ঢাকা, শনিবার 29 December 2018, ১৫ পৌষ ১৪২৫, ২১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে লড়াই হবে ধানের শীষ নৌকা আর লাঙ্গলে

শামছুল আলম সেলিম (কিশোরগঞ্জ) : কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ১৭ জন পুরুষ ভোটার এবং ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৪১০ জন মহিলা ভোটার। ৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩৫টি। এই ৮৩৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১৭৭টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জের ৬টি নির্বাচনী আসনে এবার লড়াই হবে ধানের শীষ, নৌকা  আর লাঙ্গলে। এর মধ্যে ৫টি আসনে সরসরি লড়াই হচ্ছে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থীদের সাথে। আর একটি আসনে লড়াই হচ্ছে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি আর ধানের শীষ প্রতীকে জেএসডি প্রার্থীর সাথে। 
 কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোগেণপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন পুরুষ ভোটার এবং ২ লাখ ১৩ হাজার ১০১ জন মহিলা ভোটার।
এ আসনে এবার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছেন জনপ্রশাগণ মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিএনপি থেকে প্রথমবার নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু। এখানে দুই দলের শক্তিই প্রায় সমানে সমান।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী  বড় দল বিএনপি। দলটির প্রার্থী সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নুকে ঘিরে আসনটি দখলে নিতে নেতা কর্মীরা একাট্টা। এখানে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। প্রতিদ্বন্দ¦ী প্রার্থী  গুরুতর অসুস্থ, মাঠে নেই। এজন্য নির্বাচন সুষ্ঠু হলে  বিএনপির নেতা কর্মীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
আবার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও আশাবাদী এবার ভোটে বিজয়ী হয়ে এই আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তবে এখানে সিপিবি, জেএসডি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪২০ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬ হাজার ৩৯৫ জন পুরুষ ভোটার এবং ২ লাখ ১১ হাজার ২৫ জন মহিলা ভোটার।
 এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে। তার বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে সাবেক দু’বারের এমপি মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে। দু’জনই এলাকায় বেশ জনপ্রিয় মুখ। এই আসনেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলই বেশ শক্তিশালী। বিএনপি প্রার্থী ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও ব্যাপক প্রচারে ব্যস্ত। তবে আওয়ামী লীগের  পাকুন্দিয়া এলাকায় বড় ধরনের বিভক্তি থাকলেও অধিকাংশ নেতা কর্মীরা নৌকার জন্য কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে তারাও ভীষণ আশাবাদী।
এখানে সিপিবি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, এনপিপি এবং ইসলামী আন্দোলন বংলাদেশও প্রার্থী দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮৩ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ২২৬ জন মহিলা ভোটার।
মহাজোটের কারণে আওয়ামী লীগ  জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে এখানে বিএনপি ধানের শীষ তুলে দেয় জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টভুক্ত জেএসডি প্রার্থী ড. সাইফুল ইসলামের হাতে।  স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এখানে সিপিবি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাসদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী দিয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার আছেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২০ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ২১০ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬ জন মহিলা ভোটার।
এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
হাওরের এই আসনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদেরই ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এখন সংসদে হাওরের জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন।
অবশ্য ফজলুর রহমানও এলাকায় একজন জনপ্রিয় এবং পরিচিত মুখ। এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করে একটি শক্ত অবস্থান  তৈরি করে নিয়েছেন।
এখানে খেলাফত মজলিশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫১৭ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জন মহিলা ভোটার।
এ আসনে এবার নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন গত দু’বারের এমপি আফজাল হোগেণ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের।
এই আসনটি ১৯৭৫ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের হাতছাড়া ছিল। ২০০৮ সালের ৯ম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আসনটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের হাতে নিয়ে আসেন আফজাল হোসেন। এবার ও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
এখানে  মুজিবুর রহমান ইকবাল নেতাকর্মীদের সম্মিলিত শক্তি  কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে পেয়ে সকলে উজ্জীবিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী।
এখানে এবার সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জেএসডি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টিও প্রার্থী দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৬ (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩১ জন মহিলা ভোটার।
এ আসনে এবার নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন  বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।  কথাবার্তায় কৌশলী এবং মার্জিত মানুষ হিসেবে তার একটি সুখ্যাতি রয়েছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি মো. শরীফুল আলম। তিনি একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নির্বাচনী এলাকায় রেললাইনের ফিসপ্লেট তুলে ফেলা এবং অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। বর্তমানে দিনদিন তিনি ভোটের মাঠে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী।
এখানে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশও প্রার্থী দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীর এখন অপেক্ষা ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের দিনের ফলাফলের জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ