ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নাজুক অবস্থায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি

সংগ্রাম ডেস্ক : বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখন নাজুক অবস্থায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি। গত নভেম্বরে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ০১ শতাংশ। এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাংলাট্রিবিউন

 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ১০ মাসের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৮ সালের শুরুতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। আর ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই হিসাবে গত আট বছরের তুলনায় বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, নির্বাচনের বছর হওয়ায় ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করেছে। এর সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের বছরে ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের লাগাম টানতে গত জানুয়ারিতে ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) এবং সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে ব্যাংক খাতে তৈরি হয় তারল্যের সংকট। আবার ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি এক বৈঠক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ এবং ৬ শতাংশ সুদে আমানত নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে আশানুরূপ হারে আমানত পাচ্ছে না অধিকাংশ ব্যাংক। এতে বেশ কিছু ব্যাংকে তহবিল সংকট দেখা দেওয়ায় কমে যায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি।

 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়েছিল। ওই সময় বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশে নেমে আসে। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০১৫ সালের পর থেকে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ হওয়ার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তা ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ হয়। ২০১৮ সালের শুরুতে এই প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের বছর হওয়াতে উদ্যোক্তাদের ঋণের চাহিদাও কমে যায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের শ্লথ গতির কারণে দেশের পণ্য আমদানি-ব্যয় কমে গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচন থাকায় ব্যবসায়ীদের অনেকে হয়তো উৎপাদনে যায়নি। এ কারণে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে, ফলে ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। আগের বছরের নভেম্বরে যা ছিল ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ একবছরে ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। এ সময় ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ০১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসের শেষে যা ছিল ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঋণের প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে ঋণের সুদহার কমানোর চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের বছর হওয়াতে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চাহিদা কম ছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এছাড়া, এডিআর সীমা সমন্বয় করার কারণে কিছু ব্যাংক ঋণ বিতরণ করতে পারেনি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ