ঢাকা, বুধবার 20 February 2019, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিজেপি সম্পর্কে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে: আহমেদ প্যাটেল

আহমেদ প্যাটেল এমপি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আহমেদ প্যাটেল এমপি বলেছেন, বিজেপি সম্পর্কে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে তারা ক্ষমতা হারাতে চলেছে। গতকাল (শনিবার) বিজেপিশাসিত গুজরাটের সবরকান্ঠা জেলার হিম্মৎনগরে এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।  

তিনি বলেন, ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হয়েছে বিজেপি সম্পর্কে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে আহমেদ প্যাটেল বলেন, ‘যখন আপনি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, মিথ্যে ছড়িয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন আপনি ভাবতেও পারেননি যে মাত্র চার বছরের মধ্যেই অজনপ্রিয় হয়ে যাবেন। বিজেপি সম্পর্কে লোকেদের এবার মোহভঙ্গ হয়েছে। এজন্য কংগ্রেস তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।’  

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন আপনি মনে করেছিলেন, আপনি সবসময় শাসন ক্ষমতায় থাকবেন। এটা আপনার অহংকার ছিল। আপনি বোঝেননি যে, জনতা আপনাকে যদি ক্ষমতায় আনতে পারে তাহলে তারা আপনাকে ক্ষমতা থেকে বের করে দিতেও পারে।’

আহমেদ প্যাটেল বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে আপনার ক্ষমতা ছাড়ার সময় এসে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘নেহেরু জ্যাকেট’ পরলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মতো নেতা হতে পারবেন না। বিদেশ সফর করে আপনি ইন্দিরা গান্ধীও (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) হতে পারবেন না। আপনি জ্যাকেট ও কুর্তা পরিধান করে রাজীব গান্ধীও (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) হতে পারবেন না। এ সকল নেতাদের কাতারে শামিল হতে গেলে আপনাকে ওদের মতো ত্যাগ স্বীকার করা প্রয়োজন। আপনার মধ্যে কী এরকম করার সাহস আছে?’

কংগ্রেস নেতাদের অবদানকে অস্বীকার করতে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন বলেও আহমেদ প্যাটেল বলেন।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়য়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘নেহরু একটা ‘লিগ্যাসি’ একটা ইতিহাস। জওহরলাল নেহরু না থাকলে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি হয়ত বহুদিন আগেই ক্ষমতা দখল করে নিতে পারতো। নেহরুর প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম সতেরো বছর আদিবাসীদের ক্ষেত্রে, সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত করেছিলেন। তাঁর জায়গায় অন্য কেউ থাকলে মনে হয় এতটা সুরক্ষিত করতে পারতেন না। নির্জোট আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা তিনি। ভারত রাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক স্থপতি, জনক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতকে আধুনিক রাষ্ট্র কীভাবে করা যায় সেই লক্ষ্যেই তাঁর সতেরো বছরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেদিক থেকে কোনোভাবেই নরেন্দ্র মোদির মোদির সঙ্গে জওহরলাল নেহরুর তুলনা করা যায় না। কেউ করবেনওনা, করা উচিতও নয়।’

ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কোনো প্রতিশ্রুতিই তিনি ধরে রাখতে পারেননি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ংকর এক বিপর্যয় হয়েছে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ভয়ংকর অবনতি হয়েছে। ধর্মীয় মেরুকরণ করার জন্য ওঁরা সকলেই নেমে পড়েছেন। এতদিন বাংলা এসব থেকে মুক্ত ছিল। স্বাধীনতার পরে বাংলায় এধরণের আওয়াজ শোনা যায়নি। বাংলাতেও এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও আরএসএস-বিজেপির মধ্যে এবং সেটাও হচ্ছে ধর্মকে কেন্দ্র করে।’

-পার্স টুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ