ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এবারই প্রথম সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত পার্লামেন্ট হচ্ছে  ---রাণা দাস

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত পার্লামেন্ট এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে। পার্লামেন্টের সরকারি দল ও বিরোধী দল ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সুস্পষ্টভাবে  যে অঙ্গীকারসমূহ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে, আমরা তা যথাযথভাবে পালনে তাদের ভূমিকা পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে প্রত্যক্ষ করবো এই প্রত্যাশা করছি। রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহ কোনভাবেই জনগণকে নিরাশ করবেন না বলে আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

গতকাল শুক্রবার ৪ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ আশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত। সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব, তাপস কুমার পাল, প্রিয়া সাহা ও বাসুদেব ধর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এবারই সর্বপ্রথম আমাদের পেশকৃত দাবিকে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরপরই জাতীয় দৈনিকসমূহ এ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। যাতে নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সকল ধর্ম সম্প্রদায়ের উপাসনালয় নির্বাচনী কর্মকান্ডে ব্যবহার ও সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণামূলক বক্তব্য এবং বিবৃতি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়। 

এবারই প্রথমবারের মতো আমরা লক্ষ্য করেছি এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের এ ঘোষণার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা মেনে চলার সযতœ প্রয়াস চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনেও রাজধানীতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নতুনভাবে সূচিত হয়েছে। যা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অবাধে ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণেই এই নির্বাচনে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুরা শঙ্কাহীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এজন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন সহ সকল রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। 

রাণা দাশগুপ্ত আরো বলেন, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে ফেনীর সোনাগাজী, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা এবং পিরোজপুর এর স্বরূপকাঠিসহ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্বৃত্তদের কাউকে কাউকে আটকও করেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে।

 এতে সংখ্যালঘু ও জনমনে আশা ও আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুনির্দিষ্টভাবে তার নির্বাচনী ইশতেহারের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক নির্মূল এর পাশাপাশি সাম্প্রদায়ীকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অঙ্গীকার করেছেন। জিরো টলারেন্স ঘোষণা যাতে আক্ষরিকভাবে কার্যকর হয় তার জন্য ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে মরহুম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ