ঢাকা, সোমবার 31 December 2018, ১৭ পৌষ ১৪২৫, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সারাদেশের ভোটের চালচিত্র

যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনী একটি ভোটকেন্দ্র ফাঁকা। ছবিটি গতকাল রোববার দুপুর বারোটায় তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: রাতেই ‘নৌকা প্রতীকে’ সিল মারা, ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেয়া, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংসতা ও নজিরবিহীন কারচুপির মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শুরুর সাথে সাথেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ভোটকেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। কিছু সংখ্যক কেন্দ্রে ঢুকলেও পরে তাদেরকে বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ে তর্ক করলে মারধোর করা হয়। পাল্টা প্রতিবাদ করলে কিছু কিছু স্থানে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ নির্বাচনে এ পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া সব দলের বেশকিছু প্রার্থী নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোট বর্জন করেছে। এর মধ্যে ধানের শীষের রয়েছে প্রায় ৫০জন প্রার্থী। এ  ছাড়াও ঢাকার নবাবগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামসহ বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিল্লাস মাদানীসহ কয়েকজন ভোট বর্জন করেছেন। এ নির্বাচনকে প্রহসন ও তামাসার নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২১টি আসনে নানা অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভোটগ্রহণের মাঝপথে রোববার দুপুরে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
এ সময় আলাল বলেন, এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নামে ‘তামাশা’ হয়েছে। প্রমাণিত হল যে বাংলাদেশে দলীয় সরকার রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবপর নয়।
বিএনপি’র লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার রাতে দেড় শতাধিক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সহযোগিতায় ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। নির্বাচন শুরুর আগে প্রায় ২৫০টি আসনের ধানের শীষের প্রতীকের এজেন্টদের বাধা দেয়া হয়েছে।
এ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। তারা সারাদেশে নির্বাচনের নামে কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সিল মারা, কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশ দিয়ে ভোটার ও প্রার্থীর হামলার ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন অভিযোগ করেছে।
এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে দলের যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জ্ঞানপাপীর ভূমিকা পালন করেছেন, তবে একজন কমিশনার ছাড়া। সব আসনেই প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় হাতপাখা মার্কার প্রার্থীর ওপর হামলা, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকা, লাঙ্গল ও সাইকেল মার্কায় ভোট দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ আসনে ভোটারদের ভোট দানে বাধা, পোলিং এজেন্টদের গুম ও পুলিশের অযথা হয়রানি ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রায় ২৪টি আসনে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এ নির্বাচন জনগণ মেনে নেয়নি। এ অনিয়মের নির্বাচনে জাতি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। এ ঘটনায় দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটবে।’
‘রাতেই কাম শেষ’
ভোটের আগের রাতেই অনেক কেন্দ্রে “নৌকা” প্রতীকে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবিও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র ওয়েব সাইটে একটি চিত্র দিয়ে বলা হয়েছে, রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার চিত্র দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক। তাতে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম-১০ আসনের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে সকালে ভোটগ্রহণের আগে ব্যালটবাক্স ভরা দেখলেন বিবিসি সংবাদদাতা।
এদিকে সাংবাদিকরা সরেজমিন গিয়ে দেখা বর্ণনায় বলা হয়, সকাল ৯টা, ঢাকা-৫ আসনের জনতাবাগ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। ভোটারদের লাইন নেই। একজন একজন করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় পুরুষদের ভোট। ৩নং বুথে গিয়ে দেখা গেছে, ২ জন এজেন্ট। একজন হাত পাখার প্রার্থীর। অন্যজন নৌকার। পোলিং অফিসার ২ জন।
সহ-প্রিজাইডিং অফিসার একজন। নৌকার এজেন্ট ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নিজেই সিল মারছেন প্রকাশ্যে। এ ব্যাপারে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোতাহের হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এভাবেই চলছে।
হাতপাখার এজেন্ট জানালেন, আমরা ২ জন ছাড়া আর কোনো এজেন্ট আসেনি। কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতারা খোশগল্পে মত্ত। একজন আওয়ামী লীগ নেতা চিৎকার করে বলছেন, ডানপাশের ওরা বিএনপি। ওদেরকে তাড়িয়ে দে। আরেক নেতা বলছেন, তাড়িয়ে লাভ কী। কাম তো রাতেই শেষ।
ভোট দিতে পারেনি ভোটাররা
শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজে (ঢাকা-৮) কেন্দ্রে সকাল নয়টার দিকে একপাশে নারীরা আরেকপাশে পুরুষেরা ভোট দিচ্ছিলেন। এ সময় ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে ঘুরছিলেন কয়েকজন। তাঁরা অভিযোগ করছিলেন তাঁদের ভোটার নম্বর দেয়ার কেউ নেই তাই ভোট দিতে পারছেন না। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়তে থাকল। ছোট জটলা থেকে বড় হতে লাগলে ভোট দিতে না পারা মানুষের সংখ্যা।
এই দলেই নিজের ভোটার কার্ড নিয়ে চিৎকার করছিলেন রোকেয়া কবির লাভলি নামের এক মধ্য বয়স্ক নারী। কাছে যেতেই চিৎকার করে বলা শুরু করলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ। ভোট দিতে আসছি। কিন্তু ভোট দিতে পারি নাই। দুই ঘণ্টা ধরে এইখানে সেইখানে ঘুরতেছি। একজন বলে ভেতরে যান। ভেতরে গেলে আরেকজন বলে বাইরে থেকে স্লিপ আনেন। বাইরে আসলে দেখি স্লিপ নাই। আমি এখন কার কাছে যাব। তাহলে কি ভোট দিতে পারব না? এর বিচার কে করবে?’ কথা বলার একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন রোকেয়া। কাঁদতে কাঁদতে তিনি চলে যান।
গণমাধ্যমের কর্মীদের দেখে অনেকের মতো এগিয়ে আসেন নারগিস আক্তার নামের আরেক নারী। তিনিও একই অভিযোগ করে বলেন, ভোট দিবার পারি নাই। প্রধানমন্ত্রী বলছেন সবাই ভোট দেবেন আমিও তাই ভোট দিতে আসলাম। এখন শুনি আমার ভোট কোথায় তা এখানকার লোকজন জানেন না।
এভাবে যখন কথা বলছিলেন নারগিস তখন প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ কলেজের মাঠে ভোটার কার্ড উঁচিয়ে ভোট দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা মাঠে সমবেত হন। শিহাব উদ্দিন ও আনোয়ারা বেগম এসেছিলেন এই কেন্দ্রে ভোট দিতে। ভোটার নম্বর জানতে না পেরে ভোট দিতে না পেরে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের পেছনে পেছনে ধরনা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে অধৈয্য হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। বয়স জানতে চাইলে শিহাব উদ্দিন বলেন, আমার বয়স ৬০ বছর। এই জীবনে যতবার ভোট হইছে আমি দিছি। আর আজকো ভোট না দিয়া ফিরত যামু এ কেমন কথা? ভোট দিতে না পারলে এখানেই থাকমু দেখি কি হয়।
এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সকালে ভোট শুরুর সময় কেন্দ্রের সামনে কিছু ব্যক্তি টেবিল চেয়ার নিয়ে বসেছিলেন। তাঁরা ভোটারদের ভোটার নম্বরের স্লিপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ঘণ্টা খানেকপর তাদের সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। এতেই বিপাকে পড়েন সাধারণ ভোটাররা।
এখানে কথা হয় মো. বাচ্চু, তাজ উদ্দিনের সঙ্গে। তাঁরাও ভোট দিতে এসে তাঁদের ভোটার নম্বর না পেয়ে ভোটার কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। একপর্যায়ে এই কেন্দ্রে আসেন এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রী অফরোজা আব্বাস। তাঁরা দুজনই এই কেন্দ্রের ভোটার। তাঁদের সামনে পেয়ে অনেকে ভোট না দিতে পাররা অভিযোগ করছিলেন। এ সময় মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, আমাদের কর্মীরা ভোট দিতে পারছেন না। এই প্রতিবাদে আমরা ভোট দেব না। আমরা এভাবেই চলে যাচ্ছি। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, আমাদের সমর্থকদের অনেকে ভোট দিতে এসে দেখেন ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আমি চাই আমারও ভোটটা কেউ দিয়ে দিক। আমি ভোট না দিয়ে ফিরে যাচ্ছি। এটি প্রহসনের নির্বাচন অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন চোখ বন্ধ করে রেখেছে। এই কমিশন বোবা ও কালা।
এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার তুহিনুল ইসলাম বলেন, এই কেন্দ্রের ভোটার ২২৭০ জন। যারা ভোটারদের স্লিপ দিচ্ছিলেন তাঁরা না থাকায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তারপরও আমরা ভোটারদের ভোটার নম্বর খুঁজে দিচ্ছি। কেউ ভোট না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন এই অভিযোগ ঠিক নয়। তিনি যখন এসব কথা বলছিলেন তাঁর সামনেই ভোট দিতে না পারা ভোটাররা বিক্ষোভ করছিলেন।
গতকাল বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী স্কুলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূলগেট বন্ধ করে দিয়ে ভোটারদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গেটের দায়িত্বে থাকা আনসারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ভেতরে লাইন। সময় শেষ, এখন আর কোন ভোটারকে ঢুকতে না দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, লাইনে দাড়িয়ে কিছু সংখ্যক লোক বিভিন্ন ভোটার নাম্বার নিয়ে ভোট প্রদান করছে। তাদেরকে কেউ চিহ্নিতও করছে না, তারা বৈধ ভোটার কি না? এমন কী একজন লোকই একাধিকার ভোট দিয়েছেন। এ কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ: বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরের মরগান গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব দুলাল মিয়া। এরপর থেকেই ওই কেন্দ্রের দরজা বন্ধ। বেলা দেড়টার দিকে যখন তাঁর সঙ্গে কথা হয়, তখন শতাধিক ভোটার ভোট দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। চারজন নারী ভোটকেন্দ্রের ফটকে অবস্থানরত আর্মড পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে ঝগড়া করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দুই ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রের ফটক বন্ধ করে পুলিশ তাদের আটকে রেখেছে। একবার লাঠিপেটাও করেছে।
কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জানালেন, ভেতরে সবাই খাচ্ছেন। এ কারণে দেরি হচ্ছে। শুনেই লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন আবার। সবাই বলতে থাকেন, ‘সরকার কী এমন খাওন দিচ্ছে যে দুই ঘণ্টা ধরে খাইতাছে হ্যারায়, আর আমরা খাড়ায়া আছি। বারেবারে আমাগো খালি ধাওয়ায়, মনে হয় চুরি করবার আইছি।’
অবস্থা কী জানতে চাইলে ফটকে অবস্থানরত সদর থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা জানেন না অবস্থা কী। যা হওয়ার হয়ে গেছে।’
বেলা দুইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে তিনটি গাড়ি সাইরেন বাজাতে বাজাতে এসে লোকজনকে সরিয়ে দেয়। নিজের হাতে লাঠি নিয়ে ভোট দিতে আসা লোকজনকে তাড়াতে দেখা যায় ওসিকে। কথা বলতে চাইলে লাঠি হাতে সরে যেতে ইশারা করেন।
‘ধানের শীষের’ এজেন্ট নেই কেন্দ্রে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য ঢাকা-৮ ও ৯ নির্বাচনী আসনের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ধানের শীষের এজেন্ট আসেন নি।
গতকাল রোববার সকাল ৮ টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই দুই আসনে অন্তত ১৫ কেন্দ্র ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সেগুনবাগিচা হাইস্কুলে স্থাপিত ৩টি কেন্দ্রের ১৪টি বুথের একটিতেও ধানের শীষের এজেন্ট আসেননি। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ তিনটি কেন্দ্রে ঘুরে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
সেগুন বাগিচা হাইস্কুলে স্থাপিত ৯১ নম্বর কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথে মো. ইসমাইল হোসেন, ২ নম্বর বুথে জহিরুল ইসলাম, ৩ নম্বর বুথে মাহবুব ইসলাম এবং ৪ নম্বর বুথে মিঠু চাকমা নৌকার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখানে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ছিল না।
একই স্কুলে স্থাপিত ৯২ নম্বর কেন্দ্রের চারটি বুথে যথাক্রমে বাবু সবরাথী, সাখাওয়াত হোসেন, শামীম হোসেন এবং শওকত আলী নৌকার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই কেন্দ্রেও ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ছিল না।
জানতে চাইলে ৯২ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘সকালে লোক পাঠিয়ে সব দলের এজেন্টকে কেন্দ্রের ভেতরে আসতে বলেছি। ধানের শীষের কোনো এজেন্ট আমরা পাইনি। কাউকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়নি, বেরও করে দেয়া হয়নি।’
এখন তো সকাল না? বেলা ১২টারও আগের ঘটনা। ঢাকা ১৮ আসনের উত্তরখান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানকার আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট সাহারা খাতুন। কেন্দ্রের সামনে আসতেই ভোটাররা বলছে, ভোট দিতে পারি নাই। পাশ থেকে একজন বলছে, ‘সিল মেরে দিচ্ছি কাকা’। কেন্দ্রে প্রবেশের পরই জানতে পারলাম, বেলা ১১টার মধ্যেই এখানকার সব ভোট দেয়া শেষ হয়ে গেছে। স্কুলের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতার্মীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। কেন্দ্রের প্রবেশ পথে দাড়িয়ে নৌকার সমর্থকরা বলছে, ভোট দেয়া শেষ। ভেতরে গিয়ে লাভ হবেনা। কিছুক্ষণ মাঠে দাড়িয়ে থেকে দেখলাম ভোটের এই করুণ দৃশ্য। গেলাম প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে। নাম জানতে চাইলেও তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ভোটের কি খবর জিজ্ঞেস করতেই ভদ্রলোক হেঁসেই উত্তর দিয়ে বললেন, ভাই ভোটের কি খবর আপনি যা দেখছেন আমিও তা-ই দেখছি। জানা গেলে এখানকার তিনটি কেন্দ্রে ভোট প্রায় ১৬ হাজার। মাত্র তিন ঘন্টাতেই শেষ! কেন্দ্র থেকে বের হয়ে স্কুলের সামনের দোকান থেকে ফ্লেক্সিলোড করার জন্য যাই। দোকনীর কাছে জানতে চাইলাম, ভাই ভোট দিয়েছেন? কোথায় ভোট দিলেন? জবাবে বললেন, উত্তরখান ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিলাম। কখন ভোট দিলেন” সকাল ৮টার কিছুটা পরে। তাহলে এখন যে বলছে, ভোট শেষ? জবাবে দোকানী বলল, ভাই এখন কি সকাল? ভোট দিতে হলে সকাল সকাল আসতে হবে। জবাবে আমিও বললাম, আসলেই তো! এখন তো সকাল না, বিকেল ১১টা! আমার কথায় তিনিও হাসলেন।
ভাই আর কত সময়? উত্তরা প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত উত্তরা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। দুপুরে ১টা ২০ মিনিট। কেন্দ্রের সামনে বিশাল জটলা। সবার বুকেই নৌকার ব্যাচ। এছাড়া বেশ কয়েকটি আইনশৃঙ্খলার গাড়ি রাখা আছে। সামনে দিয়ে যাচ্ছিল বিজিবির টহল গাড়িও। সারাদিনের চিত্র দেখে মনের মধ্যে একটা উৎসাহের জন্ম নিল। মনে হয় এখানে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেই দেখলাম, বাহিরে যা চিত্র ভেতরে ঠিক তার উল্টোটা। মহিলা লাইনে কাউকে দেখলাম না। পুরুষ লাইনে কিছু ভোটার দেখা গেল। তবে সামনে এগিয়ে দেখলাম এরা কেউই ভোটার নন। এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সাপোর্টার। কিছু জিজ্ঞেস না করে সোজা চলে যাই তিন তলায় অবস্থিত প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে। সিড়ি দিয়ে ডান দিকে যেতেই দেখা পেলাম প্রিজাইডিং কর্মকর্তার। নিজের পরিচয় দেয়ার পরই তিনি জানালেন তার নাম  আসাদুজ্জমান। জনতা ব্যাংকের অফিসার। ভোটের খবর জানতে চাইলে বলেন, ভাই চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছুতেই পারছিনা। কি করবো বলেন। প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে যখন কথা বলছিলাম তখন নৌকার বেশ কিছু নেতাকর্মী তার কাছে আসেন। সবাই বলতে থাকে, ভাই আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবো। সব জায়গায় ভোট তো শেষ! জবাবে তিনি বললেন, আপনারা পুলিশকে বলেন। আমি কিছু করতে পারবো না। এরপরই দেখা গেল পুলিশ অফিসার আশরাফুল প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে গেলেন। এর পরের চিত্র আমারো অজানা।
ভোট শেষ: দুপুর একটায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করি। ভোটের অবস্থা জানতে চাইলে দায়িত্বরত সবাই বললেন, ভাই ভোট তো শেষ। এখানকার ভোটররা খুবই সজাগ। তারা সকাল সকাল এসে ভোট দিয়ে গেছেন।
ইভিএম এ ভোট: সকাল ১১টার দিকে আমি নিজের ভোট দিতে যাই মোহাম্মদপুরস্থ জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। কেন্দ্রের বাইরে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ভোট বুঝি আজ শেষ হবেনা। তবে কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে আবিস্কার করলাম, ঘটনা অন্যটা। কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ ভোটারের দীর্ঘ লাইন। তারা ভোট দিতে না পারলেও নৌকার লোকজন ভোট দিচ্ছে। একের পর এক স্লিপ নিয়ে নৌকার সমর্থকরা প্রবেশ করছে। আর ভোটার নাম্বার দিয়েই ভোট দিচ্ছে। পুরুষ কেন্দ্রের ২ নং কেন্দ্রে ছিল আমার ভোটদান কক্ষ। আমার সামনেই একজনের আঙ্গুলের চাপ মিলছিল না। তারপরও তিনি ভোট দিলেন। কারণ তিনি নৌকার সমর্থক। নিজের ভোটটা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলাম কত ভোট কাস্ট হয়েছে। জবাবে তিনি বললেন, তিন ঘন্টায় ৬৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে। তার মানে প্রতিঘন্টায় ভোট কাস্ট হয়েছে ২১টি।
এক ঘন্টায় মাত্র ৩২ ভোট
একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে মাত্র ৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।
গতকাল রোববার সরেজমিন ঘুরে ভোটের এমন চিত্র দেখা যায়। কেন্দ্রটিতে পাঁচটি বুথের মাধ্যমে ভোট নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায় ১নম্বর বুথে এক ঘন্টায় মাত্র ৮জন ভোটার ভোট দেয়। ২ নম্বর বুথেও ভোট দেয় ৮জন ভোটার। ৩নম্বর বুথে ভোট পড়ে ৬টি। ৪নম্বর বুথে ভোট দেয় ৬ জন। ৫ নম্বর বুথে ৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। সবমিলে পাঁচটি বুথে এক ঘন্টায় মাত্র ৩২ জন ভোটার ভোট দেয়।
ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ভোটারদের লাইনের কোনো বালাই ছিলো না। অনেকক্ষণ পর পর একজন করে ভোটার আসে। বুথগুলোতেও ছিল না ভোটারদের চাপ। ফলে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের কাজহীন সময় পার করতে দেখা যায়। ভোটারদের কম উপস্থিতির ব্যাপারে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসাররা বলেন, আমরা যথা সময়ে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছি। হয়তো শীতের সকালের কারণে ভোটাদের উপস্থিতি কম।
প্রত্যেকটি বুথেই ছিলো নৌকার এজেন্টরা। ১১ জন প্রার্থীর ছবি সম্বলিত ব্যালট প্যাপার থাকলেও সরকারি দল বাদে অন্য কোনো দলের এজেন্টদের দেখা মেলেনি। পোলিং এজেন্টদের না আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারা বলেন, কেন এজেন্টরা আসেনি সেটা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের ব্যাপার। আমাদের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করা। সে দায়িত্ব আমরা পালন করছি। 
ভোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার দায়িত্বে থাকা ৬১ নম্বর কেন্দ্রে সকাল থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। ভোটারদের উপস্থিতি কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতের সকালের কারণেই হয়তো ভোটারদের উপস্থিতি কম হতে পারে। বিরোধী দলের এজেন্ট না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, আসেনি হয়তো কিছু সময়ের মধ্যে চলে আসবে। এ ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণই হচ্ছে।
খুলনা অফিস : আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ কর্তৃক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, ভোট কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, প্রকাশ্যে নৌকায় সীল মারা, ভোটারদেরকে ভয়ভীতি, ভোটারদের বাধাদানের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব অভিযোগে দুপুরের পর খুলনার ৫টি আসনের ধানের শীষ ও দু’টি আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন। খুলনা-৬ আসনের ১০টি রাজনৈতিক দলের মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ২ জন। এ নির্বাচনে ছয়টি আসনের ৭৮৬ ভোট কেন্দ্রের ৩ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৯৮৯ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯ জন। ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭২০টি ভোট কক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে প্রার্থীতা পাওয়া আসনে ভোট দিতে পারেনি নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান বাবু। তার নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি। কারণ তিনি রূপসা উপজেলা অর্থাৎ খুলনা-৪ আসনের ভোটার। তিনি সকালে রূপসা রাজাপুর জয়বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর নির্বাচনে অংশ নেন খুলনা-৬ যান।
অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ২৭ অক্টোবর তিনি আটক হয়েছেন। খুলনা জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ৮/১০টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
এছাড়া খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটার ছিল শিরোমনি পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের। তিনিও ভোট দিতে পারেননি। ভোট দিতে পারেননি তার নেতাকর্মী ও এজেন্টরা। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল খুলনার বাকী ক’টি আসনেরও।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সেন্ট জোসেফ স্কুলের ভোটার মেরিনা পারভীন নামের এক ভোটার বলেন, পদ্ধতিটা নতুনের কারণে ১০ বছর পর একটি ভোট দেয়ার জন্য সেই রকম প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু দু:খের বিষয় ভোটটি দিতে পারলাম না। তবে এ কেন্দ্রের ভোটার অর্চনা দেবী ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে বলে জানান। অল্প সময়ের মধ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়া যায়। ভোট দিতে কেউ না বুঝলে কর্মকর্তা তাকে সহযোগিতা করছেন। তবে, ভোট কেন্দ্রের সামনে বিশাল জটলা দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানান।
নিরালা কেন্দ্রের সাহেদ আলম নামে এক মধ্য বয়সী ভোটার বলেন, ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটা ভালো। সারাদেশে এ পদ্ধতি চালু হলে দ্রুত সময় ভোটগ্রহণ ও ফলাফল দেয়া সম্ভব হবে। তবে, ছল ছল চোখে তিনি বলেন, কেন্দ্রের চারিপাশে থাকা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ব্যাচ পড়া ২০/২২ বছরের ছেলেরা আমাদের ৫ জনকে ভোট দিতে হবে না বলে ফেরত দিয়েছে। আমার ছেলে ও মেয়ে এবারের নতুন ভোটার। তারা ভোট দিতে না পেরে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। এ আসনে সাতজন প্রার্থী লড়াই করেন। এখানের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৯ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৩ জন। এ আসনে পুরুষের চেয়ে ৭২৪ জন নারী ভোটার বেশি।
পিটিআই কেন্দ্রে ও বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, তারা প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে আসলেও ভোট দিতে না দেওয়ায় তারা বাড়িতে চলে যান। হাজী মহাসিন রোড, ইউছুফ রো, স্যার ইকবাল রোড, মুন্সিপাড়া লেনসহ ১৬ নং ওয়ার্ড থেকে ৩১ ওয়ার্ডের সবক’টি কেন্দ্রের চারিপাশ ঘিরে রাখে। এখানের নৌকা ভোটার ছাড়া অন্য কোন ভোটার ঢুকতে দেয়া হয়নি। মহিলা ভোটারদেরকে পথে পথে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে। 
খুলনা-২ আসনের বিকে স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভোট দিতে আসলে সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সভাপতি অধ্যক্ষ প্রফেসর জাফর ইমামকে প্রিজাইডিং অফিসার জানান আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতটা নিচে নামা ঠিক হয়নি। সকাল ১১টার দিকে পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান খুলনার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. হামে জামাল। তাকে স্কুল গেট থেকেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলে ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে ফিরিয়ে দেন। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা সকাল থেকেই হাজী মহাসিন রোডের ফকিরবাড়ি লেনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের বাধার মুখে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি। তিনি জানান, তিনদফা চেষ্টা করেও আমাদের গলির দুই শতাধিক ভোটার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
এদিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়ার ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের একটি বুথের ইভিএম মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই বুথে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, হেলিকপ্টারে করে ইভিএম মেশিন এনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
রোববার সকাল ১১টায় প্রথম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হামলা-ভাংচুর, ভোটেরদিন কেন্দ্রের এজেন্টদের মারধর, ভোটারদের মারধর, ভোট দিতে না দেয়া, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়ে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগে তিনি ভোট বর্জন করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ভোট গ্রহণের এক ঘণ্টার ভেতরে খুলনা-৫ আসনের সব ভোটকেন্দ্রের কক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়া হচ্ছে। ভোট গ্রহণের পর থেকে শত শত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেশ কিছু নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। যারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, রিটানিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যে কারণে এ প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।
এরপর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-১ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী সুনীল শুভ রায়। তাদেরও অভিযোগ ছিল একই। একে একে খুলনা-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও লাঙ্গলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু।
এদিকে বেলা আড়াইটায় খুলনা মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে খুলনা ও বাগেরহাটের ১০টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনের প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। খুলনার ৫টি আসনের প্রার্থী ছাড়া বাগেরহাটের ৪টি আসনের সবকটি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা দুপুরের পরেই ভোট বর্জন করেন। বাগেরহাট-১ আসনের প্রকৌশলী মাসুদ রানা নিজেও মোল্লাহাট উপজেলার গাঙ্গী স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট দিতে গেলে তাকে জানানো হয় আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। তার নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লে. আকিব জামানের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। বাগেরহাট-২ আসনের এম এ সালাম, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী এডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ ও বাগেরহাট-৪ আসনের অধ্যাপক আব্দুল আলিমও ভোট বর্জন করেন। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে তারা ভোট বর্জন করেছেন ।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য খুলনা-১ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সুনিল শুভ রায় অভিযোগ করে বলেন, বটিয়াঘাটার ১০৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রই নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা দখল করে নিয়ে জাল ভোট দিচ্ছেন। শুধু মাত্র আমার কেন্দ্রেটি দখল করেনি। এরকম কলঙ্কিত ভোট আমি কোনো দিন দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদের ব্যালট পেপার টেবিলের উপর রেখে সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। তাই আমি সকাল সাড়ে দশটা থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।
হাসনা হেনার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে তার দু’টি বাড়িতেই হামলা চালায়। হামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। এ সময় তার বাসার টিভি, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তবে তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অক্ষত আছে।
রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজার কলিংবেল টিপে ৭ থেকে ৮ জন। দরজা খুলতেই ৪ জন ঘরের ভেতরে এলোপাতাড়ি ঢুকে হামলা চালায়। সোফা, এলইডি টিভি ভেঙে ফেলে একটি তাক ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে। পড়ে আামরা চিৎকার করলে আশে পাশের মানুষ আসলে তারা হুমকি ও গালিগালাজ করতে করতে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুনতে পাই বয়রা মেইন রোডে আমার নিজস্ব বাসায়ও দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। ঐ বাসায় থাই গ্লাস ভাঙচুর করে তবে বাসার ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. মমতাজুল হক এর সরকারি মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ হয়নি।
খুলনায় অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের দখলে ছিল। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি’র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছিল না। সেসব কেন্দ্র সকাল থেকেই ভোটারদের নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের সামনে ভোটারদের ভোট দিতে হয়েছে। ধানের শীষে ভোট দিতে পারেন, এমন ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয় নি। কোথাও-কোথাও ব্যালট পেপোর কেড়ে নিয়ে সিল মারা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের ভুক্তভোগী ভোটাররা এসব অভিযোগ করেছেন।
রূপসার দুর্জ্জনীমহল এবং শোলপুর গ্রামের নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ২ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার রয়েছেন। ভোট কক্ষ ছিল পাঁচটি। নৌকা,ধানের শীষ এবং হাত পাখার পোলিং এজেন্ট ছিল বলে প্রিজাইডিং অফিসার অমিত কুমার ঘোষ জানালেও কেন্দ্রে বিএনপি দলীয় কোনো এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২ টার দিকে কয়েকজন পুরুষ ভোটার চোঁখে পড়লেও নারীদের দু’টি কক্ষে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললে চলে। প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। যা ১৬শ’র বেশি।
তেরখাদা উপজেলার ৫০ নং এমএমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দক্ষিণ মোকামপুর, মল্লিকপুর ও নিশিপুর গ্রামের ১৪শ’ ৪৮ জন পুরুষ ও ১৪শ’ ৬৮ জন নারী ভোটার ছিল। সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিট। তিনটি পুরুষদের ভোট কক্ষ ও তিনটি নারীদের ভোট কক্ষে ভোটারদের আওয়ামী লীগ দলীয় পোলিং এজেন্টদের সামনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। প্রিজাইডিং অফিসার বিকাশ দাশ বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। নৌকা, ধানের শীষ ও হাত পাখার পোলিং এজেন্ট এসেছেন।
ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জামাল ফকির বলেন, সাড়ে ৭ টার দিকে ধানের শীষের চার জন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। যাদেরকে গালি-গালাজ করে বের করে দেয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ৭০ থেকে ৮০ জন দলীয় ভোটারের ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকায় ছিল মারা হয়েছে। ভোটের আগের রাতে কমপক্ষে ১শ’ জনের একটি দল বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের বাড়ী-বাড়ী যেয়ে কেন্দ্র না যাওয়ার জন্য শাসিয়ে এসছে। তাকেও নৌকায় ভোট দিতে বলা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে দক্ষিণ মোকামপুর গ্রামের উকিল উদ্দিন সরদার (৮৫) উত্তর মোকামপুর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। তার ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারা হয়েছে।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফরিদ শেখ (৬০) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ভোট কেন্দ্রে যান। তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার কথা বলা হলে তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এই কেন্দ্রে চার জন ধানের শীষের এজেন্ট ছিলেন। তাদের একজন এসএম আলী আকবর (৩৬)। সকাল ১০ টার দিকে তিনিসহ অন্যরা প্রতিপক্ষের চাপে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। তিনি বলছিলেন, সকাল ৯ টার পর থেকে প্রত্যেক ভোট কক্ষে চার-পাঁচ জন করে ছাত্রলীগ কর্মী ঢুকে পড়েন।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এম এম নাজমুল ইসলাম বেলা ১১ টা ১৮ মিনিটে বলেন, ২ হাজার ৪০ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজারের কিছু বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন।
বিএপি কর্মী নিহত
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ও লালমনিরহাটের ৩টি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাগেছে, লালমনিরাট জেলায় ১, ২ ও ৩ আসনে ৩৬২ টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের ৮৯টি ভোট কেন্দ্রে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও ১ জন বিএনপি কর্মী সংঘর্ষে নিহত ছাড়া বাকী সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট প্রদান করেছে। তবে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান বাবলা সাংবাদিকদের জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট ভোটকেন্দ্রে আ’লীগ- বিএনপি সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক (৫৫) নামের এক কর্মী আহত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি জানান, গিয়াস উদ্দিন, মিশন স্কুল, কবি শেখ ফজলুল করিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বত্রিশ হাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আ’লীগের ক্যাডাররা। একই অবস্থা আদিতমারী-কালীগঞ্জ-২ আসনে একাধিক ভোট কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আ’লীগ ক্যাডাররা বলে ধানের শীষের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল জানান।
অপরদিকে (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা)-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান জানান, আ’ লীগের ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ১৩২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশই ভোট কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে আ’লীগ ক্যাডাররা নিজেরাই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে জমা দিয়েছে। তাছাড়া পাটগ্রাম-হাতীবান্ধার শতাধিক ভোটার জানান, তাদের ভোট আগে থেকেই আ’লীগ ক্যাডাররা দিয়ে দিয়েছে। ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান সাংবাদিকদের জানান,
আ’লীগ ক্যাডাররা ভোট শুরু হওয়ার আগ থেকেই ভোট কেন্দ্রের সামনেই লাঠি-সোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। এমন সন্ত্রাসী আচরণে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি অনেক ভোটার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরব ভূমিকা পালন করেছে বলে হাসান রাজীব প্রধানের দাবী। লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে লালমনিরহাটের ৩টি আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট ব্যুরোঃ পরিকল্পিত ঘটনা, অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনতার প্রতি প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্র দখল ও দিনব্যাপী তান্ডবের মধ্য দিয়ে সিলেটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট বাসদ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবী জানিয়েছে। সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে অভিযুক্ত করছেন বিএনপি। বেলা ৩ টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ভোট কেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম, জালভোটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল রোববার এ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন ও পরিকল্পিত নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন সিলেটের সাধারণ ভোটাররা।
গতকাল রোববার সরেজমিনে সিলেট-১ আসন ও সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী মারমুখী। সিলেটে এমসি কলেজ কেন্দ্র, সিলেট হাতিম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহ মীর (রহ.) প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, শাহী ঈদগাহস্থ স্কলার্সহোম কেন্দ্র, শাহ সফির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, উত্তর আউশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। সিলেট-৩ আসনে দক্ষিণ সুরমাস্থ জালালপুর ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ হাজার গজ দূরে জালালপুর বাজারে সাধারণ জনতার প্রতি অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মোগলাবাজার থানার সেকেন্ড অফিসার সোহেল রানার নেতৃত্বে শাহজালাল হোটেলে আহাররত সাধারণ জনতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এস আই সোহেল রানা। এক পর্যায়ে হোটেল মালিক তার দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন। এছাড়া মোগলাবাজারস্থ রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোগলাবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুমের অতি উৎসাহী মনোভাবের কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে গতকাল রোববার বিকাল ৩টার দিকে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-১ আসনের প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে জালভোট, অনিয়ম, বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজে ব্যালট বই নিয়ে নৌকায় সিল মারার মত ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে বার বার রিটার্ণিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি বলে জানান মুক্তাদির।
তিনি সিলেট-১ আসনের ৩৭টি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে বলেন- ‘এসব কেন্দ্রে বেলা ১২টার পর থেকে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী প্রমুখ।
বালাগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের গুলিতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সুহেল নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামের ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুহেল একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুনঃনির্বাচন দাবি সিলেট বাসদের
একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বাসদ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রণব জ্যোতি পালের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন জানিয়েছেন সারাদেশের ন্যায় সিলেট-১ আসনে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বিভিন্ন কারণে ভোট কেন্দ্র বন্ধ করা হয়।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনেও অনুষ্ঠিত হয়েছে । লৌহজংয়ের ১০ টি ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনটি গঠিত। সকাল ৮ টা থেকে লৌহজংয়ে ৫৩টি ও টঙ্গীবাড়ীতে ৭৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হয়। সরেজমিনে লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়,হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,মেদিনিমন্ডল ইউনিয়নের মাওয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিন মেদিনি মন্ডল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখাযায় হাতে গোনা সল্প সংখক ভোটার রয়েছে। তবে সে কেন্দ্রগুলোর পিজাইডিং অফিসারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে যারা এসছে তারাই ভোট দিয়ে চলে গেছে ।তবে দুপুরের দিকে মেদিনিমন্ডল ইউনিয়নের যশলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখাযায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র।এখানে শতশত নারী পুরুষ লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ।এ সময়ে ঐ কেন্দ্রের পিজাইডিং অফিসার রাসেদুল হক জানান এ কেন্দ্রে মোট চারহাজার সতেরোজন ভোটার রয়েছে এখানের অধিকাংশরাই আনন্দ মুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে অর্ধশতাধীক কেন্দ্র থেকে ধানের শীর্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ৪০টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি পুলিশ ও সরকার দলীয় লোক জন।
 আসনটিতে ধানের শীর্ষের প্রাথীর ভোট কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর স্ত্রীসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন,২০ দলীয় জোট মনোনিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাদ্দীস আব্দুল খালেকের স্ত্রী সাজেদা বেগম, শ্যালক মাওলানা আতিয়ার রহমানও আজিবর রহমান এবং ধানের শীষে পোলিং এজেন্ট রবিউল ইসলাম। গতকাল সকালে আগারদাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধলবাড়িয়া কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
 সাতক্ষীরা সদর আসনের ধানের শীর্ষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাত হোসেন এমন অভিযোগ করেন। মুঠো ফোনে তিনি জানান,বেশির ভাগ কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টা ঢুকতে দেয়নি। যারা ঢুকছিল তাদেররে অনেকেরই বের করে দেয়া হয়েছে। তার মতে জামায়াত অধ্যুসিত বাঁশদহা ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্র, কুশখালির ৭টি কেন্দ্র, বৈকারীর ৬টি কেন্দ্র, ঘোনার ৫টি কেন্দ্র, শিবপুরের ৮টি কেন্দ্র,ঝাওডাঙ্গার ১০টি কেন্দ্র এবং বল্লির ৬টি কেন্দ্রে ধানের শীর্ষের কোন ভোটারকে প্রবেশকরতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট প্রদান করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা ধানের শীষে ভোট দিচ্ছে তাদের অনেকেরই আটকের খবওর পাওয়া গেছে।
 সাতক্ষীরা শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের কুকরালি প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সরকার দলীয় লোকজন ও পুলিশ ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দানে বাধ্য করে বলে কয়েকজন ভোটারা জানান।
 শহরের রসুলপুর, পলাশপোল,আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে কয়েকজন ভোটার জানান। ফলে সকালে শত শত ভোটার কেন্দ্রর বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন। সদর আসনের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ ঢুকলেও তাদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে এ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট দিতে না পেরে ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এদিকে প্রার্থীর নিজ এলাকা ধলবাড়িতে ভোটারদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জামায়াতের কর্মী আতিয়ার রহমান,আজিজর রহমন,রবিউল ইসলাম, এবং আ’লীগকর্মী আতাউর রহমান আতাও আবুল হোসেন। আবুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা শ্যামনগর ৪ আসনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন।
রোববার ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তার নির্বাচন পরিচালক শ্যামনগর জামায়াতের আমীর প্রভাষক আব্দুল জলিল এ ঘোষণা দেন।
আব্দুল জলিল বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, দলীয় নেতা–কর্মীদেও গ্রেফতারে ঘটনাগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, রাতে ব্যাল্ট বক্সে ভোট প্রদান, জাল ভোট প্রদান এবং ভোট দিতে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জন করছেন।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মুহাদ্দীস আব্দুল খালেক নির্বাচন বর্জন করেছেন।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে তার নির্বাচন পরিচালক শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু এ ঘোষণা দেন।
তার প্রার্থী মুহাদ্দীস আব্দুল খালেকের স্ত্রী, সাজেদা বেগম, শ্যালক মাওলানা আতিয়ার রহমান ও মুজিবর রহমানকে ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচন বৈধ করতে তিনি রাজি নন।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নির্বাচন বর্জন করেছে ধানের শীষের প্রার্থী। রোববার বেলা ১২ টায় ধানের শীষের প্রার্থী কারাবন্দি মাওলানা আব্দুল হাকিম এর পক্ষে তার বালিয়াডাঙ্গীর বাসায় সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তার স্ত্রী জাকিয়া জাবিন। ভোটের আগের রাতে প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যলট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, ভোটের শুরুতেই ১০৪টি কেন্দ্র দখল করে পোলিং এজেন্টদের  মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও ভোট দিতে বাধা প্রদান, এছাড়াও যেসব ভোটর কেন্দ্রে গিয়েছিল তাদের প্রকাশ্যে নৌকা মাকায় সীল মারতে বাধ্য করার প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।
জাকিয়া জাবিন আরো বলেন, এসব অভিযোগ রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রিজাইডিং অফিসারদের জানালেও কোন প্রকিীার পাওয়া যায়নি। এই সংকটময় ভয়ংকর পরিবেশের কারণে নির্বাচন বর্জন করলাম।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পার্বতীপুর-৫ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনিত এমপি প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল রোববার দুপুর আড়াই টায় ফুলবাড়ী পার্বতীপুর নির্বাচনী-৫ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনিত প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে তার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হচ্ছে না।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে এ অনিয়মের অভিযোগ করে ভোটাররা। ভোটারদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, একজনের ভোট অন্যজন প্রদান, ধানের শীষের এজেন্ট পরিচয়ে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীদের এজেন্ট নিয়োগ, সরাসরি ভোট প্রদানে বাধ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন ভোটাররা।
অভিযোগে জানা যায়, কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীরা ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভোটাররা।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের তারাগুনিয়া কেন্দ্রের ধানের শীষ প্রতিকের ভোটারদের অভিযোগ করেন, তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকার একচেটিয়া ভোট মেরে নিয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের পোড়াদহসহ বেম কয়েকটি কেন্দ্রের ধানের শীষের সমর্থকরা ভোট দিতে গেলে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক ভোট মেরে নেয়া হয়।
কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের আলামপুর, পাটিকাবাড়ীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা মেরে নেয়ায় পরবর্তীতে বেলা ১০ টার পরে ধানের শীষের সমর্থকরা আর কেউ কেন্দ্রে যায়নি।
কুষ্টিয়া মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে গেলে কাউকে বের করে দেয়া হয়, কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।
অপরদিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের যদুবয়রা, কয়া ও খোকসার বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকার নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক সিল মেরে নেয় বলে বিএনপি জোটের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমী অভিযোগ করেন। তিনি লিখিত বিবৃতিও প্রদান করেন।
মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, যশোর থেকে : যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর উপস্থিতে ধানের শীষের প্রাথীর উপর দুই দফা হামলা, গাড়ি ভাংচুর, বোমা বৃষ্টি ও এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল মধ্য দিয়ে নিববিঘœ পরিবেশের নৌকা প্রতিকে সিল মারা উৎসাব চলেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে পুলিশ ভোটারদের বের তাড়িয়ে দিয়ে এ উৎসবে সহায়তা করেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভ্রামমান টিম কে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি ভোটারা। পূর্বের সিল মারা ব্যালট বস্তায় ভরে এনে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ করেছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী।গতকাল সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত পরিদর্শন কার সব কেন্দ্রেই এ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
যশোর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বারান্দিপাড়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে পুলিশের সামনেই বোমা বিস্ফরণ ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি ও এক সাংবাদিক আহত হন। এ সময় সন্ত্রসীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে বীরদর্পে চলে যায়।
যশোর মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে নৌকা প্রার্থীর এক জন এজেন্ট বুথ থেকে এসে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রধান নির্বাচনিএজেন্ট পিজাইডিং অফিসার কে খুজতে গিয়ে দেখেন তিনি দরজা আটকে ভিতরে বসে আছেন। কেন্দ্র এলাকা কোন ভোটার নেই। অথচ রাস্তায় শত শত ভোটার ভোট দিতে পারিনি বলে চিৎকার করছে। প্রাথীর গাড়িতে তৃতীয় দফা হামলা হয়েছে যশোরে ইনস্টিটিইট স্কুল কেন্দ্রে। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শেনে ভিতরে
ঢুকলে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে তার গাড়ি ভাংচুর করে।
 প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন ভোটার জানান, শংকরপুর গোলাম প্যাডেল স্কুল কেন্দ্রে বস্তায় ভরে পূর্বের সিল মারা ব্যালট পিপার আনা হয়। এর পর পিজাইডিং অফিসার জানতে জান কেন্দ্রে কোন ধানের শীষের এজেন্ট আছে কি না। তিনি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যালটগুলো বাক্সে ভরার নির্দেশ দেন।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের র্শীষ প্রতীকের কোন নির্বাচনী এজেন্ট ছিল না কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ৪৭ কেন্দ্রে। সব কেন্দ্রেই শুধু নৌকা মার্কার সমর্থিত প্রার্থী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র এজেন্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সর্ম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, ধানের শীর্ষ প্রতীকের এজেন্ট হওয়ার জন্য কোন ব্যাক্তি আসেনি বা কারোও আবেদন আমরা পাইনি।
বগুড়া অফিস: ভোটরদের মাঠে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোট ডাকাতদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘ ১০ বছর পর বুক ভরা আশা নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন ভোটাররা। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ সদস্যদের সামনেই প্রকাশ্যে জোর করে নিজেদের প্রতীকে সিল মেরেছেন শাসক জোটের সমর্থকরা। এসময় কেন্দ্রের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের অসহায় দেখা গেছে। এছাড়া বগুড়ার ৪টি আসনে আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বগুড়া-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৫ আসনের প্রায় সবকটি কেন্দ্রে ঢুকে মহাজোটের কর্মীরা নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে নেয়। এছাড়া সকালে এসব আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয় তারা। বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার সব কটি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাহালু উপজেলার নারহট্র ইউনিয়নের শিলকৈড় মাদরাসা ও কল্যানপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে করে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মেনে নেয়। এ সময় প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে বাধ্য করা হয় ভোটারদের। সেখান থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। তবে বগুড়া -৬ ( সদর ) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে কিছু কেন্দ্র ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের খবর পাওয়া গেছে। ভোট কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ মোটামুটি শান্ত থাকলেও কাহালু উপজেলায় প্রতিপক্ষের হাতে এক যুবলীগ কর্মি নিহত হয়েছেন। ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিল করে পূনরায় তফসিল ঘোষনার দাবী করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না রোববার দুপুরে বগুড়া শহরে একটি হোটেলে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তার নির্বাচনী এলাকার ভোট বাতিল করে পুনঃতফশীল দাবী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও মহাজোট প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষের এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।
বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিরো আলম বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে মারধরের শিকার এবং ধাওয়া খেয়ে ঢুকতে পারেননি। এ কারণে তিনি ভোট বর্জন করেন।
বগুড়ার কাহালুতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন করেছে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাগইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পার্শ্বে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল হক (৩২) কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে এবং পাইকড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি।
বরিশাল ব্যুরো : বরিশাল-০৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর। ৩০ ডিসেম্বর বেলা ২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ভোটের আগে আমাদেরকে কোন রকম প্রচারণা করতে দেয়া হয়নি। প্রচারনায় নামার পর পিটিয়ে আমার পা ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।
নির্বাচনের নূন্যতম কোন পরিবেশ না থাকায় আমি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নূরুর রহমান জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শারমিন আক্তার লুবনা ও বোন রওশন জাহান।
ভবিষ্যতে দলীয় কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হয়, তার প্রমান আমরা বিগত সিটি নির্বাচন ও আজকের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বুঝে গেছি। অতএব আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিজ্ঞা করছি যে, জীবনে আর কখনো দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করে সরোয়ার বলেন, অধিকাংশ ভোট কন্দ্রে থেকে আমাদের ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে আসাই উচিত হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং সিইসির কথায় বিশ্বাস করে চরম খেসারত দিয়েছি। যেখানে পুলিশরা রিটার্নিং অফিসারের কথা শোনে না সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে এর চেয়ে আর ভালো কী আশা করা যায়।
বরিশাল নগরীতে হামলায় হাতপাখার ৭ কর্মী আহত
বরিশাল নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের বারৈজ্জারহাট ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে না দিয়ে নিজেরা নৌকায় সিল মারতে গেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার কর্মীরা প্রতিবাদ করে।ে এক পর্যায়ে নৌকা ও হাতপাখার কর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে সকাল ১০টার দিকে নৌকার কর্মীরা হাতপাখার কর্মীদের উপর প্রচন্ড বেগে লাঠিচার্জ করে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে হাতপাখার কর্মী হাফেজ ইব্রাহীম খলীল, মুহাম্মাদ হুসাইন, জিহাদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আব্দুল কাইউম, বশির খান, হাফিজুর রহমান কে আহত করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে মোবাইলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর অফিস : সংঘর্ষ, হতাহত, ভোট কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, গণহারে নৌকায় সীল মারার মহোৎসবের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ৬টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় বিরল উপজেলার মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একজন নিহত হয়েছে। জেলার অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কার কর্মীরা গণহারে নৌকায় সীল মারতে থাকে। সেজন্য দুপুর ১২টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। ভোটাধিকার হারায় অনেক ভোটার। এদিকে ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের থাকতে না দেয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুর-১ ও দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন।
গতকাল রোববার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে ৬টি আসনের ৭৯১টি ভোট কেন্দ্রের নৌকা মার্কার পোলিং এজেন্টরা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ধানের শীষের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। কিছু কিছু কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে থাকতে চাইলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ফলে ১ ঘণ্টার মধ্যেই জেলার সকল কেন্দ্র বিএনপি জোটের পোলিং এজেন্ট শুণ্য হয়ে যায়। এই সুযোগে নৌকার কর্মীরা পোলিং অফিসারের নিকট ব্যালট বই নিয়ে গণহারে নৌকায় সীল মারতে থাকে। বেলা ১২ টা বাজতে না বাজতেই অনেক কেন্দ্রে ব্যালট শেষ হয়ে যায়। ফলে দুপুরের পর অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ভোটাররা আর ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ায় দুপুরের পর থেকে সকল কেন্দ্রই ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে। এদিকে দুপুর ১২টায় বিরল উপজেলার শহরগ্রাম মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় নিহত হয় কিনা মোহাম্মদ (৬৫)। তিনি বিরল উপজেলার ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত চান্দু মোহাম্মদের ছেলে। জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রহমান মুরাদ ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাসান আলীর সমর্থকদের মধ্যে শহরগ্রাম মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোট দিয়ে কিনা মোহাম্মদ বাড়ি ফিরছিলেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখে ভয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় তিনি রাস্তার ওপর পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে প্রহসনের এ নির্বাচনের সার্বিক চিত্র দেখে ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ বিভিন্ন মন্তব্য করেন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকার ভোটার জামিনুর রহমান বলেন, ‘একি আজব নির্বাচন-ভোট দিল প্রশাসন’। তিনি বলেন, আমার জীবনে আমি এমন ভোট কোনদিন দেখিনি। প্রশাসন নিজেরা ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তির নজিরও মনে হয় এটাই প্রথম।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রতিদ্বন্ধিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোথাও ধানের শীষ ও গোলাপ ফুলের কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি। দুই একটি কেন্দ্রে হাতপাখার এজেন্ট পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরের ৬টি আসনে বিছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছোটখাটো ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কোন কেন্দ্রে ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে ২টার মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে ছিল।তবে ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম। বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রই জয়ের আশাছেড়েই দিয়েছে । এ রিপোর্ট লেখার সময় ভোট গণনা চলছে। ৬টি আসনের ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করেছে‘বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা। দুপুর ২টার পর তাদের আর মাঠে পাওয়া যায় নেই ।
রংপুর- ৩ (সদর) আসনের মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান এমপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে ভোট দিতে আসেননি। একই কেন্দ্রে রংপুর সদর আসনের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী রিতা রহমান জানান, এখন পর্যন্ত রংপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
রংপুর -২ (বদরগজ্ঞ -তারাগজ্ঞ) আসনের বদরগজ্ঞ পৌসভার ৭ নং ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্র নৌকার কর্মীরা ব্যালট পেপার নিয়ে সীল ১১টার দিকে মারা শুরু করলে লঙ্গলের কর্মীদের সাথে সংর্ঘষ বাধে । মধুপুর ১০ নং ইউনিয়ন নৌকার পক্ষে সীল মারা সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় ।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টায় দেখা যায়, সেখানে ৪০% ভোটার ভোট দিয়েছে। এ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার আহসান হাবিব বলেন, এখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ভোট গ্রহণের সময় এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে ব্যাপক পিটিয়েছে বিএনপির সমর্থক ও কর্মীরা।রোববার সকাল ১০টার দিকে পীরগাছার দাউতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আসাদ্দুজ্জামান মন্ডল(উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও রংপুর-১ আসনের মহাজোট প্রার্থী মশিয়ার রহমান রাঙ্গা রংপুর গঙ্গাচড়া সরকারি বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
রংপুর- ৫মিঠাপুকুর এলাকায় আওয়ামীরীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই সীল মেরে ভোট দিয়েছে । পায়রাবন্দ ভোটকেন্দ্রে ১২টার মধ্যে ভোট দেয়া শেষ হয়। মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যায় কেন্দ্রে রাবিব নামে এক জন ভেটার জানান ভোট দিতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা জোর করে সীল নিয়ে নিজেরাই তার ভোট দিয়েছে। রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনের সরকারী দলীয় নেতা কর্মীরা জোর পূর্বক কেন্দ্র দখল করে । বিএনপি প্রার্থি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। সকালে ১১ টার মধ্যে আর কাউকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি।
ইমরান কবীর, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জোরপƒর্বক নৌকা মার্কায় সীল মারার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের ৭ টি আসনে বিএনপির মনোনীত (ঐক্যফ্রন্ট) ধানের শীষের ৭ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচন বর্জন করেছেন।তারা হলেন, হালুয়াঘাট-১ আসনেরর আফজাল এইচ খান, ফুলপুর-২ শাহ শহীদ সারোয়ার, গৌরীপুর-৩ ইঞ্জি এম ইকবাল হোসেইন, মুক্তাগাছা-৫ জাকির হোসেন বাবলু, ফুলবাড়ীয়া-৬ ইঞ্জি শামছুদ্দিন আহমেদ, গফরগাঁও-১০ সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ (এলডিপি), ভালুকা-১১ ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
গতকাল রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে প্রার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন।প্রার্থীরা অভিযোগ করে জানান, শনিবার রাত থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কা সীল মেরেছে। আজ সকালে পোলিং এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে গেলে তাদের বের করে দেয়া হয়।এছাড়াও অনেককে কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হয়নি ও মারধর করা হয়েছে। তখনও জোরপƒর্বক নৌকা মার্কা সীল দেয়া হয়। তাই নির্বাচন কমিশনারের কাছে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে অনেক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। দুপুরে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
রুহুল আমিন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাইরুল ইসলাম সজিব জানান, ভোটের আগেরদিন থেকে অবরুদ্ধ এবং নিজের ভোট দিতে যেতে না পারা ও পোলিং এজেন্টসহ ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে তার পিতা আজহারুল ইসলাম মান্নান ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন।
সরেজমিনে জানা যায়, কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে সকাল ১১টার সময়ই ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার নুরুতুন নেছা দুপুর ১২টায় ভ্যালট পেপার না থাকায় ভোট দিতে না পারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনারগাঁ পৌসভার বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ বকুল দুপুর ১টায় তার কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ভ্যালট পেপার না থাকায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন আমাদের নতুন সময়ের প্রতিবেধককে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা : ভোট কেন্দ্রে হামলা বিএনপি-আওয়ামীলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়েছে। নোয়াখালী-৩ (বেগমগজ্ঞ) একটি কেন্দ্রে দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য। প্রিজাইডিং অফিসারের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটনা ঘঠেছে। কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর ও ভোট গ্রহনের সুষ্ঠ পরিবেশ না থাকায় নোয়াখালীতে ৫টি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন।
জেলা রিটানিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সোনাইমুড়ি নবাবগজ্ঞ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি সমর্থকরা কেন্দ্রে হামলা চালায় প্রিজাইডিং অফিসাসহ অন্যন্যদের ব্যাপক মারধর করে। এ সময় আনসারের ১০ নারী ওপুরুষ সদস্য আহত হয়। এদরে মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় প্লাটুন কমান্ডার আবদুল মতিন(৪৫) কে সোনাইমুড়ি উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়ছে। কেন্দ্র দখল ভাংচুর ব্যালট পেপারসহ ভোট গ্রহনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ছিনতাই অভিযোগ এবং ভোট গ্রহনের পরিবেশ না থাকায় নোয়াখালী -৩ (বেগমগজ্ঞ) আসনের র্প্বূ বাবু নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমানউল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নরোত্তম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। নরোত্তম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হামলার সময় গুরুতর আহত হয় কেন্দ্রের প্রিজাডিং অফিসারসহ ৬ জন। এসময় হামলাকারীরা প্রিজাডিং অফিসার ও সহযোগিদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি মিনি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। নোয়াখালী -৩ (বেগমগজ্ঞ) গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ২টার দিকে বিএনপি-আওয়ামীলীগ সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে একদল দূর্বৃত্ত আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সেখানে কর্তব্যরত আনসার সদস্য তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় দূরৃত্তর্রা তাকে লক্ষ্য করে পিছন দিক থেকে গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
নোয়াখালী আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ডেন্ট সৈয়দ ইফতেখার আলী জানান, নিহত আনসার সদস্য নূর নবী হেঞ্জু) সে বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের জয় নারায়নপুর গ্রামের আবদুল মতিনের পুত্র। দায়িত্ব ও কর্ত্যবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে নিহত আনসার সদস্য নূর নবী।
বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত এর জন্য নোয়াখালী জেনারেল হসপিটালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর : চাঁদপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে ভোট বর্জন করেছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। গতকাল ভোট গ্রহন কালে এসব আসনগুলোর প্রতিটি কেন্দ্রে আ’লীগের নেত-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি করে। বিএনপির এজেন্টদেরকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ইচ্ছামতো ব্যালোট পেপারে নৌকার সিল মারে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়। এসব অনিয়মের অভিযোগে চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন গতকাল দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণ দেন। তিনি আরো বলেন, গত ১২ দিন যাবত তিনি তার নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েও তিনি ভোটারদের কাছে যেতে পারেন নাই। এদিকে চাঁদপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ও চাঁদপুর-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্র্থী লায়ন হারুনুর রশিদও স্থানীয় সাংবাদিকগনের কাছে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছামতো নৌকা মার্কায় সীল মারে। চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক অভিযোগ করেন গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ভোটের দিন পযর্ন্ত তিনি নিজ বাসায় অবরুদ্ধ। চাঁদপুরের রির্টানিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীর সাথে অভিযোগ করেও কোন ফল পান নাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধমে বহুবার আবেদন করেও কোন রেজাল্ট পাননি। তার বাসার নেতা-কর্মী দুরের কথা কোন সাংবাদিকও প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ বাহিনী। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর নেতা কর্মীরা ইচ্ছা মতো কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি করেছে।
শাহজাহান, (তাড়াশ) সিরাজগঞ্জ থেকে : সিরাজগঞ্জ ১,২,৩,৪,৫,৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন।
গতকাল দুপুর ১২টার সময় সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ধানের শীষের প্রাথীরা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেছেন। রায়গঞ্জের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদার তার নিজ বাড়ী ধুপিল থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, নজিরবিহীন অনিয়ম দুনীর্তি ও হতাশার নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীন অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হয়না এটাই তার প্রমাণ। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন আমার অধীন সুষ্ঠ ভোট হবে সেই বিশ্বাসে আমরা এক যোগে নির্বাচনে এসেছিলাম কিন্ত হামলা মামলা ভাঙচুর পুলিশ প্রশাসনের গ্রেফতার ভোট কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নাই যদিও কিছু বিএনপি এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকেছিল আওয়ামী লীগের লোকেরা তাদের পিটিয়ে বের করেদিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা থেকে বের করেদিয়েছে। তিনি বলেন,রাত্রেই ভোট কেটে বাস্্র ভোরে রেখেছে। সুতরাং সরকারের প্রশাসনের সাজানো নীল নকসার এই প্রহসনের নির্বাচনের ভোট থেকে ভোটারেরা ভোট বর্জন করেছে তাই আমি এই নির্বাচন থেকে ভোট বর্জন করছি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন,প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সভাপতি সলঙ্গা থানা বিএনপি রাশিদুল হাসান পাপন সিনিয়র সহ সভাপতি মেহেদী আলম পারভেজ,সহ-সভাপতি সম আনোয়ার হোসেন পারভেজ,তথ্যও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ,তাড়াশ রায়গঞ্জে বিএনপির মুলদল ছাত্রদল যুবদলের নেতৃবৃন্দ।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের সবগুলো আসনেই অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রেই একই চিত্র পাওয়া যায়। সরেজমিন ঘুরে, বিভিন্ন উপজেলা সংবাদ ও প্রত্যক্ষ দর্শীদের দেয়া সূত্রে এ সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। টাঙ্গাইল- ০৪ কালিহাতী আসনের ৮২ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সকাল ১০.৩৮ মিনিটে মহিলা ভোটারদের ২টি বড় লাইন দেখা যায়। এছাড়া সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় কোন কেন্দ্রেই ভোটারদের লাইন দেখা যায় নি। প্রত্যেক কেন্দ্রেই শুধুমাত্র নৌকার ভোটাদের জটলা ভোট কেন্দ্রের ভিতরেই দেখা যায়। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রেই বাইরে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরকে দাড়িয়ে ভোট তদারকী করতে দেখায়। অন্য কোন দল বা প্রতিকের কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোতেই পুলিশকে কেন্দ্রের ভিতরে অথবা প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে পাওয়া যায়। কেন্দ্রের ভিতরে ধানের শীষের প্রতীকের এজেন্ট না থাকা প্রসঙ্গে অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রিজাইডিংগণ বলেন মনে হয় বাহিরে গিয়েছেন, কেউ বলেছেন টয়লেটে গিয়েছেন।
৩৪ নং তাতীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারই নন এমন একজন মেয়ে (সুমি) একবার ভোট দিয়ে ২য় বার এসে ধরা পরলেও প্রিজাইডিং এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যে বুথ থেকে সুমি ব্যালট নিয়েছেন সেখানকার সহকারী প্রিজাইডিং আশরাফুন সিদ্দিকী কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কোন মারামারি বা হাতাহাতি না হলোও নিরাপদে যথেষ্ট কৌশলে নৌকার কর্মীরা দফায় দফায় সিল মেরে ভোট নেয়। এলেঙ্গা বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি পর্যবেক্ষক টিমকে দেখে ৭/৮ জন যুবক দ্রুত ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেলে এ প্রসঙ্গে প্রিজাইডিং তাদেরকে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি বলে জানায়। টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, ভূঞাপুর ও কালিহাতীসহ বিভিন্ন আসন থেকে আমাদের সংবাদদাতা এমনই চিত্রই জানিয়েছেন।
মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারী জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই মহাজোট প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্র্টির প্রার্থীর সমর্থক পোলিং এজেন্ট ও প্রশাসনের লোকজন দলবদ্ধভাবে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সীল মারা, ধানের শীষ ও হাতপাখা মার্কার পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তা থেকে বাড়ি ফেরত দেয়া, অনেকে কেন্দ্রে গেলেও তাদের মারপিট করে ফেরত পাঠানো, ভোটারদের হাত থেকে সীল কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা ও লাঙ্গলে সীল মারাসহ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে নীলফামারী-২ (সদর) ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম ও নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শহিদুল ইসলাম পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী নীলফামারী শহরস্থ তার নিজ বাসভবন জামান ভিলায় দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনী এলাকার সোনারায় ইউনিয়নে ভোটের আগের রাতে (২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১১ টা) নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে এবং ধানের শীষের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়। এরপরও ওই ইউনিয়নের বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা গেলে তাদের প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে আটক করে রাখে নৌকা সমর্থকেরা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
একই অবস্থা ছিল কুন্দপুকুর, পুটিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব কেন্দ্রেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বেধড়ক মারপিট করা হয়।
এদিকে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নৌকা মার্কার সমর্থক তথা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে লাঠি সোটা নিয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের এলোপাথারী মারপিট করে কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছে। তারপরও ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদের কাছ থেকে সীল ও ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকা মার্কায় সীল মারার পর ব্যালট বাক্সে ফেলা হয়েছে।
একইভাবে নীলফামারী-৪ আসনের মহাজোট প্রার্থী লাঙ্গল মার্কার আহসান আদেলুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তা থেকেই বাড়িতে ফেরত পাঠানো, কেন্দ্রে যাওয়া পোলিং এজেন্টদের মারপিট করে বের করে দেয়া, ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার ও সীল কেড়ে নিয়ে লাঙ্গল মার্কায় প্রকাশ্যে দলবদ্ধভাবে সীল মারা ইত্যাদি ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে সৈয়দপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দলের সৈয়দপুর উপজেলা সেক্রেটারী হাফেজ নুরুল হুদা।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই পীর সাহেব চরমোনাই বলেছিলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারেনা। আজ তাই প্রমানিত হলো। ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেননি। তারা জনগণের সাথে নির্বাচনের নামে তামাশা করেছে মাত্র।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাটের ২টি আসনে বিছিন্ন ঘটনা, ৪ প্রার্থীও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জয়পুরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আসম মোক্তাদির তিতাস বেলা ১টায় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন। অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এইএম খলিলুর রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শহরের থানারোডের নিজ বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ভোট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়পুরহাট-১ আসনে ডাঃ জহুরুল ইসলাম ও জয়পুরহাট-২ আসনে আব্দুল বাকী জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে বেলা ৪টায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের ভোট বর্জনের কথা জানান। তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনরায় নির্বাচনের দাবীও জানান।
এদিকে জয়পুরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আসম মোক্তাদির তিতাস বেলা ১টায় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করে তিনি বলেন,বেলা ১২ টার পর কোন ব্যালট দিতে পারেনি প্রিজাইুডিং অফিসারগন এজন্য অনেক লোক ভোট দিতে না পেরে ঘুরে চলে গেছেন।
 অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এইএম খলিলুর রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শহরের থানারোডের নিজ বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ভোট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।বেলা ২টায় রিটানিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করে ভোট বর্জনের ঘোষনা প্রদান করেন। জয়পুরহাট ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ,ই, এম, খলিলুর হমান জানান আমি ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছি এই এলাকা থেকে এখানে বিএনপির ঘাটি প্রায় ৪০ হজার বেশী ভোট পেয়ে আমি ৩ বার জয়লাভ করেছি। অথচ প্রশাসনের সহায়তায় আগেও রাতে তারা বাক্সে সীল মেরে বাক্স ভর্তি কওে রেখেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিভিন্ন ঘটনায় ২ জন নিহত ॥ আহত ২০
চট্টগ্রাম ব্যুরো- বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে নানা অনিয়ম, সরকারি দলের  নেতাকর্মীদের কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদান , পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে।
এ ছাড়া নির্বাচনের দিন সংঘর্ষে বাঁশখালী ও পটিয়ায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে একজন জাতীয় পার্টি কর্মী ও অপরজন ইসলামী ছাত্রসেনার কর্মী । এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ২০ জনের ওপর আহত হয়েছে।
পটিয়া থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।নিহত আবু সাদেক দক্ষিণ মালিয়ারা এলাকার আবুল কাশেম মেম্বারের ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রসেনার কর্মী বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল গনমাধ্যমকে বলেন, ‘পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ইটের আঘাতে আবু সাদেক নামের ওই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার দিবাগত রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নে দুর্বৃওদের ইটের আঘাতে কুসুমপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক দিল মোহাম্মদ বাছা (৩৫) নিহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, পটিয়ায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিলিতে বাধা দেওয়ায় এই যুবলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে । খুনের ঘটনায় পটিয়া থানা পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাশঁখালী থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৬ নির্বাচনী আসনের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বরইতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদেও মধ্যে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলীতে আহমেদ কবির (৩৫) নামে জাতীয় পর্টি (এরশাদ) এর এক কর্মী নিহত হয়েছে।চট্টগ্রাম-১৬ আসনের জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও লাঙ্গল প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী গনমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, রাত ৩টার মধ্যে এ আসনের প্রায় বেশিরভাগ ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সরকারদলীয়রা আগেভাগেই ব্যালট বাক্সে ভরে রাখছিল। এ পরিস্থিতিতে বরইতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পার্টির কর্মী আহমেদ কবির বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে গুলী করে। গুলীতে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এর সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই পক্ষই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছোঁড়ে। আহমেদ কবির গুলীবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তখন পুলিশের দুটি অস্ত্র খোয়া যায়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এমরান ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকিং করিয়ে অস্ত্রগুলো স্থানীয় চৌকিদারের কাছে জমা দিতে বলেন। সকাল ১০টার দিকে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে হাটহাজারী থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। গতকাল রোববার বিকাল ৩টার দিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম গনমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছি।তিনি জানান, জনগণ যেহেতু তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি, প্রতিবাদ স্বরূপ আমিও ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছি। ভোট দিতে যাইনি।
চট্টগ্রাম ১০ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা গতকাল রোববার সকালে অভিযোগ করেছেন রাতেই ব্যালটে সিল মেরেছে নৌকার সমর্থকরা ও অধিকাংশ কেন্দ্র দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তারা অভিযোগ করেন,চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের ১৪ নং লালখানবাজার ওয়ার্ডের লালখান বাজার মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৮টার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি ভোটের বাক্স দেখা গেছে। ভোট শুরুর আগেই স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে জাল ভোট দেয়। এ ছাড়া সকাল থেকে চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের খুলশী থানার মতিঝর্ণা, পুলিশ লাইন স্কুল, রেলওয়ে স্কুল, পলোগ্রাউন্ড স্কুল, পাহাড়তলী কলেজসহ সংসদীয় আসনের অধিকাংশ কেন্দ্র ভোর থেকেই দখল করে রাখে আওয়ামী লীগের লোকজন। সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা। এই আসনের অধিকাংশ সেন্টারের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।তারা অভিযোগ করেন, নগরীর পাহাড়তলী কলেজ কেন্দ্র থেকে খুলশী থানার ওসি নিজেই বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন । ১৪ নং ওয়ার্ডের পুলিশ লাইন্স কেন্দ্রে ছাত্রলীগের বাধা দেয়ার পরও ভোট দিতে চাওয়ায় তিনজন ভোটারকে কেন্দ্র থেকে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছে চট্টগ্রাম-১১ আসনের হালিশহর, বন্দর থানার অধিকাংশ এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে রাতেই ব্যলট পেপারে সিল মেরে রেখেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রসাীরা। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের গেইটে পাহারা বসিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। পরিচিত লোকজন ছাড়া সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি তারা।এছাড়াও চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ সিডিএ কলোনী ভোট কেন্দ্রে প্রায় ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করেছে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা।
 নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপির চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার দুপুরে গনমাধ্যমকে বলেন, ভোট তো রাতেই হয়ে গেছে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী করব।ভোট হয়েছে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। সকাল থেকে যেটা হচ্ছে, উচ্ছিষ্ট বা অবশিষ্ট যেগুলো আছে সেগুলোও দখলে নেওয়ার চেষ্টা। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে ভোটের এরকম চিত্র জনগণ অতীতে কখনও দেখেনি।তিনি বলেন,আমি ভোট দিয়ে লাভ কী! যেখানে জনগণ ভোট দিতে পারছে না, সেখানে আমার ভোটে কি হবে? গ্রেফতার করা, জেলে নেওয়া, মারধর করা, গুলী করা- নির্বাচনের নামে এই প্রহসনের দরকার কি ছিল? ক্ষমতাসীনারা দেশটাকে নষ্ট করেছে, এখন সমাজের সহাবস্থানটাকেও নষ্ট করছে। তিনি বলেন,আমার আসনে সকাল ৯টায় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। আমি তো শতভাগ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত এজেন্ট পাঠিয়েছিলাম। তাদের অনেককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অনেককে বের করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের প্রার্থী ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য বের হলেও বাধা পেয়ে বাসায় ফিরে এসেছি। আমি চান্দগাঁও থানার সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটার। সকাল থেকে এই ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের ৮ জন এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করে গনমাধ্যমকে বলেন, আমার আসনের কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত এজেন্টরা ঢুকতেই পারেননি। গতকাল রাত থেকে এজেন্টদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্র দখলে নেওয়া হয়েছে। এরকম নির্বাচন জনগণ প্রত্যাশা করেনি।
এদিকে চট্টগ্রাম ৯ কোতওয়ালী বাকলিয়া আসনে সকাল থেকে ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহন করা হয়। এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিতে সকাল ১০ টার পর ভিড় পরিলক্ষিত হয়। ৯ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোট দিতে গিয়ে বেশ সমস্যা মধ্যে পড়তে হয় বলে ভোটাররা জানান। তারা বলছেন,এন আইডি কার্ড মেশিনে দেয়ার পর অনেক ভোটারের আংগুলের ছাপ মিলতে সমস্যা হচিছলো। তাই ভোট গ্রহনে সময় নস্ট হয় ও ভীড় বেড়ে যায়। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা জানিয়েছে, নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট থাকলেও তারা কেন্দ্রে অনান্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের দেখেননি। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, সরকারি দলের হুমকির কারণে পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারেনি।
এদিকে সংসদ নির্বাচনে নিজের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওফেল। সকাল ৯টায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নিজের ভোট দেওয়া শেষে নওফেল এসব কখা বলেন। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, গতকাল রাত থেকে সারাদেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য আমরা সবাইকে বলেছি সতর্ক থাকতে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটাররা অভিযোগ করেছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কারণে অনেকে কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেনি।বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি জামায়াত সমর্থক হিসাবে পরিচিতদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য রাতেই বারন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ যুব লীগ ছাএলীগ নেতাকর্মীরা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পর সরকারি দলের নেতাকর্মীরা তাদের ভোট হয়ে গেছে বলে চলে যেতে বাধ্য করে। এনিয়ে ভোটারদেও মধ্যে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়।
এদিকে পটিয়ায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. এনামুল হক পটিয়ার বিভিন্ন স্থানে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ও মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন । গতকাল রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে পটিয়ার লড়িহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে অভিযোগে বলেন, পটিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। সালেহনুর কলেজে বিএনপি এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। লড়িহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার নির্বাচনী এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে স্কুলের পেছনে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রে আসতে দেয়া হচ্ছে না ভোটারদের। সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রের সামনে ফাঁকা গুলী ছোঁেড় ও লাঠি হাতে ভোটারদের তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। এসব কাজে নৌকার সমর্থকদের সাথে পুলিশকেও ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। নৌকার সমর্থকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘গতরাতেই তোমাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে। তোমরা এখন বাড়ি ফিরে যাও।’ বাধার মুখেও কিছু ভোটার লাইনে যেতে চাইলে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনির কর্মকর্তা, বিজিবির কর্মকর্তাদের সহযেগিতা চাইলেও কোনো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর চিফ এজেন্ট জাফর সাদেক। কোনো কোনো কেন্দ্রে পুলিশ নৌকার সমর্থকদের চেয়েও বাড়াবাড়ি করছেন বলে জানিয়েছে সাধারণ ভোটাররা।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান,বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন কোন কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিয়েছে সরকারি দল ও প্রশাসনের লোকজন। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় সকল গ্রামে। বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন।
সীতাকুন্ড(চট্টগ্রাম)সংবাদদাতা জানান, ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে সীতাকুন্ডে বিএনপি ভোট বর্জন করেছে বলে সীতাকুন্ড বিএনপির আহ্বায়ক তফাজ্জল হোসেন জানান । নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান সারাদেশের মত সীতাকুন্ডেও নীল নক্সার নির্বাচন হয়েছে। রাতেই তারা প্রতিটি কেন্দ্রে নৌকার কর্মীরা গিয়ে অর্ধেক ব্যালেটে সীল মেরে রাখে এবং দিনে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়নি সাধারণ ভোটারদের। চট্টগ্রাম -৪ সীতাকুন্ড কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের নিদিষ্ট কর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে দেখা যায়নি। সীতাকুন্ড বানুবাজার মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর বড় ভাই ইসাহাক কাদের চৌধুরী সকালে ভোট দিতে গিয়ে বোমা হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হেয়েছে। এছাড়াও এতে আরো ৪ জন আহত হন। গতকাল রবিবার সকালে বানুবাজার মাদ্রাস কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদেরকে ভোটদানে বাধা দান, কেন্দ্র দখল এবং ধানের শীষ প্রতিকের এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেচ্চাসেবক দলের সভাপতি মোঃ মোরসালিন জানান,আমাদের প্রাথীর বড় ভাই ইসহাক কাদের চৌধুরী(৭০) তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বানু বাজার মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে নৌকা মার্কার সমর্থকরা তাদের উপর বোমা হামলা করে। এতে এছহাক কাদের চৌধুরী গুরুতর আহত হন। এ হামলায় প্রার্থীর ভাতিজী শারমিলা চৌধুরী,ভাতিজা আদনান চৌধুরী ও চাচাতো ভাই সামছুল হক চৌধুরীও আহত হন। আহতদেরকে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)সংবাদদাতা জানান, সুয়াবিল বারমাসিয়া বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে হাতপাখার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রার্থী আতিক উল্লাহ বাবুনগরী। ফটিকছড়িতে কেন্দ্র দখল, কারচুপির পাল্টা পাল্টি অভিযোগ করছেন তিন প্রার্থী।মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিএনপি প্রার্থী কর্ণেল আজিমুল্লাহ বাহার ও ইসলামি ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দীন মাইজভা-ারী রবিবার সকাল ১১টায় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। এদিকে ¡ রাত থেকে ফটিকছড়ির প্রায়- ১২০টি ভোটকেন্দ্রে ৬০/৬৫ শতাংশ ব্যালটে নৌকা মার্কায় সীল মারা, পালিং এজেন্টদের মারধর ও জোরপূর্বকভাবে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। রবিবার দুপুর ২টায় মাইজভান্ডারস্থ তার নিজ বাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মহাজোটের প্রার্থীর প্রতি জনসমর্থন ও ভোটারদের আস্থা না থাকাতে বিষয়টি তিনি পূর্ব থেকে আঁচ করতে পেরেছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকা তার জন্য অসম্ভব ভেবে তিনি এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এই রকম ঘৃন্যতম কাজটি সম্পন্ন করেছেন। যা নিবাচর্নী আইনে সম্পূর্ণ বেআইনী ও শাস্তিমূলক অপরাধ। সকালে উপজেলার নারায়নহাট হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার নিয়োজিত পোলিং এজেন্ট নাইম উদ্দিনকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। এই কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার প্রতিবাদ করে চ্যালেঞ্জ করলে প্রিসাইডিং অফিসার অভিযোগটি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর সন্ত্রাসীরা তাঁকে জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকী প্রদর্শন করলে তিনি তার নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে সকাল ৮.৪০ মিনিটে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এছাড়া তিনি উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভা, বাগানবাজার, দাতমারা, নারায়ণহাট, কাঞ্চননগর, পাইন্দং, সুন্দরপুর নাজিরহাট পৌরসভা, নানুপুর, বক্তপুর, সমিতিরহাট, জাফত নগর, রোসাংগীরি, আবদুল্লাপুর ভোট কেন্দ্রসহ ১২০টিরও অধিক কেন্দ্রে সরকার দলীয় লোকজন প্রশাসনের সহায়তায় নিজ হাতে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কায় সীল মেরে ব্যালট বক্সে ঢুকিয়ে দেয়। সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে তিনি কর্মীদের অভিযোগ সত্যতা পান বলে দাবী করে বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় সরকারি দলের সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে সাধারন ভোটাররা কেন্দ্রের বাইরে নিরীহ ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে এ দৃশ্য অবলোকন করা ছাড়া তাদের করার কিছুই ছিলনা। যেসব ভোটার ভোট কেন্দ্রে গেছেন তাঁদের হাতের আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দিয়ে তোমাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি নিজেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধের স্ব-পক্ষের লোক দাবী করে আরো বলেন, আজকের ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে আমি একজন গণতন্ত্রকামী মানুষ হিসেবে খুবই মর্মাহত, লজ্জিত এবং ক্ষুদ্ধ। নির্বাচন কমিশন বার বার অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে আসলেও আজকে তার উল্টো প্রমাণ করেছে। ক্ষতি করেছে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা, জনগণের জান মাল ও সম্মান। গণতন্ত্র রক্ষায় এসব পš'া থেকে বেরিয়ে আসতে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারপুত্র শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-ই-মঈনুদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহসিন মোহন, শাহ মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রমুখ।
ডা. আব্দুল্লাহ তাহেরের নির্বাচন বর্জন
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি অনতিবিলম্বে এ নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে-একটি পুনঃতফসিল ঘোষণা করার দাবি জানান।
 রোববার সকাল ১১টায় তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় সাবেক এমপি ডাঃ তাহের বলেন, সম্মানিত চৌদ্দগ্রামের ভাই ও বোনেরা আস্সালামু আলাইকুম। আপনারা জানেন আজ সকাল ৮টা থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা অত্যন্ত বেদনার সাথে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছি-গতকাল শনিবার সন্ধা ৭টা থেকে ভোট কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি-বিভিন্ন কেন্দ্রে ৬০-৯০ ভাগ কেটে নৌকা মার্কার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই অন্যায় কার্যক্রমে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করেছে প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য। যদিও তাদের নৈতিক ও মৌলিক শপথের দায়িত্ব ছিল-এ সকল অন্যায় কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা। এটি ইতোমধ্যে একটি প্রহসনের নির্বাচনের পরিণত হয়েছে। এটি একটি প্রতারণার নির্বাচন। পূর্বে নির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন এবং পরিপূর্ণভাবে একটি ভুয়া নির্বাচন। এই ভুয়া নির্বাচনে আমি চৌদ্দগ্রামে ধানের শীষ মার্কার এজেন্ট না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ-এ ভুয়া নির্বাচনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা এ নির্বাচনকে বৈধতার দেয়ার একটি রাজনৈতিক এবং নৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। আমি নির্বাচন কমিশনকে আহবান জানাবো-অনতিবিলম্বে এ নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে-একটি পুনঃতফসিল ঘোষণা করা। সেই নির্বাচনে যাতে করে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে জনগণ তার মতামত দিতে সেই ব্যবস্থা গ্রহন করা। আমি চৌদ্দগ্রামের জনগণকেও এই নির্বাচন প্রত্যাখান করার জন্য অনুরোধ করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।
মানিকগঞ্জে দুপুর ১২ টার মধ্যে ভোট শেষ-বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : অনিয়ম আর দূনীর্তির মধ্যে দুপুর ১২ টা বাজার পূর্বেই বেশীর ভাগ কেন্দ্রে ভোট শেষ হয়েছে বলে ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা।জেলার ৩টি নির্বাচনী আসনের প্রায় বেশীর ভাগ কেন্দ্রেই ঐক্যফ্রন্ট পোলিং এজেন্টদের সকাল বেলাই বের করে দেন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা এমন অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা।মানিকগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাড,আব্দুল হামিদ ডাবলু ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন,মানিকগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গনফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম খান কামাল অভিযোগ করে বলেন,সরকার দলীয় লোকজান ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্রেই প্রবেশ করতে দেই নাই। দু-চার জন যারা প্রবেশ করেছিলন দুপুর ১২টার পূর্বেই তাদের জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
বাগমারায় বিএনপি’র ভোট বর্জন
রাজশাহীতে নিহত ২
রাজশাহী অফিস : গতকাল রোববার সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে ব্যাপক কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। বাগমারা আসনের বিএনপি’র প্রার্থী কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন।
গতকাল ভোট চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আ’লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আ’লীগ নেতা মোদাচ্ছের আলী (৪০) নিহত হন। তিনি মোহাম্মদপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোহনপুর উপজেলার পাইকপাড়া পাকুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আ’লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আ’লীগ কর্মী মিরাজুল ইসলাম (২২) নিহত হন। তিনি পাকুড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। এদিকে, রাজশাহীতে নৌকা প্রতীকের লোকদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল ও ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠে। রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী-১, ২ ও ৩ নম্বর আসনের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাজশাহী-১ আসনের তানোরে উপজেলা সদরের তানোর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও তানোর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকার কর্মীরা। পুলিশের সামনেই জালভোট দেয়ার সময় ধানের শীষের এজেন্টরা তাদের বাধা দেন। ঘটনা জানাজানি হলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ গুলী ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হন। এছাড়াও তানোর উপজেলার চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরস্থইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারিশো-দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়, তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রে মারামারির ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী-৩ আসনের পবা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এসময় আ’লীগ নেতাকর্মীরা কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নেয়। বেলা সোয়া ১১টায় এ আসনের নওহাটা কলেজ কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা বিএনপি নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রটি দখলে নেয়। এসময় নৌকার লোকদের হাতে ধারালো হাঁসুয়াসহ লোহার পাইপ এবং বাঁশের লাঠি ছিল। এসময় খসরু (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) পাঠানো হয়। এছাড়া একই আসনের নওহাটা গার্লস হাইস্কুল কেন্দ্র দখলে নেয় আ’লীগ নেতাকর্মীরা। এ কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। একই আসনের মোহনপুর উপজেলার বিশহারা এবং সইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলে নেয় নৌকার লোকেরা। মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অধ্যাপক আবদুস সামাদ জানান, আ’লীগ নেতাকর্মীরা ভোট গ্রহণের পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করে কেন্দ্র দখলে নিয়েছেন। পেশীশক্তির মাধ্যমে আ’লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে চাইছে।
তবে এসব ঘটনাকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ওয়ালিউর রহমান রানা বলেন, নগরীর জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই, বরেন্দ্র কলেজ এবং ডাশমারি হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। এছাড়া শনিবার দিবাগত রাতে বিএনপির ২৫ জন এজেন্টকে আটক করে শাহ মখদুম থানা হাজতে রাখা হয়। অপরদিকে নির্বাচন বর্জনকারী রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের বিএনপি’র প্রার্থী আবু হেনা এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, আ’লীগ প্রার্থীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাগমারা আসনের বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের ১৭৫ কেন্দ্রে রাতেই ভোট কেটে রাখে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদের ৮৬, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের ১৭৫টি কেন্দ্রের কোন কেন্দ্রেই ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি। কোন ভোট কেন্দ্রেই বিরোধী দলীয় ভোটারদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কারাবন্দী ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হারুন অর রশীদ। তিনি অভিযোগ করেন ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকেই রাম দা-ক্রিস, বিভিন্ন শ্রেণির দা, বাঁশের লাঠি, কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোটারদের ভোটের মাঠে গিয়ে হুমকি দেয়া হয় যেন ভোটের মাঠে কেউ না যায়। এরপরও ভোটের দিন সকালে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রবেশের বিভিন্ন মুখে বাশের লাঠি, রাম-দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। অন্যদিকে ভোটের আগের রাত থেকে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও মোবাইল টিমে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এরপরও প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটের আগের রাতেই প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের সহায়তায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট সীল মেরে ব্যালট বাকশে ভরে রাখা হয়। দুই উপজেলার কোন কেন্দ্রেই ধানের শীষের কোন এজেন্ট ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদেরও ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে সন্দেহে সকালেই পাশাপোল গ্রামের আদিলের ছেলে সহিদুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে একই গ্রামের রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা হাসাপাতালে ভর্তি করে। সকাল ৮টার দিকেই পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমানকে ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে মারপিট করে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। সকালেই ভোট কেন্দ্রের পাশের একটি হোটেলে নাস্তা করার জন্য পরাটা কিনতে গেলে সিংহঝুলি ইউনিয়নের সিংহঝুলি মল্লিকবাড়ি বাজারে আব্দুস সামাদ ওরফে বুড়ো নামে এক বিএনপি কর্মীকে ব্যাপক মারপিট করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে গয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে আলী হোসেন নামে এক ধানের শীষের কর্মীকে মারপিট করে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। মারপিটের পর আলীহোসেনসহ তিলকপুর বাজারের আব্দুর রাজ্জাক, তবিবর ও শামনুর রহমানের দোকান ভাংচুর করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।
কুমিল্লায় বিএনপি নেতাসহ দুইজন নিহত
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লায় কেন্দ্র দখল. ভোট জালিয়তি, আগেরদিন রাতে ছিল মারা, ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশ করতে না দেওয়া প্রশাসনে ব্যাপক অনিয়ম ধানের শীষ কর্র্মীদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্লা ১১টি সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলা এলাকায় বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে একজনকে হেলমেটপড়া সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের মোরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া ওই ইউনিয়নের সোন্দাইল-অশ^দিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলার চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ^র এলাকায় বেলা ১২টার দিকে মুজিবুর রহমান (৩৫) নামে একজন গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন বাচ্চু মিয়া। কেন্দ্রের অদূরে হেলমেট পরিহিত একদল সন্ত্রাসী তাকে কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়। এসময় বাঁধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রে যেতে চাইলে বাচ্চু মিয়াকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে নাঙ্গলকোট হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনের পৌর এলাকার বেলাশ^র গ্রামে মজিবুর রহমান নামে একজন পুলিশের গুলীতে নিহত হয়েছেন। তিনি জেলার মুরাদনগর উপজেলার লাজুর গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে। তিনি চান্দিনা পৌর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। চান্দিনা থানার ওসি আবু ফয়সাল জানান, এলডিপি-বিএনপির প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী বেলাশ^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলী চালায়। এতে গুলীবিদ্ধ হয়ে মুজিবুর রহমান মারা যান। ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন রিটানিং কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার অব্যাহত রাখে। পাশাপাশি নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা আমার নেতাকর্মীদের লাঠি সোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা, বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এমনকি নির্বাচনী পোষ্টার, ব্যানার, নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নী সংযোগ করে। এসব বিষয়ে আপনি এবং আইন শৃংখলা বাহিনীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বহুবার অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাইনি। তারপরেও ব্যাপক প্রতিকূল পরিবেশে আমি নির্বাচনের পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় অপেক্ষা করছি। শনিবার রাত থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নৌকার সমর্থকরা আমার দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হুমকী-দমকি ও হামলা অব্যাহত রাখে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। রাতভর বিভিন্ন স্থানে আমার সম্ভাব্য পুলিং এজেন্ট ও নেতাদেরকে টার্গেট করে লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা এবং বাড়ীঘর ভাংচুর করে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে । আজ সকাল থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং প্রায় সকল কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়। প্রিজাইডিং অফিসারদের উপস্থিতিতে আগত ভোটারদের প্রকাশ্যে টেবিলের উপরে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ের স্ব-স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও আইন শৃংখলা বাহিনীকে জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব।
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে ধানের র্শীষ প্রতীকে প্রার্থী কেএম মজিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাতেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট ডাকাতি হয়ে গেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শনিবার রাতেই ভোট ডাকাতি করে ফেলেছে, এখন শুধু চলছে সময় পার করার আনুষ্ঠানিকতা। ফলে এ আসনে রাতেই একপ্রকার বিশাল অংকের ভোট হয়ে গেছে।
কুমিল্লা-২ হোমনা তিতাস সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন এর প্রেস সচিব আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, হোমনা তিতাস উপলোয় সকল কেন্দ্র সরকার দলীয় ক্যাডাররা নৌকায় ছিল মারে।ধানের শীষের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি।
কুমিল্লা-৯ ধানের শীষের প্রার্থী কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম অভিযোগ করে বলেন,রোববার দুপুরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের নিজ বাসভবনে বনে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী এলাকার ১২৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, এ রকম প্রহসনের নির্বাচন তিনি আর কোন দিন দেখেনি।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আমাদের ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টি কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন
রাতেই ৬০ ভাগ ভোট আওয়ামী লীগের লোকজন নির্বাচনী কর্মকর্তার যোগ সাজসে ব্যালট বাক্সে পুরে
রেখেছে। বাকী ৪০ ভাগ ভোটও রোববার ভোটাররা দিতে পারেনি। কেন্দ্রের সামনে সশ¯্র অবস্থায়
মহড়া দিয়ে কেন্দ্রের ভিতর সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলছে। ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র
থেকে বের করে দিয়েছে। এদিকে রিপোট লিখা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১১টি সংসদীয় আসনে ভোট গণনা চলছে ।
গাজীপুরে কেন্দ্র দখল
নিহত-১ আহত-২০ আটক-৫
গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রহরায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছে স্থানীয় বিএনপি। তবে মহাজোট ও স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবী করেছেন। এেিদক গাজীপুর মহনগরের হাড়িনাল এলাকায় রোববার দুপুরে নির্বাচনী সহিংস ঘটনায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত হলেন কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি মো. লিয়াকত হোসেন (৪০)। তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাতি মাসুদ রানা এরশাদের বড়ভাই। আহতরা হলেন নিহত লিয়াকতের বন্ধু স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. আশরাফ (৪০) , স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী খায়রুল ইসলাম (৪০) ও গণি মিয়া (৪২)।
মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ রফিজ উদ্দিন জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ৪০-৫০ জনের একদল যুবক হাতে লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহানগরের গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ ফটক, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ ও আশেপাশে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পরে তারা স্থানীয় হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে বসে থাকা ওই চারজনের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে ওই চারজন আহত হন। তাদেরকে প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিয়াকত হোসেন বুকে ও ডান হাতে, আশরাফ এবং খায়রুলের মাথায় গুরুতর জখম হন। গুরুতর অবস্থায় লিয়াকত এবং আশরাফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
স্থানীয় আল নুর হাসপাতালের মালিক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত লিয়াকতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে উত্তরার লেক ভিউ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানে তিনি মারা যান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মাজহারু আলাম জানান, সকাল ১০টার আগেই মহাজোটের সমর্থকরা গাজীপুর ৫টি সংসদীয় আসনের ৯২২টি কেন্দ্রের প্রায় সবগুলো নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। অনেক কেন্দ্রে নির্বাচনের আগেরদিন রাতেই পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি সহ ঐক্যফ্রন্টের সব পোলিং এজেন্টদের মারধোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। কোন কোন কেন্দ্রে এজেন্টদের ডুকতেই দেয়া হয়নি। বিভিন্ন কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মারধোর ও টানা হেচড়ায় ধানের শীষের অন্তঃত ২০ এজেন্ট আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গাজীপুর-২আসনের টঙ্গী ৪৮নং ওয়ার্ডের স্টারফুড কেন্দ্রের বিএনপির এজেন্ট ম্সুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, ভয় দেখিয়ে এবং মারধোর করে ধানেরশীষের সকল এজেন্টকে ওই কেন্দ্রথেকে বের করে দেয়। একই অভিযোগ করেন ৪৭নং ওয়ার্ডের আকাল মাহমুদ একাডেমি কেন্দ্রের বিএপির এজেন্ট নজরুল মাস্টার। মহানগরের হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ধানের শীষের এজেন্ট ফোরকান জানান, সকাল ১০টার দিকে যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও পুলিশ কেন্দ্রে ঢুকে তাদের এজেন্ট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।
পুলিশ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের কতৃক সব কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দেয়ার ঘটনায় জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন গাজীপুর -২ আসনের ধঅনের শীষের প্রার্থী আলহাজ¦ সালাহ উদ্দিন সরকার।
এদিকে গাজীপুর-৫ আসনের ধানের শীষের কারাবন্দী প্রার্থী একে এম ফজলুল হক মিলনের স্ত্রী ও তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শম্পা হক রোববার দুপুর ২টার দিকে তার নিজ বাড়িতে কেন্দ্র দখল, ভোট কেন্দ্র থেকে সব এজেন্টদের বের করে দেয়া, এজেন্টদের কেন্দ্রে ডুকতে না দেয়া,জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নেছার উদ্দিন নুহুসহ কয়েক নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিগকে একই অভিযোগ পাওয়াগেছে গাজীপুর-১, ও গাজীপুর-৪ আসনে।
গাজীপুর-৩ আসনের ঐক্যজোট প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী জানান, এই নির্বাচনে ভোটের মৃত্যু হয়েছে। আমার কোন এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে পারনি, মারধোর করে বের করে য়ে হয়েছে।
কলারোয়ায় প্রকাশ্যে সিল
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়ার ৭৪ ভোট কেন্দ্রে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হাবিবুল ইসলামের পক্ষের কোন পোলিং এজেণ্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। সামনে ব্যলটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বেলা ১১ টার পরে ভোট কেন্দ্র থেকে ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়া কথা জানা গেছে। সরেজমিনে, কেড়াগাছি ইউনিয়নের কেড়াগাছি প্রাইমারী, দেয়াড়া ইউনিয়নের খোর্দ্দ, সোনাবাড়ি ইউনিয়নের ভাদিয়ালী হাইস্কুল, কলারোয়া পৌর এলাকার ¤্রীবতিপুর প্রাইমারী স্কুল, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পানিকাউরিয়া প্রাইমারী, রায়টা প্রাইমারী, কুশোডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্র যেয়ে খুবই নগন্য সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি এবং বিরোধী দলীয় কোন প্রার্থীর কোন পোলিং এজেণ্ট পাওয়া যায়নি। ভাদলি হাইস্কুল কেন্দ্রে সামনে ব্যলটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়। এরমধ্যে জনৈক শাহিনুল নামে এক ভোটার সামনে ধানের শীষে সিল মারায় তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এই কেন্দ্রে মির্জাপুর গ্রামের শুকুজান (৪০) নামে এক মহিলা সামনে সিল মারতে অস্বীকার করায় তার হাত থেকে ব্যলট পেপার কেড়ে নেওয়া হয় বলে প্রতক্ষ্যদর্শী সুত্র জানায়।
শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুর-২(নড়িয়া-সখিপুর) নির্বাচনী এলাকার বিএনপি প্রার্থী শরীয়তপৃুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ প্রকাশ্যে টেবিলে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে জাল ভোট প্রদান, ভোটের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টরদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে মামলা-হামলার হুমকি ও ১৩২ টি ভোট কেন্দ্রের কোন কেন্দ্রেই ঢুকতে না দেয়াসহ সরকারের নীল নকশার নির্বাচন দাবী করে এক ভিডিও বার্তার মধ্যামে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।
শামীম সাঈদীর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান
পিরোজপুর সংবাদদাতা : গতকাল রোববার পিরোজপুর-১ আসনের ১৯৩ টি ভোট কেন্দ্রে আগের রাতেই সরকারি দলের ক্যাডাররা দখল করে পুলিশের সহায়তায় ৫০ শতাংশ ব্যালটে নোকায় সিল দিয়ে দেয়। রোববার সকালে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে সরকারি দলের ক্যাডাররা চেয়ার পেতে অবস্থান নেয় এবং ভোট কেন্দ্রের ভিতর একদল অবস্থান করে। ভোট গ্রহনের পুর্বে ধানের শীষের এজেন্টরা কাগজ দিতে এলে তাদের মারধোর করে তাড়িয়ে দেয়। ধানের শীষের কোন নেতা-কর্মী ভোট দিতে পারেনি। সাধারণ ভোটারদের প্রকাশ্য টেবিলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। নাজিরপুরের বিলডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবীণ আলেম মাওলানা আতিকুল্লাহ ভোট দিতে গেলে তাকে নৌকায় ভোট দিতে বলা হলে তিনি ভোট না দিয়েই ফিরে যান। ১৯৩ টি ভোট কেন্দ্রেই সাধারণ মহিলারা ভোট দিতে গেলে পোলিং অফিসাররা টিপসই রেখে ব্যালট ছেড়ার সাথে সাথে পাশে উপবিষ্ট ক্যাডাররা নিয়ে নৌকার সিল মারে। ১১টার পরে আওয়ামীলীগের চিহ্নিত লোকেরাই শুধু ভোট দিতে পেরেছে। পর্দানশীল কোন মহিলাকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। প্রিজাইডিং অফিসাররা মূর্তির মত দাড়িয়ে দৃশ্য আবলোকন করে। পুলিশ ও আনসাররা এসব কাজে তাদের সহযোগিতা করে। বিজিবি ও সেনাবাহিনী শুধু রাস্তায় টহল দেয়। তারা কোন ফোন রিসিভ করেনি। এমত অবস্থায় দুপুর ১২ টায় শামীম সাঈদী নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দেন। উল্লেখ্য তফসিল ঘোষনার পর নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রশাসন ও সরকারি দলের বাধার কারণে শামীম সাঈদী নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি।
খুলনা অফিস : আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ কর্তৃক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোট কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, প্রকাশ্যে নৌকায় সীল মারা, ভোটারদেরকে ভয়ভীতি, ভোটারদের বাধাদানের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব অভিযোগে দুপুরের পর খুলনার ৫টি আসনের ধানের শীষ ও দু’টি আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন। খুলনা-৬ আসনের ১০টি রাজনৈতিক দলের মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ২ জন। এ নির্বাচনে ছয়টি আসনের ৭৮৬ ভোট কেন্দ্রের ৩ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৯৮৯ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯ জন। ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭২০টি ভোট কক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে প্রার্থীতা পাওয়া আসনে ভোট দিতে পারেনি নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান বাবু। তার নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি। কারণ তিনি রূপসা উপজেলা অর্থাৎ খুলনা-৪ আসনের ভোটার। তিনি সকালে রূপসা রাজাপুর জয়বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর নির্বাচনে অংশ নেন খুলনা-৬ যান।
অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ২৭ অক্টোবর তিনি আটক হয়েছেন। খুলনা জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ৮/১০টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
এছাড়া খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটার ছিল শিরোমনি পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের। তিনিও ভোট দিতে পারেননি। ভোট দিতে পারেননি তার নেতাকর্মী ও এজেন্টরা। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল খুলনার বাকী ক’টি আসনেরও।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সেন্ট জোসেফ স্কুলের ভোটার মেরিনা পারভীন নামের এক ভোটার বলেন, পদ্ধতিটা নতুনের কারণে ১০ বছর পর একটি ভোট দেয়ার জন্য সেই রকম প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু দু:খের বিষয় ভোটটি দিতে পারলাম না। তবে এ কেন্দ্রের ভোটার অর্চনা দেবী ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে বলে জানান। অল্প সময়ের মধ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়া যায়। ভোট দিতে কেউ না বুঝলে কর্মকর্তা তাকে সহযোগিতা করছেন। তবে, ভোট কেন্দ্রের সামনে বিশাল জটলা দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানান।
নিরালা কেন্দ্রের সাহেদ আলম নামে এক মধ্য বয়সী ভোটার বলেন, ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটা ভালো। সারাদেশে এ পদ্ধতি চালু হলে দ্রুত সময় ভোটগ্রহণ ও ফলাফল দেয়া সম্ভব হবে। তবে, ছল ছল চোখে তিনি বলেন, কেন্দ্রের চারিপাশে থাকা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ব্যাচ পড়া ২০/২২ বছরের ছেলেরা আমাদের ৫ জনকে ভোট দিতে হবে না বলে ফেরত দিয়েছে। আমার ছেলে ও মেয়ে এবারের নতুন ভোটার। তারা ভোট দিতে না পেরে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। এ আসনে সাতজন প্রার্থী লড়াই করেন। এখানের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৯ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৩ জন। এ আসনে পুরুষের চেয়ে ৭২৪ জন নারী ভোটার বেশি।
পিটিআই কেন্দ্রে ও বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, তারা প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে আসলেও ভোট দিতে না দেওয়ায় তারা বাড়িতে চলে যান। হাজী মহাসিন রোড, ইউছুফ রো, স্যার ইকবাল রোড, মুন্সিপাড়া লেনসহ ১৬ নং ওয়ার্ড থেকে ৩১ ওয়ার্ডের সবক’টি কেন্দ্রের চারিপাশ ঘিরে রাখে। এখানের নৌকা ভোটার ছাড়া অন্য কোন ভোটার ঢুকতে দেয়া হয়নি। মহিলা ভোটারদেরকে পথে পথে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে। 
খুলনা-২ আসনের বিকে স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভোট দিতে আসলে সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সভাপতি অধ্যক্ষ প্রফেসর জাফর ইমামকে প্রিজাইডিং অফিসার জানান আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতটা নিচে নামা ঠিক হয়নি। সকাল ১১টার দিকে পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান খুলনার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. হামে জামাল। তাকে স্কুল গেট থেকেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলে ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে ফিরিয়ে দেন। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা সকাল থেকেই হাজী মহাসিন রোডের ফকিরবাড়ি লেনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের বাধার মুখে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি। তিনি জানান, তিনদফা চেষ্টা করেও আমাদের গলির দুই শতাধিক ভোটার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
এদিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়ার ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের একটি বুথের ইভিএম মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই বুথে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, হেলিকপ্টারে করে ইভিএম মেশিন এনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
রোববার সকাল ১১টায় প্রথম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হামলা-ভাংচুর, ভোটেরদিন কেন্দ্রের এজেন্টদের মারধর, ভোটারদের মারধর, ভোট দিতে না দেয়া, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়ে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগে তিনি ভোট বর্জন করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ভোট গ্রহণের এক ঘণ্টার ভেতরে খুলনা-৫ আসনের সব ভোটকেন্দ্রের কক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়া হচ্ছে। ভোট গ্রহণের পর থেকে শত শত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেশ কিছু নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। যারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, রিটানিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যে কারণে এ প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।
এরপর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-১ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী সুনীল শুভ রায়। তাদেরও অভিযোগ ছিল একই। একে একে খুলনা-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও লাঙ্গলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু।
এদিকে বেলা আড়াইটায় খুলনা মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে খুলনা ও বাগেরহাটের ১০টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনের প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। খুলনার ৫টি আসনের প্রার্থী ছাড়া বাগেরহাটের ৪টি আসনের সবকটি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা দুপুরের পরেই ভোট বর্জন করেন। বাগেরহাট-১ আসনের প্রকৌশলী মাসুদ রানা নিজেও মোল্লাহাট উপজেলার গাঙ্গী স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট দিতে গেলে তাকে জানানো হয় আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। তার নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লে. আকিব জামানের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। বাগেরহাট-২ আসনের এম এ সালাম, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী এডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ ও বাগেরহাট-৪ আসনের অধ্যাপক আব্দুল আলিমও ভোট বর্জন করেন। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে তারা ভোট বর্জন করেছেন ।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য খুলনা-১ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সুনিল শুভ রায় অভিযোগ করে বলেন, বটিয়াঘাটার ১০৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রই নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা দখল করে নিয়ে জাল ভোট দিচ্ছেন। শুধু মাত্র আমার কেন্দ্রেটি দখল করেনি। এরকম কলঙ্কিত ভোট আমি কোনো দিন দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদের ব্যালট পেপার টেবিলের উপর রেখে সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। তাই আমি সকাল সাড়ে দশটা থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।
হাসনা হেনার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে তার দু’টি বাড়িতেই হামলা চালায়। হামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। এ সময় তার বাসার টিভি, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তবে তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অক্ষত আছে।
রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজার কলিংবেল টিপে ৭ থেকে ৮ জন। দরজা খুলতেই ৪ জন ঘরের ভেতরে এলোপাতাড়ি ঢুকে হামলা চালায়। সোফা, এলইডি টিভি ভেঙে ফেলে একটি তাক ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে। পড়ে আামরা চিৎকার করলে আশে পাশের মানুষ আসলে তারা হুমকি ও গালিগালাজ করতে করতে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুনতে পাই বয়রা মেইন রোডে আমার নিজস্ব বাসায়ও দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। ঐ বাসায় থাই গ্লাস ভাঙচুর করে তবে বাসার ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. মমতাজুল হক এর সরকারি মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ হয়নি।
খুলনায় অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের দখলে ছিল। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি’র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছিল না। সেসব কেন্দ্র সকাল থেকেই ভোটারদের নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের সামনে ভোটারদের ভোট দিতে হয়েছে। ধানের শীষে ভোট দিতে পারেন, এমন ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয় নি। কোথাও-কোথাও ব্যালট পেপোর কেড়ে নিয়ে সিল মারা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের ভুক্তভোগী ভোটাররা এসব অভিযোগ করেছেন।
রূপসার দুর্জ্জনীমহল এবং শোলপুর গ্রামের নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ২ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার রয়েছেন। ভোট কক্ষ ছিল পাঁচটি। নৌকা,ধানের শীষ এবং হাত পাখার পোলিং এজেন্ট ছিল বলে প্রিজাইডিং অফিসার অমিত কুমার ঘোষ জানালেও কেন্দ্রে বিএনপি দলীয় কোনো এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২ টার দিকে কয়েকজন পুরুষ ভোটার চোঁখে পড়লেও নারীদের দু’টি কক্ষে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললে চলে। প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। যা ১৬শ’র বেশি।
তেরখাদা উপজেলার ৫০ নং এমএমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দক্ষিণ মোকামপুর, মল্লিকপুর ও নিশিপুর গ্রামের ১৪শ’ ৪৮ জন পুরুষ ও ১৪শ’ ৬৮ জন নারী ভোটার ছিল। সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিট। তিনটি পুরুষদের ভোট কক্ষ ও তিনটি নারীদের ভোট কক্ষে ভোটারদের আওয়ামী লীগ দলীয় পোলিং এজেন্টদের সামনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। প্রিজাইডিং অফিসার বিকাশ দাশ বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। নৌকা, ধানের শীষ ও হাত পাখার পোলিং এজেন্ট এসেছেন।
ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জামাল ফকির বলেন, সাড়ে ৭ টার দিকে ধানের শীষের চার জন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। যাদেরকে গালি-গালাজ করে বের করে দেয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ৭০ থেকে ৮০ জন দলীয় ভোটারের ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকায় ছিল মারা হয়েছে। ভোটের আগের রাতে কমপক্ষে ১শ’ জনের একটি দল বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের বাড়ী-বাড়ী যেয়ে কেন্দ্র না যাওয়ার জন্য শাসিয়ে এসছে। তাকেও নৌকায় ভোট দিতে বলা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে দক্ষিণ মোকামপুর গ্রামের উকিল উদ্দিন সরদার (৮৫) উত্তর মোকামপুর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। তার ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারা হয়েছে।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফরিদ শেখ (৬০) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ভোট কেন্দ্রে যান। তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার কথা বলা হলে তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এই কেন্দ্রে চার জন ধানের শীষের এজেন্ট ছিলেন। তাদের একজন এসএম আলী আকবর (৩৬)। সকাল ১০ টার দিকে তিনিসহ অন্যরা প্রতিপক্ষের চাপে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। তিনি বলছিলেন, সকাল ৯ টার পর থেকে প্রত্যেক ভোট কক্ষে চার-পাঁচ জন করে ছাত্রলীগ কর্মী ঢুকে পড়েন।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এম এম নাজমুল ইসলাম বেলা ১১ টা ১৮ মিনিটে বলেন, ২ হাজার ৪০ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজারের কিছু বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন।
বিএপি কর্মী নিহত
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ও লালমনিরহাটের ৩টি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাগেছে, লালমনিরাট জেলায় ১, ২ ও ৩ আসনে ৩৬২ টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের ৮৯টি ভোট কেন্দ্রে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও ১ জন বিএনপি কর্মী সংঘর্ষে নিহত ছাড়া বাকী সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট প্রদান করেছে। তবে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান বাবলা সাংবাদিকদের জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট ভোটকেন্দ্রে আ’লীগ- বিএনপি সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক (৫৫) নামের এক কর্মী আহত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি জানান, গিয়াস উদ্দিন, মিশন স্কুল, কবি শেখ ফজলুল করিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বত্রিশ হাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আ’লীগের ক্যাডাররা। একই অবস্থা আদিতমারী-কালীগঞ্জ-২ আসনে একাধিক ভোট কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আ’লীগ ক্যাডাররা বলে ধানের শীষের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল জানান।
অপরদিকে (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা)-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান জানান, আ’ লীগের ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ১৩২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশই ভোট কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে আ’লীগ ক্যাডাররা নিজেরাই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে জমা দিয়েছে। তাছাড়া পাটগ্রাম-হাতীবান্ধার শতাধিক ভোটার জানান, তাদের ভোট আগে থেকেই আ’লীগ ক্যাডাররা দিয়ে দিয়েছে। ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান সাংবাদিকদের জানান,
আ’লীগ ক্যাডাররা ভোট শুরু হওয়ার আগ থেকেই ভোট কেন্দ্রের সামনেই লাঠি-সোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। এমন সন্ত্রাসী আচরণে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি অনেক ভোটার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরব ভূমিকা পালন করেছে বলে হাসান রাজীব প্রধানের দাবী। লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে লালমনিরহাটের ৩টি আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট ব্যুরোঃ পরিকল্পিত ঘটনা, অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনতার প্রতি প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্র দখল ও দিনব্যাপী তান্ডবের মধ্য দিয়ে সিলেটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট বাসদ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবী জানিয়েছে। সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে অভিযুক্ত করছেন বিএনপি। বেলা ৩ টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ভোট কেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম, জালভোটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল রোববার এ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন ও পরিকল্পিত নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন সিলেটের সাধারণ ভোটাররা।
গতকাল রোববার সরেজমিনে সিলেট-১ আসন ও সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী মারমুখী। সিলেটে এমসি কলেজ কেন্দ্র, সিলেট হাতিম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহ মীর (রহ.) প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, শাহী ঈদগাহস্থ স্কলার্সহোম কেন্দ্র, শাহ সফির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, উত্তর আউশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। সিলেট-৩ আসনে দক্ষিণ সুরমাস্থ জালালপুর ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ হাজার গজ দূরে জালালপুর বাজারে সাধারণ জনতার প্রতি অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মোগলাবাজার থানার সেকেন্ড অফিসার সোহেল রানার নেতৃত্বে শাহজালাল হোটেলে আহাররত সাধারণ জনতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এস আই সোহেল রানা। এক পর্যায়ে হোটেল মালিক তার দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন। এছাড়া মোগলাবাজারস্থ রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোগলাবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুমের অতি উৎসাহী মনোভাবের কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে গতকাল রোববার বিকাল ৩টার দিকে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-১ আসনের প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে জালভোট, অনিয়ম, বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজে ব্যালট বই নিয়ে নৌকায় সিল মারার মত ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে বার বার রিটার্ণিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি বলে জানান মুক্তাদির।
তিনি সিলেট-১ আসনের ৩৭টি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে বলেন- ‘এসব কেন্দ্রে বেলা ১২টার পর থেকে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী প্রমুখ।
বালাগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের গুলিতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সুহেল নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামের ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুহেল একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুনঃনির্বাচন দাবি সিলেট বাসদের
একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বাসদ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রণব জ্যোতি পালের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন জানিয়েছেন সারাদেশের ন্যায় সিলেট-১ আসনে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বিভিন্ন কারণে ভোট কেন্দ্র বন্ধ করা হয়।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনেও অনুষ্ঠিত হয়েছে । লৌহজংয়ের ১০ টি ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনটি গঠিত। সকাল ৮ টা থেকে লৌহজংয়ে ৫৩টি ও টঙ্গীবাড়ীতে ৭৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হয়। সরেজমিনে লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়,হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,মেদিনিমন্ডল ইউনিয়নের মাওয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিন মেদিনি মন্ডল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখাযায় হাতে গোনা সল্প সংখক ভোটার রয়েছে। তবে সে কেন্দ্রগুলোর পিজাইডিং অফিসারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে যারা এসছে তারাই ভোট দিয়ে চলে গেছে ।তবে দুপুরের দিকে মেদিনিমন্ডল ইউনিয়নের যশলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখাযায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র।এখানে শতশত নারী পুরুষ লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ।এ সময়ে ঐ কেন্দ্রের পিজাইডিং অফিসার রাসেদুল হক জানান এ কেন্দ্রে মোট চারহাজার সতেরোজন ভোটার রয়েছে এখানের অধিকাংশরাই আনন্দ মুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে অর্ধশতাধীক কেন্দ্র থেকে ধানের শীর্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ৪০টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি পুলিশ ও সরকার দলীয় লোক জন।
 আসনটিতে ধানের শীর্ষের প্রাথীর ভোট কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর স্ত্রীসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন,২০ দলীয় জোট মনোনিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাদ্দীস আব্দুল খালেকের স্ত্রী সাজেদা বেগম, শ্যালক মাওলানা আতিয়ার রহমানও আজিবর রহমান এবং ধানের শীষে পোলিং এজেন্ট রবিউল ইসলাম। গতকাল সকালে আগারদাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধলবাড়িয়া কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
 সাতক্ষীরা সদর আসনের ধানের শীর্ষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাত হোসেন এমন অভিযোগ করেন। মুঠো ফোনে তিনি জানান,বেশির ভাগ কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টা ঢুকতে দেয়নি। যারা ঢুকছিল তাদেররে অনেকেরই বের করে দেয়া হয়েছে। তার মতে জামায়াত অধ্যুসিত বাঁশদহা ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্র, কুশখালির ৭টি কেন্দ্র, বৈকারীর ৬টি কেন্দ্র, ঘোনার ৫টি কেন্দ্র, শিবপুরের ৮টি কেন্দ্র,ঝাওডাঙ্গার ১০টি কেন্দ্র এবং বল্লির ৬টি কেন্দ্রে ধানের শীর্ষের কোন ভোটারকে প্রবেশকরতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট প্রদান করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা ধানের শীষে ভোট দিচ্ছে তাদের অনেকেরই আটকের খবওর পাওয়া গেছে।
 সাতক্ষীরা শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের কুকরালি প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সরকার দলীয় লোকজন ও পুলিশ ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দানে বাধ্য করে বলে কয়েকজন ভোটারা জানান।
 শহরের রসুলপুর, পলাশপোল,আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে কয়েকজন ভোটার জানান। ফলে সকালে শত শত ভোটার কেন্দ্রর বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন। সদর আসনের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ ঢুকলেও তাদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে এ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট দিতে না পেরে ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এদিকে প্রার্থীর নিজ এলাকা ধলবাড়িতে ভোটারদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জামায়াতের কর্মী আতিয়ার রহমান,আজিজর রহমন,রবিউল ইসলাম, এবং আ’লীগকর্মী আতাউর রহমান আতাও আবুল হোসেন। আবুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা শ্যামনগর ৪ আসনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন।
রোববার ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তার নির্বাচন পরিচালক শ্যামনগর জামায়াতের আমীর প্রভাষক আব্দুল জলিল এ ঘোষণা দেন।
আব্দুল জলিল বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, দলীয় নেতা–কর্মীদেও গ্রেফতারে ঘটনাগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, রাতে ব্যাল্ট বক্সে ভোট প্রদান, জাল ভোট প্রদান এবং ভোট দিতে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জন করছেন।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মুহাদ্দীস আব্দুল খালেক নির্বাচন বর্জন করেছেন।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে তার নির্বাচন পরিচালক শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু এ ঘোষণা দেন।
তার প্রার্থী মুহাদ্দীস আব্দুল খালেকের স্ত্রী, সাজেদা বেগম, শ্যালক মাওলানা আতিয়ার রহমান ও মুজিবর রহমানকে ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচন বৈধ করতে তিনি রাজি নন।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নির্বাচন বর্জন করেছে ধানের শীষের প্রার্থী। রোববার বেলা ১২ টায় ধানের শীষের প্রার্থী কারাবন্দি মাওলানা আব্দুল হাকিম এর পক্ষে তার বালিয়াডাঙ্গীর বাসায় সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তার স্ত্রী জাকিয়া জাবিন। ভোটের আগের রাতে প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যলট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, ভোটের শুরুতেই ১০৪টি কেন্দ্র দখল করে পোলিং এজেন্টদের  মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও ভোট দিতে বাধা প্রদান, এছাড়াও যেসব ভোটর কেন্দ্রে গিয়েছিল তাদের প্রকাশ্যে নৌকা মাকায় সীল মারতে বাধ্য করার প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।
জাকিয়া জাবিন আরো বলেন, এসব অভিযোগ রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রিজাইডিং অফিসারদের জানালেও কোন প্রকিীার পাওয়া যায়নি। এই সংকটময় ভয়ংকর পরিবেশের কারণে নির্বাচন বর্জন করলাম।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পার্বতীপুর-৫ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনিত এমপি প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল রোববার দুপুর আড়াই টায় ফুলবাড়ী পার্বতীপুর নির্বাচনী-৫ আসনের জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনিত প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি ফুলবাড়ী থানা প্রেসক্লাবে তার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি প্রার্থী মোঃ সোলায়মান সামি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হচ্ছে না।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে এ অনিয়মের অভিযোগ করে ভোটাররা। ভোটারদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, একজনের ভোট অন্যজন প্রদান, ধানের শীষের এজেন্ট পরিচয়ে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীদের এজেন্ট নিয়োগ, সরাসরি ভোট প্রদানে বাধ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন ভোটাররা।
অভিযোগে জানা যায়, কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীরা ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভোটাররা।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের তারাগুনিয়া কেন্দ্রের ধানের শীষ প্রতিকের ভোটারদের অভিযোগ করেন, তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকার একচেটিয়া ভোট মেরে নিয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের পোড়াদহসহ বেম কয়েকটি কেন্দ্রের ধানের শীষের সমর্থকরা ভোট দিতে গেলে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক ভোট মেরে নেয়া হয়।
কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের আলামপুর, পাটিকাবাড়ীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা মেরে নেয়ায় পরবর্তীতে বেলা ১০ টার পরে ধানের শীষের সমর্থকরা আর কেউ কেন্দ্রে যায়নি।
কুষ্টিয়া মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে গেলে কাউকে বের করে দেয়া হয়, কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।
অপরদিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের যদুবয়রা, কয়া ও খোকসার বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকার নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক সিল মেরে নেয় বলে বিএনপি জোটের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমী অভিযোগ করেন। তিনি লিখিত বিবৃতিও প্রদান করেন।
মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, যশোর থেকে : যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর উপস্থিতে ধানের শীষের প্রাথীর উপর দুই দফা হামলা, গাড়ি ভাংচুর, বোমা বৃষ্টি ও এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল মধ্য দিয়ে নিববিঘœ পরিবেশের নৌকা প্রতিকে সিল মারা উৎসাব চলেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে পুলিশ ভোটারদের বের তাড়িয়ে দিয়ে এ উৎসবে সহায়তা করেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভ্রামমান টিম কে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি ভোটারা। পূর্বের সিল মারা ব্যালট বস্তায় ভরে এনে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ করেছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী।গতকাল সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত পরিদর্শন কার সব কেন্দ্রেই এ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
যশোর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বারান্দিপাড়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে পুলিশের সামনেই বোমা বিস্ফরণ ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি ও এক সাংবাদিক আহত হন। এ সময় সন্ত্রসীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে বীরদর্পে চলে যায়।
যশোর মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে নৌকা প্রার্থীর এক জন এজেন্ট বুথ থেকে এসে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রধান নির্বাচনিএজেন্ট পিজাইডিং অফিসার কে খুজতে গিয়ে দেখেন তিনি দরজা আটকে ভিতরে বসে আছেন। কেন্দ্র এলাকা কোন ভোটার নেই। অথচ রাস্তায় শত শত ভোটার ভোট দিতে পারিনি বলে চিৎকার করছে। প্রাথীর গাড়িতে তৃতীয় দফা হামলা হয়েছে যশোরে ইনস্টিটিইট স্কুল কেন্দ্রে। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শেনে ভিতরে
ঢুকলে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে তার গাড়ি ভাংচুর করে।
 প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন ভোটার জানান, শংকরপুর গোলাম প্যাডেল স্কুল কেন্দ্রে বস্তায় ভরে পূর্বের সিল মারা ব্যালট পিপার আনা হয়। এর পর পিজাইডিং অফিসার জানতে জান কেন্দ্রে কোন ধানের শীষের এজেন্ট আছে কি না। তিনি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যালটগুলো বাক্সে ভরার নির্দেশ দেন।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের র্শীষ প্রতীকের কোন নির্বাচনী এজেন্ট ছিল না কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ৪৭ কেন্দ্রে। সব কেন্দ্রেই শুধু নৌকা মার্কার সমর্থিত প্রার্থী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র এজেন্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সর্ম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, ধানের শীর্ষ প্রতীকের এজেন্ট হওয়ার জন্য কোন ব্যাক্তি আসেনি বা কারোও আবেদন আমরা পাইনি।
বগুড়া অফিস: ভোটরদের মাঠে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোট ডাকাতদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘ ১০ বছর পর বুক ভরা আশা নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন ভোটাররা। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ সদস্যদের সামনেই প্রকাশ্যে জোর করে নিজেদের প্রতীকে সিল মেরেছেন শাসক জোটের সমর্থকরা। এসময় কেন্দ্রের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের অসহায় দেখা গেছে। এছাড়া বগুড়ার ৪টি আসনে আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বগুড়া-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৫ আসনের প্রায় সবকটি কেন্দ্রে ঢুকে মহাজোটের কর্মীরা নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে নেয়। এছাড়া সকালে এসব আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয় তারা। বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার সব কটি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাহালু উপজেলার নারহট্র ইউনিয়নের শিলকৈড় মাদরাসা ও কল্যানপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে করে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মেনে নেয়। এ সময় প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে বাধ্য করা হয় ভোটারদের। সেখান থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। তবে বগুড়া -৬ ( সদর ) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে কিছু কেন্দ্র ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের খবর পাওয়া গেছে। ভোট কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ মোটামুটি শান্ত থাকলেও কাহালু উপজেলায় প্রতিপক্ষের হাতে এক যুবলীগ কর্মি নিহত হয়েছেন। ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিল করে পূনরায় তফসিল ঘোষনার দাবী করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না রোববার দুপুরে বগুড়া শহরে একটি হোটেলে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তার নির্বাচনী এলাকার ভোট বাতিল করে পুনঃতফশীল দাবী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও মহাজোট প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষের এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।
বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিরো আলম বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে মারধরের শিকার এবং ধাওয়া খেয়ে ঢুকতে পারেননি। এ কারণে তিনি ভোট বর্জন করেন।
বগুড়ার কাহালুতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন করেছে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাগইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পার্শ্বে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল হক (৩২) কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে এবং পাইকড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি।
বরিশাল ব্যুরো : বরিশাল-০৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর। ৩০ ডিসেম্বর বেলা ২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ভোটের আগে আমাদেরকে কোন রকম প্রচারণা করতে দেয়া হয়নি। প্রচারনায় নামার পর পিটিয়ে আমার পা ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।
নির্বাচনের নূন্যতম কোন পরিবেশ না থাকায় আমি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নূরুর রহমান জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শারমিন আক্তার লুবনা ও বোন রওশন জাহান।
ভবিষ্যতে দলীয় কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হয়, তার প্রমান আমরা বিগত সিটি নির্বাচন ও আজকের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বুঝে গেছি। অতএব আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিজ্ঞা করছি যে, জীবনে আর কখনো দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করে সরোয়ার বলেন, অধিকাংশ ভোট কন্দ্রে থেকে আমাদের ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে আসাই উচিত হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং সিইসির কথায় বিশ্বাস করে চরম খেসারত দিয়েছি। যেখানে পুলিশরা রিটার্নিং অফিসারের কথা শোনে না সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে এর চেয়ে আর ভালো কী আশা করা যায়।
বরিশাল নগরীতে হামলায় হাতপাখার ৭ কর্মী আহত
বরিশাল নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের বারৈজ্জারহাট ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে না দিয়ে নিজেরা নৌকায় সিল মারতে গেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার কর্মীরা প্রতিবাদ করে।ে এক পর্যায়ে নৌকা ও হাতপাখার কর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে সকাল ১০টার দিকে নৌকার কর্মীরা হাতপাখার কর্মীদের উপর প্রচন্ড বেগে লাঠিচার্জ করে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে হাতপাখার কর্মী হাফেজ ইব্রাহীম খলীল, মুহাম্মাদ হুসাইন, জিহাদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আব্দুল কাইউম, বশির খান, হাফিজুর রহমান কে আহত করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে মোবাইলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর অফিস : সংঘর্ষ, হতাহত, ভোট কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, গণহারে নৌকায় সীল মারার মহোৎসবের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ৬টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় বিরল উপজেলার মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একজন নিহত হয়েছে। জেলার অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কার কর্মীরা গণহারে নৌকায় সীল মারতে থাকে। সেজন্য দুপুর ১২টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। ভোটাধিকার হারায় অনেক ভোটার। এদিকে ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের থাকতে না দেয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুর-১ ও দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন।
গতকাল রোববার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে ৬টি আসনের ৭৯১টি ভোট কেন্দ্রের নৌকা মার্কার পোলিং এজেন্টরা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ধানের শীষের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। কিছু কিছু কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে থাকতে চাইলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ফলে ১ ঘণ্টার মধ্যেই জেলার সকল কেন্দ্র বিএনপি জোটের পোলিং এজেন্ট শুণ্য হয়ে যায়। এই সুযোগে নৌকার কর্মীরা পোলিং অফিসারের নিকট ব্যালট বই নিয়ে গণহারে নৌকায় সীল মারতে থাকে। বেলা ১২ টা বাজতে না বাজতেই অনেক কেন্দ্রে ব্যালট শেষ হয়ে যায়। ফলে দুপুরের পর অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ভোটাররা আর ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ায় দুপুরের পর থেকে সকল কেন্দ্রই ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে। এদিকে দুপুর ১২টায় বিরল উপজেলার শহরগ্রাম মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় নিহত হয় কিনা মোহাম্মদ (৬৫)। তিনি বিরল উপজেলার ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত চান্দু মোহাম্মদের ছেলে। জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রহমান মুরাদ ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাসান আলীর সমর্থকদের মধ্যে শহরগ্রাম মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোট দিয়ে কিনা মোহাম্মদ বাড়ি ফিরছিলেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখে ভয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় তিনি রাস্তার ওপর পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে প্রহসনের এ নির্বাচনের সার্বিক চিত্র দেখে ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ বিভিন্ন মন্তব্য করেন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকার ভোটার জামিনুর রহমান বলেন, ‘একি আজব নির্বাচন-ভোট দিল প্রশাসন’। তিনি বলেন, আমার জীবনে আমি এমন ভোট কোনদিন দেখিনি। প্রশাসন নিজেরা ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তির নজিরও মনে হয় এটাই প্রথম।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রতিদ্বন্ধিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোথাও ধানের শীষ ও গোলাপ ফুলের কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি। দুই একটি কেন্দ্রে হাতপাখার এজেন্ট পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরের ৬টি আসনে বিছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছোটখাটো ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কোন কেন্দ্রে ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে ২টার মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে ছিল।তবে ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম। বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রই জয়ের আশাছেড়েই দিয়েছে । এ রিপোর্ট লেখার সময় ভোট গণনা চলছে। ৬টি আসনের ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করেছে‘বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা। দুপুর ২টার পর তাদের আর মাঠে পাওয়া যায় নেই ।
রংপুর- ৩ (সদর) আসনের মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান এমপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে ভোট দিতে আসেননি। একই কেন্দ্রে রংপুর সদর আসনের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী রিতা রহমান জানান, এখন পর্যন্ত রংপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
রংপুর -২ (বদরগজ্ঞ -তারাগজ্ঞ) আসনের বদরগজ্ঞ পৌসভার ৭ নং ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্র নৌকার কর্মীরা ব্যালট পেপার নিয়ে সীল ১১টার দিকে মারা শুরু করলে লঙ্গলের কর্মীদের সাথে সংর্ঘষ বাধে । মধুপুর ১০ নং ইউনিয়ন নৌকার পক্ষে সীল মারা সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় ।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টায় দেখা যায়, সেখানে ৪০% ভোটার ভোট দিয়েছে। এ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার আহসান হাবিব বলেন, এখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ভোট গ্রহণের সময় এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে ব্যাপক পিটিয়েছে বিএনপির সমর্থক ও কর্মীরা।রোববার সকাল ১০টার দিকে পীরগাছার দাউতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আসাদ্দুজ্জামান মন্ডল(উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও রংপুর-১ আসনের মহাজোট প্রার্থী মশিয়ার রহমান রাঙ্গা রংপুর গঙ্গাচড়া সরকারি বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
রংপুর- ৫মিঠাপুকুর এলাকায় আওয়ামীরীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই সীল মেরে ভোট দিয়েছে । পায়রাবন্দ ভোটকেন্দ্রে ১২টার মধ্যে ভোট দেয়া শেষ হয়। মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যায় কেন্দ্রে রাবিব নামে এক জন ভেটার জানান ভোট দিতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা জোর করে সীল নিয়ে নিজেরাই তার ভোট দিয়েছে। রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনের সরকারী দলীয় নেতা কর্মীরা জোর পূর্বক কেন্দ্র দখল করে । বিএনপি প্রার্থি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। সকালে ১১ টার মধ্যে আর কাউকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি।
ইমরান কবীর, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জোরপƒর্বক নৌকা মার্কায় সীল মারার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের ৭ টি আসনে বিএনপির মনোনীত (ঐক্যফ্রন্ট) ধানের শীষের ৭ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচন বর্জন করেছেন।তারা হলেন, হালুয়াঘাট-১ আসনেরর আফজাল এইচ খান, ফুলপুর-২ শাহ শহীদ সারোয়ার, গৌরীপুর-৩ ইঞ্জি এম ইকবাল হোসেইন, মুক্তাগাছা-৫ জাকির হোসেন বাবলু, ফুলবাড়ীয়া-৬ ইঞ্জি শামছুদ্দিন আহমেদ, গফরগাঁও-১০ সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ (এলডিপি), ভালুকা-১১ ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
গতকাল রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে প্রার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন।প্রার্থীরা অভিযোগ করে জানান, শনিবার রাত থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কা সীল মেরেছে। আজ সকালে পোলিং এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে গেলে তাদের বের করে দেয়া হয়।এছাড়াও অনেককে কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হয়নি ও মারধর করা হয়েছে। তখনও জোরপƒর্বক নৌকা মার্কা সীল দেয়া হয়। তাই নির্বাচন কমিশনারের কাছে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে অনেক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। দুপুরে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
রুহুল আমিন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাইরুল ইসলাম সজিব জানান, ভোটের আগেরদিন থেকে অবরুদ্ধ এবং নিজের ভোট দিতে যেতে না পারা ও পোলিং এজেন্টসহ ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে তার পিতা আজহারুল ইসলাম মান্নান ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন।
সরেজমিনে জানা যায়, কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে সকাল ১১টার সময়ই ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার নুরুতুন নেছা দুপুর ১২টায় ভ্যালট পেপার না থাকায় ভোট দিতে না পারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনারগাঁ পৌসভার বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ বকুল দুপুর ১টায় তার কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ভ্যালট পেপার না থাকায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন আমাদের নতুন সময়ের প্রতিবেধককে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা : ভোট কেন্দ্রে হামলা বিএনপি-আওয়ামীলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়েছে। নোয়াখালী-৩ (বেগমগজ্ঞ) একটি কেন্দ্রে দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য। প্রিজাইডিং অফিসারের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটনা ঘঠেছে। কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর ও ভোট গ্রহনের সুষ্ঠ পরিবেশ না থাকায় নোয়াখালীতে ৫টি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন।
জেলা রিটানিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সোনাইমুড়ি নবাবগজ্ঞ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি সমর্থকরা কেন্দ্রে হামলা চালায় প্রিজাইডিং অফিসাসহ অন্যন্যদের ব্যাপক মারধর করে। এ সময় আনসারের ১০ নারী ওপুরুষ সদস্য আহত হয়। এদরে মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় প্লাটুন কমান্ডার আবদুল মতিন(৪৫) কে সোনাইমুড়ি উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়ছে। কেন্দ্র দখল ভাংচুর ব্যালট পেপারসহ ভোট গ্রহনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ছিনতাই অভিযোগ এবং ভোট গ্রহনের পরিবেশ না থাকায় নোয়াখালী -৩ (বেগমগজ্ঞ) আসনের র্প্বূ বাবু নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমানউল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নরোত্তম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। নরোত্তম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হামলার সময় গুরুতর আহত হয় কেন্দ্রের প্রিজাডিং অফিসারসহ ৬ জন। এসময় হামলাকারীরা প্রিজাডিং অফিসার ও সহযোগিদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি মিনি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। নোয়াখালী -৩ (বেগমগজ্ঞ) গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ২টার দিকে বিএনপি-আওয়ামীলীগ সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে একদল দূর্বৃত্ত আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সেখানে কর্তব্যরত আনসার সদস্য তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় দূরৃত্তর্রা তাকে লক্ষ্য করে পিছন দিক থেকে গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
নোয়াখালী আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ডেন্ট সৈয়দ ইফতেখার আলী জানান, নিহত আনসার সদস্য নূর নবী হেঞ্জু) সে বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের জয় নারায়নপুর গ্রামের আবদুল মতিনের পুত্র। দায়িত্ব ও কর্ত্যবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে নিহত আনসার সদস্য নূর নবী।
বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত এর জন্য নোয়াখালী জেনারেল হসপিটালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর : চাঁদপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে ভোট বর্জন করেছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। গতকাল ভোট গ্রহন কালে এসব আসনগুলোর প্রতিটি কেন্দ্রে আ’লীগের নেত-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি করে। বিএনপির এজেন্টদেরকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ইচ্ছামতো ব্যালোট পেপারে নৌকার সিল মারে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়। এসব অনিয়মের অভিযোগে চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন গতকাল দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণ দেন। তিনি আরো বলেন, গত ১২ দিন যাবত তিনি তার নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েও তিনি ভোটারদের কাছে যেতে পারেন নাই। এদিকে চাঁদপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ও চাঁদপুর-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্র্থী লায়ন হারুনুর রশিদও স্থানীয় সাংবাদিকগনের কাছে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছামতো নৌকা মার্কায় সীল মারে। চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক অভিযোগ করেন গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ভোটের দিন পযর্ন্ত তিনি নিজ বাসায় অবরুদ্ধ। চাঁদপুরের রির্টানিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীর সাথে অভিযোগ করেও কোন ফল পান নাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধমে বহুবার আবেদন করেও কোন রেজাল্ট পাননি। তার বাসার নেতা-কর্মী দুরের কথা কোন সাংবাদিকও প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ বাহিনী। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর নেতা কর্মীরা ইচ্ছা মতো কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি করেছে।
শাহজাহান, (তাড়াশ) সিরাজগঞ্জ থেকে : সিরাজগঞ্জ ১,২,৩,৪,৫,৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন।
গতকাল দুপুর ১২টার সময় সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ধানের শীষের প্রাথীরা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেছেন। রায়গঞ্জের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদার তার নিজ বাড়ী ধুপিল থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, নজিরবিহীন অনিয়ম দুনীর্তি ও হতাশার নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীন অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হয়না এটাই তার প্রমাণ। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন আমার অধীন সুষ্ঠ ভোট হবে সেই বিশ্বাসে আমরা এক যোগে নির্বাচনে এসেছিলাম কিন্ত হামলা মামলা ভাঙচুর পুলিশ প্রশাসনের গ্রেফতার ভোট কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নাই যদিও কিছু বিএনপি এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকেছিল আওয়ামী লীগের লোকেরা তাদের পিটিয়ে বের করেদিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা থেকে বের করেদিয়েছে। তিনি বলেন,রাত্রেই ভোট কেটে বাস্্র ভোরে রেখেছে। সুতরাং সরকারের প্রশাসনের সাজানো নীল নকসার এই প্রহসনের নির্বাচনের ভোট থেকে ভোটারেরা ভোট বর্জন করেছে তাই আমি এই নির্বাচন থেকে ভোট বর্জন করছি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন,প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সভাপতি সলঙ্গা থানা বিএনপি রাশিদুল হাসান পাপন সিনিয়র সহ সভাপতি মেহেদী আলম পারভেজ,সহ-সভাপতি সম আনোয়ার হোসেন পারভেজ,তথ্যও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ,তাড়াশ রায়গঞ্জে বিএনপির মুলদল ছাত্রদল যুবদলের নেতৃবৃন্দ।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের সবগুলো আসনেই অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রেই একই চিত্র পাওয়া যায়। সরেজমিন ঘুরে, বিভিন্ন উপজেলা সংবাদ ও প্রত্যক্ষ দর্শীদের দেয়া সূত্রে এ সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। টাঙ্গাইল- ০৪ কালিহাতী আসনের ৮২ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সকাল ১০.৩৮ মিনিটে মহিলা ভোটারদের ২টি বড় লাইন দেখা যায়। এছাড়া সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় কোন কেন্দ্রেই ভোটারদের লাইন দেখা যায় নি। প্রত্যেক কেন্দ্রেই শুধুমাত্র নৌকার ভোটাদের জটলা ভোট কেন্দ্রের ভিতরেই দেখা যায়। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রেই বাইরে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরকে দাড়িয়ে ভোট তদারকী করতে দেখায়। অন্য কোন দল বা প্রতিকের কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোতেই পুলিশকে কেন্দ্রের ভিতরে অথবা প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে পাওয়া যায়। কেন্দ্রের ভিতরে ধানের শীষের প্রতীকের এজেন্ট না থাকা প্রসঙ্গে অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রিজাইডিংগণ বলেন মনে হয় বাহিরে গিয়েছেন, কেউ বলেছেন টয়লেটে গিয়েছেন।
৩৪ নং তাতীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারই নন এমন একজন মেয়ে (সুমি) একবার ভোট দিয়ে ২য় বার এসে ধরা পরলেও প্রিজাইডিং এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যে বুথ থেকে সুমি ব্যালট নিয়েছেন সেখানকার সহকারী প্রিজাইডিং আশরাফুন সিদ্দিকী কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কোন মারামারি বা হাতাহাতি না হলোও নিরাপদে যথেষ্ট কৌশলে নৌকার কর্মীরা দফায় দফায় সিল মেরে ভোট নেয়। এলেঙ্গা বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি পর্যবেক্ষক টিমকে দেখে ৭/৮ জন যুবক দ্রুত ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেলে এ প্রসঙ্গে প্রিজাইডিং তাদেরকে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি বলে জানায়। টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, ভূঞাপুর ও কালিহাতীসহ বিভিন্ন আসন থেকে আমাদের সংবাদদাতা এমনই চিত্রই জানিয়েছেন।
মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারী জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই মহাজোট প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্র্টির প্রার্থীর সমর্থক পোলিং এজেন্ট ও প্রশাসনের লোকজন দলবদ্ধভাবে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সীল মারা, ধানের শীষ ও হাতপাখা মার্কার পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তা থেকে বাড়ি ফেরত দেয়া, অনেকে কেন্দ্রে গেলেও তাদের মারপিট করে ফেরত পাঠানো, ভোটারদের হাত থেকে সীল কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা ও লাঙ্গলে সীল মারাসহ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে নীলফামারী-২ (সদর) ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম ও নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শহিদুল ইসলাম পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী নীলফামারী শহরস্থ তার নিজ বাসভবন জামান ভিলায় দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনী এলাকার সোনারায় ইউনিয়নে ভোটের আগের রাতে (২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১১ টা) নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে এবং ধানের শীষের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়। এরপরও ওই ইউনিয়নের বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা গেলে তাদের প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে আটক করে রাখে নৌকা সমর্থকেরা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
একই অবস্থা ছিল কুন্দপুকুর, পুটিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব কেন্দ্রেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বেধড়ক মারপিট করা হয়।
এদিকে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নৌকা মার্কার সমর্থক তথা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে লাঠি সোটা নিয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের এলোপাথারী মারপিট করে কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছে। তারপরও ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদের কাছ থেকে সীল ও ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকা মার্কায় সীল মারার পর ব্যালট বাক্সে ফেলা হয়েছে।
একইভাবে নীলফামারী-৪ আসনের মহাজোট প্রার্থী লাঙ্গল মার্কার আহসান আদেলুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তা থেকেই বাড়িতে ফেরত পাঠানো, কেন্দ্রে যাওয়া পোলিং এজেন্টদের মারপিট করে বের করে দেয়া, ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার ও সীল কেড়ে নিয়ে লাঙ্গল মার্কায় প্রকাশ্যে দলবদ্ধভাবে সীল মারা ইত্যাদি ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে সৈয়দপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দলের সৈয়দপুর উপজেলা সেক্রেটারী হাফেজ নুরুল হুদা।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই পীর সাহেব চরমোনাই বলেছিলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারেনা। আজ তাই প্রমানিত হলো। ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেননি। তারা জনগণের সাথে নির্বাচনের নামে তামাশা করেছে মাত্র।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাটের ২টি আসনে বিছিন্ন ঘটনা, ৪ প্রার্থীও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জয়পুরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আসম মোক্তাদির তিতাস বেলা ১টায় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন। অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এইএম খলিলুর রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শহরের থানারোডের নিজ বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ভোট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়পুরহাট-১ আসনে ডাঃ জহুরুল ইসলাম ও জয়পুরহাট-২ আসনে আব্দুল বাকী জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে বেলা ৪টায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের ভোট বর্জনের কথা জানান। তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনরায় নির্বাচনের দাবীও জানান।
এদিকে জয়পুরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আসম মোক্তাদির তিতাস বেলা ১টায় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করে তিনি বলেন, বেলা ১২ টার পর কোন ব্যালট দিতে পারেনি প্রিজাইুডিং অফিসারগন এজন্য অনেক লোক ভোট দিতে না পেরে ঘুরে চলে গেছেন।
 অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এইএম খলিলুর রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শহরের থানারোডের নিজ বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ভোট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।বেলা ২টায় রিটানিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করে ভোট বর্জনের ঘোষনা প্রদান করেন। জয়পুরহাট ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ,ই, এম, খলিলুর হমান জানান আমি ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছি এই এলাকা থেকে এখানে বিএনপির ঘাটি প্রায় ৪০ হজার বেশী ভোট পেয়ে আমি ৩ বার জয়লাভ করেছি। অথচ প্রশাসনের সহায়তায় আগেও রাতে তারা বাক্সে সীল মেরে বাক্স ভর্তি কওে রেখেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ