ঢাকা, রোববার 30 December 2018, ১৬ পৌষ ১৪২৫, ২২ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আজ সংসদ নির্বাচন

দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষার পর ভোটাররা আজ সকাল থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবেন। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে দেশবাসী যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা কারুর কাম্য ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাও ঘটেছে। রক্ত ঝরেছে। কয়েকজনের জীবনহানি পর্যন্ত ঘটেছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। মামলা-হামলার শিকারতো হয়েছেনই। খোদ প্রার্থীরাও রেহাই পাননি। চোর-ডাকাতের মতো অনেক প্রার্থীকে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত তাঁদের মুক্তি দেয়া হয়নি। এরচেয়ে একজন প্রার্থীর জন্য কষ্টের আর কী হতে পারে? তবে সান্ত¡নার কথা হচ্ছে যে, অতীতেও কোনও কোনও প্রার্থী জেলে থেকেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হলে এবারও জেলে আটক থেকেও নির্বাচিত হবেন কেউ কেউ।
ভোটারদের যতই ভয়-ভীতি দেখানো হোক, বিভ্রান্ত করবার চেষ্টা করা হোক, নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে পারলে তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে মোটেও ভুল করবেন না। এদেশের মানুষকে যতই গোবেচারা ভাবা হোক না কেন, সময়তো তাঁরা নির্ভুল সিদ্ধান্ত  নিতে পিছপা হোন না। সত্তুরের নির্বাচনে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায় করতেও জনগণ পেছনে থাকেননি। এরপর ২০০৮ সালেও তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। এমনকি ২০১৪ এর পাতানো নির্বাচনে অংশ না নিয়েও জনগণ কোনও ভুল করেননি।
উল্লেখ্য, ৩০০ সংসদীয় আসনের ১টিতে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেটির নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। তাই ২৯৯ আসনে আজ নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯৩ টিতে ব্যালটপেপারে সিল মেরে এবং ৬টিতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ক্লিক করে ভোট দিতে হবে। নির্বাচনে মোটামুটিভাবে দেশের সবকূটি রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করছে। এমনকি সবরকম বাধা অতিক্রম করে ২০ দলীয় জোটে থেকে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নিবন্ধনহীন হয়েও প্রায় বিপর্যস্ত জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে রয়েছে। যদিও সরকার দলীয় লোকজন এবং পুলিশের মারমুখো অবস্থানে দলটিকে নির্বাচনের মাঠেই দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতো জামায়াতেরও হাজার হাজার নেতা-কর্মী এবং প্রার্থী এখনও অন্যায়ভাবে জেলখানায় আটক আছেন। এমতাবস্থায় তাঁদের পক্ষে নির্বাচনে টিকে থাকা কতটা দুঃসাধ্য তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। যাই হোক, নির্বাচনটা হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে বড়কথা। ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে, নির্বিঘেœ এবং নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পারবেন এটাই সবার প্রত্যাশা এবং গণতন্ত্রের দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ