ঢাকা, মঙ্গলবার 01 January 2019, ১৮ পৌষ ১৪২৫, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শুভ হোক ইংরেজি নববর্ষ

কালপরিক্রমায় শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছর ২০১৯ সাল। গত বছরটি ছিল বিশ্বজুড়েই ঘটনাবহুল। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামা অনেক রক্তপাত ঘটিয়েছে। দেশছাড়া হয়েছে অনেক নারী-শিশু। বাড়িঘর ছেড়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে অনেক ক্ষুধাপীড়িত মানুষ ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে সাময়িক আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছে। তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকা-ও নাড়া দিয়েছে বিশ্ব মিডিয়াকে যথেষ্ট। এজন্য সৌদি প্রশাসনকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। এরপরও প্রকৃত হন্তারকরা চিহ্নিত হোক। শাস্তি পাক খুনিচক্র। এমনই প্রত্যাশা বিশ্বজোড়া মিডিয়া সংশ্লিষ্টদেরসহ বিবেকবান মানুষের। অপর দিকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরতের বিষয় নিয়েও গড়িমসি অব্যাহত রয়েছে। এর সুরাহা হওয়াও জরুরি।
ইংরেজি নতুন বছর শুরু হবার ঠিক একদিন আগে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ  নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আশাতিরিক্তভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা ৩য় বারের মতো সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। বিজয়ীরা উচ্ছ্বসিত ও উদ্বেলিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। আমরাও স্বাগত জানাই বিজয়ী দল আওয়ামী লীগকে। তবে এটা আরও ভালো এবং সুন্দর হতো যদি হেরে যাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপির পক্ষেও বিজয়ীদের স্বাগত জানানো সম্ভব হতো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়নি। আর হবে বলেও মনে হয় না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে এতোটা খারাপ করবে তা কারুরই ধারণায় ছিল না। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছিলেন, তাঁরা বিজয়ী হবেনই। তবে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টও উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করবে। কিন্তু সেটা বাস্তবে হয়নি। কল্পনাতীতভাবে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট হেরে গেছে। নির্বাচনের অবিশ্বাস্য রেজাল্ট কোনওক্রমেই বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের মেনে নেয়া সম্ভব নয় বলেই ইতোমধ্যে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচন কোনও খেলা না হলেও খেলার মতো ভাবলে ভালোই হতো। পারস্পরিক এতো দ্বন্দ্ব বা ঝগড়া থাকতো না। রাজনীতিকদের মধ্যে খেলোয়াড়সুলভ মন-মানসিকতা থাকলে অনেক সমস্যারই সমাধান সহজে হতে পারতো।
যাই হোক, ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতে আমাদের সব দ্বন্দ্ব-বিবাদ, মলিনতা, রাজনৈতিক কলহ সব ঘুচে যাক, ধ্বংসাত্মক বা ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা মিটে যাক এবং সবার মধ্যে সৃষ্টি হোক নতুন করে ভ্রাতৃত্ববন্ধনের সোপান। মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে। প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু মানবিকতা, সৌভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, মনুষ্যত্ব, পারস্পরিক সম্প্রীতি উবে যাবে তা ভাবা যায় না। আমরা সবার মাঝে মানবিক গুণাবলির শুভ সম্মিলন প্রত্যাশা করি। আর এমন সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সম্মিলন প্রয়োজন যেমন জাতীয় পর্যায়ে, তেমনই তা আন্তর্জাতিকভাবেও। শুভ হোক ইংরেজি নববর্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ