ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ২০১৮

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [তিন] নীরবের চাচা রাশেদুল ইসলাম নান্টু দাবি করেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ঘটনা ঘটানো হয়, (১২) ২৪ এপ্রিল ফেনীর দাগনভূঁয়ার নয়নপুর গ্রামে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরের গুলিতে শারমিন নামে এক মহিলা খুন হয়। জাহাঙ্গীরের স্বভাব ভাল ছিল না, জাহাঙ্গীর পাশের গ্রাম মৌলভীবাজারে এক ধর্ষণের ঘটনায় জরিমানা ও শাস্তি ভোগ করে এবং (১৩) ১৪ জুলাই ঢাকার মহাখালীতে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে কাজী রাশেদ নামে এক কর্মী খুন হয়। বনানী থানা যুবলীগ সভাপতি ইউসুফ সরদার সোহেল গ্রুপ এই হত্যাকান্ড ঘটায় বলে ধারণা করা হয়।

(১৪) ৩ আগস্ট ঢাকার সাভার উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সেলিম মন্ডলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বকুলকে পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় যুবলীগ বিরুলিয়া ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক ও সেলিমের ভাই জুয়েল মন্ডলকে আটক করে পুলিশ,(১৫) ১৩ আগস্ট বরগুনা সদরে দক্ষিণ হেউলীবুনিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধ ও নার্গিসের সাথে পরকিয়ায় বাধা দেয়ার জেরে আল-আমিন নামে একজনকে খুন করা হয় যুবলীগ বরগুনা জেলা সহ-সভাপতি ও বরগুনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগের নির্দেশে। উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট আল-আমিনকে কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে, বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজে আল-আমিন মারা যায়, (১৬) ২১ আগস্ট কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যুবলীগ পাদুয়া ইউনিয়ন সভাপতি রবিউল আউয়ালের ধাক্কায় একই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল তালুকদার নিহত হয়। পূর্ব শত্রুতা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে রবিউল আউয়াল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে বিতর্কের এক পর্যায়ে ধাক্কা দিলে এই ঘটনা ঘটে, (১৭) ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানার ৩৭নং ওয়ার্ডের এছাহাক কনটেইনার ডিপো এলাকায় যুবলীদ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে সাহেদ রনি নামে একজন খুন হয়। যুবলীগ নেতা মেজবাহ উ্িদন মোর্শেদ গ্রুপ ও দেবাশীষ পাল দেবু গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়, (১৮) ৩০ ডিসেম্বর গাজীপুর মহানগরীর হারিনাল উচ্চবিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কাজী আজিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি লিয়াকত হোসেন নিহত হয় এবং (১৯) ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডু পৌর সভার ভোলাগিরি রাস্তার মাথায় দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা দাউদ স¤্রাট নিহত হয়। যুবলীগ নেতা স¤্রাট ও শহীদ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে।

শ্রমিক লীগ ২টি ঃ (১) ৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাপা নেতা কে.এম মোশাররফ হোসেনকে যুবলীগ অফিসে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা ও একই ইউপি মেম্বার আব্দুল জলিল গাইনসহ ৩৯ জনের নামে মামলা দায়ের হয়। আসামী মোজাফ্ফর হোসেন বিশ্বাস আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দী দেয় এবং (২) ২ অক্টোবর নাটোর সদরে নিউ উত্তরা টেলি কমিউনিকেশনের পরিচালক আল-মামুনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার। অপর দুই পরিচালক শ্রমিক লীগ নেতা আকরাম হোসেন ও ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদকে পুলিশ আটক করে। 

কৃষক লীগ ১টি ঃ (১) ৫ অক্টোবর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জয়পাশা গ্রামে কৃষক লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সৈয়দ নাজিম আলী নামে আবু সাঈদ মিয়ার সমর্থক খুন হয়। কৃষক লীগ উপজেলা আহবায়ক সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার গ্রুপ এবং পরমেশ্বর ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি ও ইউপি মেম্বার আবু সাঈদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।  

বিএনপি ১১টি ঃ (১) ৩ জানুয়ারি ঝালকাঠি সদরে কাকচিঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দলে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা বশির সিকদার আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ বশির সিকদার আহত হয়, (২) ১১ ডিসেম্বর নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সুলুকিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে যুবলীগ ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়, (৩) ফরিদপুরের সদরের গোলডাঙ্গী বাজারে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইউসুফ আলম মামুন নিহত হয়। আওয়ামী লীগ ঘটনার জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করে, (৪) ২৭ ডিসেম্বর সিলেট সদরের নলকট গ্রামের বিএনপি সমর্থকদের হাতে আওয়ামী লীগ সমর্থক কায়সার আহমেদ খুন হয় এবং (৫) ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়ায় গোরনখাইন গ্রামে নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দিল মোহাম্মদ নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়।

 (৬) ৩০ ডিসেম্বর রাঙ্গামটির কাউখালীতে সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন খুন হয়, (৭) রাজশাহীর মোহনপুরে পাইকপাড়ায় পাকুরিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কর্মী মিরাজুল ইসলাম নিহত হয়, (৮) রাজশাহীর তানোরে মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির হাতে মোদাচ্ছের আলী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়, (৯) বগুড়ার কাহালুতে বাগুইন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল ইসলাম নিহত হয়, (১০) নাটোরের নলডাঙ্গায় সমাস খলশি দিয়ারপাড়া এলাকায় বিএনপির কর্মীর ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী হোসেন আলী নিহত হয় এবং  (১১) কুমিল্লার চান্দিনায় পশ্চিম বেলাশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র বিএনপি-এলডিপি দখল করতে গেলে পুলিশের গুলিতে মজিবর রহমান নামে একজন নিহত হয়। 

ছাত্র দল ২টি ঃ (১) ১ জানুয়ারি সিলেট মহানগরী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী শোভাযাত্রায় ধাক্কাধাক্কির জেরে ১৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসানাত শিমু ছুরিকাহত হয়ে নিহত হয় এবং (২) ১১ আগস্ট সিলেট শহরের কুমারপাড়ায় পুনঃনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধূরীর বাসার সামনে দলীয় কোন্দলে ছাত্রদল মহানগর সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুর রহমান রাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে গিয়ে মারা যায়। ছাত্রদল মুন্না গ্রুপ ও আব্দুর রাকিব গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। 

জাপা ১টি ঃ ১৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় জামিরদিয়া ডোবালিয়া পাড়া গ্রামে জাতীয় পার্টি জেলা সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু জাফর সরকার ও তার ভাই রিপন সরকারসহ অন্যান্যরা মরিয়ম বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে বলে পরিবার দাবি। 

ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক গ্রুপ) ৬টি ঃ (১) ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরে ইউনাইটেড পিপ্্লস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর দলীয় কোন্দলে জেলা সংগঠক মিঠুন চাকমাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার দায় নতুন ইউপিডিএফ-এর উপর দেয় প্রসিত গ্রুপ, (২) ১৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়ছড়ি সদরে রাঙ্গাপানিছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসিত) কর্মী দলীপি কুমার চাকমা ওরফে বিনয়কে খুন করে দলীয় প্রতিপক্ষ (গনতান্ত্রিক) গ্রুপ, (৩) ২১ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ১নং যৌথ খামার এলাকায় ইউপিডিএফ দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে সাইন চাকমা নিহত হয়। ইউপিডিএফ প্রসিত ও গনতন্ত্র গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়, (৪) ১১ এপ্রিল রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের তারাছড়া গ্রামে ইউপিডিএফ-এর হাতে জেএসএস-এনএম লারমা গ্রুপের নেতা সাধন চাকমা খুন হয় এবং (৫) ২৮ মে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে প্রসিত গ্রুপের অটল চাকমা ও (৬) স্মৃতি চাকমা নিহত হয়। 

জন সংহতি সমিতি ১২টি ঃ (১) ১১ এপ্রিল রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের সাবেক্ষং ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকায় জেএসএস-এনএম-এর হাতে ইউপিডিএফ নেতা জনি তংচংগ্যা চাকমা খুন হয়, (২) ১৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদরে স্বনির্ভর এলাকায় ইউপিডিএফ প্রসীত বিকাশ খীসা ও এমএন লারমা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ৭ জন। নিহতরা হলো- পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি তপন চাকমা, (৩) পিসিপি কর্মী এল্টন চাকমা, (৪) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা পলাশ চাকমা, (৫) বিকাশ চাকমা, (৬) বরুণ চাকমা, (৭) রূপন চাকমা ও (৮) জিতায়ন চাকমা এবং (৯) ২২ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে জেএসএস-এর হাতে রামসুপারী পাড়ায় ইউপিডিএফ-এর শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে সুমন্ত ও (১০) যুদ্ধ মোহন চাকমা ওরফে আকর্ষণ খুন হয় এবং (১১)  ২৪ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির পানছড়ির পুজগাং এলাকায় গোলাগুলিতে জেএসএস-এর হাতে ইউপিডিএফ-এর উজ্জ্বল কান্তি চাকমা ও নির্মাণ শ্রমিক (১২) সোহেল রানা খুন হয়। ইউডিপিএফ (প্রসিত গ্রুপ) ১১টি ঃ (১) ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেড়াছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ-এর দলীয় গ্রুপিংয়ে সূর্য বিকাশ চকমা খুন হয়। সূর্য বিকাশ চাকমা বার্মা গ্রুপের সদস্য প্রতিপক্ষ প্রসিত গ্রুপের লোকেরা এই হত্যাকান্ড করে বলে ধারনা করা হয়, (২) ৩ মে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ(প্রসিত) গ্রুপের হাতে জেএসএস-এমএন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শক্তিমান চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়, (৩) ৪ মে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে বেতছড়ি কাঁঠাল বাগান এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের হাতে (ইউপিডিএফ) বর্মা গ্রুপ প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, (৪) সুজন চাকমা, (৫) টনক চাকমা, (৬) সেতু লাল চাকমা ও (৭) মোঃ সজিব খুন হয়, (৮) ২৮ মে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে গনতান্ত্রিক গ্রুপের সঞ্জীব চাকমা নিহত হয়, (৯) ৭ অক্টোবর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চোংরাছড়ির শিমুলতলী এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপের)-এর হাতে জেএসএস কর্মী মঞ্জু চাকমা খুন হয়, (১০) ১৭ অক্টোবর রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে বিহারপাড়ায় ইউপিডিএফ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে গণতান্ত্রিক গ্রুপের কর্মী শান্ত চাকমা খুন হয় এবং (১১) ৯ নবেম্বর রাঙ্গামাটির লংগদুতে বড়াদম বান্দরতলা এলাকায় ইউপিডিএফ-এর হাতে জেএসএস নেতা রাজা চাকমা খুন হয়। 

তাবলীগ জামায়াত ১টি ঃ ১ ডিসেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের দু’গ্রুপর সংঘর্ষে ইসমাইল হোসেন মন্ডল নামে একজন নিহত হয়। মাওলানা সা’দ গ্রুপ ও মাওলানা জুবায়ের গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সাদ গ্রুপ ৩০ নবেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর এবং জুবায়ের গ্রুপ একই জায়গায় ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার ঘোষণা দেয়। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ