ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিশুদের পাঠ্যবই উৎসব

গত ১ জানুয়ারি শিশু-কিশোররা স্কুলে গিয়েই নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে। অনেক দুঃসংবাদের মধ্যে নিশ্চয়ই এটা একটা সুসংবাদ অবশ্যই। এজন্য শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। আগের দিনে নতুন  পাঠ্যবই পেতে যেমন দেরি হতো তেমনই স্কুলে নতুন ক্লাসও শুরু হতো বেশ বিলম্বে। কোনও কোনও বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে যেতো বই সংগ্রহ করতে আর নতুন ক্লাস শুরু হতেই। ফলে শিশুকিশোররা পড়াশোনায় পড়তো পিছিয়ে। আর সব বই একসঙ্গেও পাওয়া যেতো না। দফায় দফায় বাজারে গিয়ে দোকান থেকে বই কিনে সংগ্রহ করতে হতো। কখনও কখনও বই সংগ্রহ করতে ভোগান্তিও পোহাতে হতো অভিভাবকদের। সেখানে বছরের প্রথম দিনেই ক্লাসের সব বই একসঙ্গে হাতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বৈকি। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নতুন বছর শুরুর একসপ্তাহ আগে গত ২৪ ডিসেম্বর নতুন বছরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, এ বছর ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ৬৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ খানা বই। বইবিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৬২ খানা বই বিতরণ করা হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৫০৮ উপজেলার প্রাথমিক স্তরের ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭টি স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ শিক্ষার্থীকে ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ১০টি ‘আমার বই’ এবং অনুশীলন খাতা এবং ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৪ খানা বই বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আওতাভুক্ত শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮ খানা পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিশুকিশোর শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিন বা এর দুই-একদিনের মধ্যে বিনামূল্যে এতো পাঠ্যবই তুলে দেবার কাজ একটা মহাযজ্ঞই বটে। এ কর্মযজ্ঞের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি আমরা। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রদত্ত পাঠ্যবইয়ে প্রায়শ তথ্যগত ভুলত্রুটি দেখা যায়। অনেক বইয়ে দেখা যায় ছেঁড়াফাটা, বাঁধাই উলোটপালোট ইত্যাদি ত্রুটি। এমনকি সরবরাহকৃত বইয়ের ফর্মা কম ও সাদাপৃষ্ঠা থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এগুলো আসলে বাঁধাইয়ের ভুল। যেসব শিক্ষার্থীর হাতে এমন বই পৌঁছে, তাদের নতুন বইপ্রাপ্তির আনন্দই মাঠে মারা যায়। তাই এমন ঘটনা যাতে না ঘটে এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে অবশ্যই। বছরের শুরুতে নতুন পড়ার বই হাতে পাবার যে খুশি এবং উচ্ছ্বাস শিশুকিশোরদের মধ্যে দেখা যায়, তা অনেক সময় ঈদ বা পার্বণের উৎসবের মতোই। এমন নির্মল আনন্দ শিক্ষার্থীদের মনে সারাবছর অম্লান ও অফুরন্ত থাকুক। ওদের শিক্ষাজীবন হোক সুন্দর এবং মসৃণ। এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ