ঢাকা, বুধবার 02 January 2019, ১৯ পৌষ ১৪২৫, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টিআইবির আহ্বান

সহিংসতায় মানুষের মৃত্যু এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশÑ টিআইবি বলেছে, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লংঘনের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগসমূহের বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছে সংস্থাটি। নির্বাচনের পরদিন এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সহিংসতা এবং বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত সকল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। টিআইবি শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এই দাবির প্রতি উপেক্ষা দেখানো হয়েছে। একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করার পাশাপাশি তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছেÑ যা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও নির্যাতন ও হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এর ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা তৈরির আশংকা দেখা দিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রসঙ্গক্রমে কিছু ঘটনার উল্লেখ করেছেন। যেমন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি জোটের তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত গুরুতর এই অভিযোগও এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। এড়িয়ে গেছেনও। সিইসির এ ধরনের মনোভাব শুধু বিব্রতকর নয়, নির্বাচন কমিশন আদৌ তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে কি না এর মধ্য দিয়ে সে বিষয়েও উদ্বেগ ঘনীভূত হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লংঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখারও সমালোচনা করা হয়েছে বিবৃতিতে। তাছাড়া ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটারের ভোট দেয়া বাকি থাকতেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো এবং ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো যেসব সচিত্র খবর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর বিষয়েও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এবং ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। টিআইবি বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে তাদের ব্যর্থতা নিরুপণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। অভূতপূর্ব নির্বাচন ও অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নতুন যে সরকার গঠিত হবে তার মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আমরা টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের বিবৃতির মূল কথাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। বস্তুত সহিংসতা ও আইনের লংঘনসহ কোনো একটি প্রসঙ্গেই তিনি অসত্য বা সামান্য বাড়িয়ে বলেছেন বলে মনে হয় না।
সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এমন অসংখ্য ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে যেখানে ভোটাররা ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছেন। আগের রাতে ব্যালট পেপারে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলার সচিত্র খবর এমনকি বিবিসি পর্যন্ত প্রচার করেছে।
এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই টিআইবির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
সব মিলিয়েই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল দৃষ্টি আকর্ষণের মতো। এ কারণে টিআইবি শুধু সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়নি, এ কথাও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গেই বলেছে যে ‘অভূতপূর্ব’ নির্বাচন ও ‘অভূতপূর্ব’ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নতুন যে সরকার গঠিত হবে তার মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত আবশ্যক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ