ঢাকা, সোমবার 31 December 2018, ১৭ পৌষ ১৪২৫, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইটভাটা গিলছে ফসলের জমি

উত্তরের জনপদ সৈয়দপুরের আকাশে উড়ছে কু-লিপাকানো কার্বনডাই অক্সাইড মিশ্রিত কালো ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। ফলে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। গাছে ফলছে না তেমন ফলফলারি। কমে যাচ্ছে জমির ফলনও। একদিকে যেমন ইট বানাতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে সোনা ফলানো মাটি, তেমনই ভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে এলাকার উর্বর তিন ফসলি জমি। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে এলাকার ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ৪০টির মতো ইটভাটা। ভাটার মালিকরা কৌশলে নামমাত্র মূল্যে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ২ থেকে ৩ ফুট মাটি কাটবার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও কাটা হচ্ছে ৫ ফুট গভীর করে। এতে উর্বর আবাদি জমি যাচ্ছে নষ্ট হয়ে। তাই জমিতে ফসল ফলে না। এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা এখন প্রায় বিপর্যস্ত। পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাঁরা চোখে দেখছেন সর্ষেফুল। এমনই একটি উদ্বেগজনক সচিত্র খবর ছেপেছে গত ৩০ ডিসেম্বর ইত্তেফাক। তবে রহস্যময় কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং পরিবেশবাদিরা এ ব্যাপারে একেবারেই নিরুদ্বেগ।
টপসয়েল কেটে নিলে ঐ জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। কোনও ফসল হয় না। চাষের জমি খাদে পরিণত হয়। আবার পাশের জমিও বৃষ্টিতে গলে এ গর্তেই গড়িয়ে পড়ে। ফলে কেটে নেয়া জমির পাশেরটাও নষ্ট হয়। তাই এ জমির মালিকও বাধ্য হয়ে টপসয়েল বেচে দেন ভাটাওয়ালার কাছে। এভাবেই সৈয়দপুরের উর্বর আবাদি জমি বিরান হয়ে যাচ্ছে। শুধু সৈয়দপুরেরই নয় উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু এলাকাতে ইটভাটায় এভাবে পুড়ছে কৃষকের সোনাফলা জমি। পুড়ছে কৃষকের কপালও। কমে যাচ্ছে আবাদ। অদূর ভবিষ্যতে এমন  প্রবণতায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে অবশ্যই। এখনও পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। ফলন কমছে। এছাড়া জমির প্রাণ টপসয়েল তুলে নেয়াতে জমি দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। আবাদি জমির এ বন্ধ্যাত্ব দেশের খাদ্যঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মানুষ ইটের দালান বানাতে গিয়ে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রধানক্ষেত্র জমি ধ্বংস করছেন। কেউ সাময়িক লাভের জন্য টপসয়েল বিক্রি করছেন ভাটাওয়ালাদের কাছে। এতে উর্বর জমি বিনষ্ট হবার বিষয়টা খেয়ালই করছেন না অনেকে। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে শিক্ষিত তরুণ, পরিবেশবিজ্ঞানী এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের আবাদি জমি এবং পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে জমির উর্বরতা যেমন বিনষ্ট হবে, তেমনই ভবিষ্যতে আবার আমাদের খাদ্যঘাটতি অনিবার্য হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই ইটভাটার জমি গেলা রুখে দেয়া জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ