ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবাধে মাদক ও চোরাচালান পণ্য আসছে!

 

খুলনা অফিস : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খুলনাঞ্চলের সাতক্ষীরার ভোমরা ও যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবাধে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের চালান পাচার হয়ে আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সীমান্ত এলাকায় বেনাপোল পোর্ট ও শার্শা থানা এবং উক্ত দুই থানার অন্তর্গত পুলিশ ক্যাম্প, তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও মাদকের চালান অজ্ঞাত কারণে ধরা পড়ছে না।

সীমান্তবর্তী এলাকা সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে ২১ বিজিবি’র সীমান্তবর্তী পুটখালী বিওপি’র ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে গত এক মাসে প্রায় কয়েক হাজার বোতল ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা এবং চোরাচালান পণ্য, ওয়ান সুটারগান, পিস্তলসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। যা বিজিবি’র মাধ্যমে সংবাদপত্রগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির আকারে দেওয়া হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে লাগাতারভাবে বিজিবি’র বিভিন্ন টহলদল সীমান্তবর্তী বেনাপোল ও শার্শা এলাকা সমূহ হতে মাদক ও চোরাচালান পণ্যসহ চোরাচালানীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ যশোর জেলার সীমান্তবর্তী বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প, তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। 

সূত্রগুলো বলেছে, এই দুই থানার অধীনে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের সীমানা ঘেঁষে ঘাট রয়েছে। সেই ঘাটগুলোতে বিজিবি ও পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিজিবি’র কর্মকর্তা ও সদস্যরা দফায় দফায় টহল জোরদার ও অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সময় মাদক ও চোরাচালান পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করে। এমনকি চোরাচালান পণ্য সামগ্রীর সাথে চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অথচ শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও প্রগতি ব্যানারে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ অজ্ঞাত কারণে এদের গ্রেফতার করতে পারছেনা। যার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। 

সূত্রগুলো বলেছে, বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে আমির জামাই নামে এক ব্যক্তি লিজ নিয়ে অবাধে তার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আমির জামাই সীমান্তবর্তী অবৈধ ঘাটগুলোর চোরাচালানীর সর্দারদের সাথে সাপ্তাহিক চুক্তিতে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে। বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানা পাবলিকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে বলে থানা এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন পেশার মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন। দু’টি থানা পাবলিকের কাছে লিজ দেওয়ার ফলে চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কারবার অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, এই দু’টি থানা এলাকা দিয়ে অবাধে স্বর্ণের চালান ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ধরা পড়লে বোঝা যায় কি পরিমাণ স্বর্ণের চালান ভারতে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এ দু’টি থানায় যারা দীর্ঘদিন রয়েছে এবং কর্তব্যরতরা কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ