ঢাকা, সোমবার 31 December 2018, ১৭ পৌষ ১৪২৫, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত পুনঃনির্বাচন দিতে হবে

গতকাল রোববার ড. কামালের বেইলী রোডের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন -সংগ্রাম

# জাতির সঙ্গে নিষ্ঠুর প্রহসন, এই ক্ষতি দীর্ঘকালের -মির্জা ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে পুন: নির্বাচন দাবি করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল  হোসেন। গতকাল রোববার রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব আসন থেকেই একই রকম ভোট ডাকাতির খবর এসেছে। ফলে এই পর্যন্ত বিভিন্ন দলের শতাধিক প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন করেছেন। এই অবস্থায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি, অবিলম্বে এ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করা হোক। এই নির্বাচনের কথিত ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং সেই সঙ্গে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।
 বেইলি রোডে ড. কামালের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টেয়ারিং কমিটির জরুরী বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন কামাল হোসেন।
আপনাদের দাবি না মানলে আপনার কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আগামীকাল সোমবার) আমরা বসে বিস্তারিত আলোচনা করে আমাদের করণীয় ঠিক করবো এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিস্তারিত দিকগুলো কাল আপনাদের জানাবো।
নির্বাচনে যদি ফ্রন্টের প্রার্থীরা বিজয়ী হন সেক্ষেত্রে কী করবেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এই পুরো নির্বাচনটাকেই প্রত্যাখ্যান করছি। দিজ ইজ নট এন ইলেকশন, দি ইজ এ ক্রুয়েল মোকারি উইথ ডেমোক্রেসি। আমরা কী করবো তা কালকে সোমবার) সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা জানাবো।
মির্জা ফখরুল বলেন, এটা ফ্রন্টের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। কাল বিস্তারিত জানাব। অনেকে মনে করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে না যাওয়াটা ভুল ছিলো, আজকের নির্বাচন প্রমাণ করলো যে, সেটা ভুল ছিলো না।
এদিকে গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির সঙ্গে নিষ্ঠুর প্রহসন। এ ধরনের নির্বাচন জাতির জন্য ক্ষতিকর। এই ক্ষতি দীর্ঘকালের। এই নির্বাচনে জাতির ক্ষতি হয়ে গেল। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মির্জা ফখরুল নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় পৌঁছান। এরপর সোয়া সাতটায় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির উপর বিশ্বাস করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অতীতের শত তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও অনেক আশা নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, তফসিল ঘোষণার পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হবে না। মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের কিংবা গ্রেফতার করা হবে না। আপনারা অবগত আছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর দেশব্যাপী ব্যাপক হামলায় ১৭ প্রার্থী আহত এবং প্রায় ১৪ হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হন। পাইকারি হারে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে প্রায় ১১ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ জন প্রার্থী কারাগারে থেকে নির্বাচন অংশগ্রহণ করেছেন। আজ ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সমগ্র দেশবাসী যখন প্রস্তুত, তখনই আমরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে একের পর এক খবর পাই যে, গতকাল (শনিবার) রাতেই আওয়ামী দুর্বৃত্তরা এবং নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহায়তায় নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখে। ঠাকুরগাঁসহ দেশের বেশকিছু কেন্দ্র থেকে খবর এসেছে যে, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের বুথ তালা মেরে রাখা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই খবর আসছিল, দেশের প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও তাদের মারধর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও তার নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাননি। তাই তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমার একার পক্ষে করার কিছু নেই।’
ড. কামাল হোসেন বলেন, যদিও অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে!’ অথচ সারাদেশে ব্যাপক নির্বাচনী সহিংসতায় অসংখ্য হাতাহতের ঘটনা ঘটে এবং ইতিমধ্যেই ২১ জন নিহত হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে এবং বেশ কজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। দৈনিক মানবজমিনের প্রধান প্রতিবেদক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য কাফি কামাল সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে বিটিসিএল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এজেন্টদের মারতে মারতে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ছবি তুলতে গিয়ে তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা মারাত্মক জখম হন। তার কপাল ফেটে যায়। তাকে দ্রুত মগবাজারের কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে গতকাল রাত থেকে যমুনা টেলিভিশন দেখতে পারছে না দেশবাসী। কোথাও কোনো সাংবাদিককে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারণ সিলমারার চিত্র তারা যেন ধারণ ও সম্প্রচার করতে না পারে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণমাধ্যমকে গলাটিপে ধরতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ব্যাপারে বার বার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল আগে থেকেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ