে হামলা চালিয়ে হর্ণ, মাইক সেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিচার দাবি করেও না পেয়ে অবশেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মাইকের ভাঙাচুরা যন্ত্রাংশ রেখে প্রতিবাদ জানানো হয়।
জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলাব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে একের পর এক প্রচার মাইক ভাঙচুর করে আসছে।
এ সময় কেশবপুর থানার ওসির দেখভালের কারণে বেশ কিছুদিন তা বন্ধ থাকে। গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার ভালুকর বাজারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা শুরু করলে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে প্রচারের গাড়িতে হামলা চালিয়ে মাইক সেট, হর্ণ ও ব্যাটারী ভাঙচুর করা হয়।
গত বুধবার বিকেলেও অনুরূপভাবে শহরের সাদেক অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে আরও একটি প্রচার মাইকে হামলা চালিয়ে ২টি হর্ণ, মাইক সেট, সিম ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। প্রচার মাইকের এসব ভাঙাচুরা যন্ত্রাংশ বিএনপি অফিসের সামনে রেখে নীরব প্রতিবাদ জানানো হয়।
পাবনা
জিয়া পরিষদের পাবনা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক সিদ্দিকুল ইসলাম ফরিদ(৪০)কে গত ২৫ শে ডিসেম্বর  ধানের শীষের নির্বাচনী কাজ শেষে সন্ধা ৭টার দিকে, আাতাইকুলা থানার শ্রীকোল বাজার হতে দুবলিয়া গ্রামে নিজ বাসায় মোটর সাইকেলযোগে ফেরার পথে শ্রীকোল ব্রীজ পার হয়ে মধ্য পাড়া সড়কের সংযোগ স্থলে পৌছলে চিহিৃত সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে টাঙী, হাসুয়া ও ডেগার দিয়ে ফরিদকে এলোপাথারি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় । তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সান্ত্রাসীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্বার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতলে ভর্তি করা হয় । তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তিব্র নিন্দা,প্রতিবাদও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ।
উক্ত ন্যক্কারজনক ঘটনার তিব্র নিন্দা,প্রতিবাদ ও দোষীদের খুজে বের করে শাস্তি দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বোদা (পঞ্চগড়)
বোদায় পৌর জামায়াতের আমীরসহ ১০ নেতা কর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় পৌর আমীর রেজাউল করিম কে তার শিমুলতলী নিজ বাড়ী থেকে আটক করে। এছাড়া বোদা ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম,বড়শশি ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম, স্বপন, দুলাল, ময়দানদিঘী ইউনিয়নের মানিক. মজিদ, রজব আলী, ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন ও নুরুল ইসলাম। এদের বিরুদ্ধে বোদা থানায় মামলা আছে বলে জানা যায়। অপরদিকে আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নেন্দকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঘর পোড়া মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, বিএনপি ও যুবদলের নেতাসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার পশ্চিম বাগধা গ্রামের প্রবাসী নুর মোহম্মদ মিয়ার ঘর পুড়িয়ে দেয় দুস্কৃতিকারীরা। নুর মোহম্মদের স্ত্রী সান্তনা বেগমের ২২ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা (উঃ) বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গৈলা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লাল্টু (৫৮), সুজনকাঠী গ্রামের সুরেন্দ্র নাথ বেপারীর ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক বেপারী (৫০), বাগদা গ্রামের আজাহার ভাট্টির ছেলে ইউসুফ ভাট্টি (৩০) ও রাজিহার গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম সরদার (২৭)কে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের গত বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ