ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারত কেন ভাঙ্গলো?

মনসুর আহমদ ; ভারতবর্ষের ইতিহাস বড় দীর্ঘ। খ্রিষ্টীয় একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মুসলমানগণ ভারতবর্ষে প্রথম প্রবেশাধিকার লাভ করে। খ্রিষ্টীয় একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতবর্ষ ভারতবর্ষের নৃপতিগণ কর্তৃক শাসিত ও রক্ষিত  হয়।  মুসলমানগণের ভারতাগমন  সময় হতে ভারতবর্ষে বৈদেশিকগণের আধিপত্য। মোঘল শাসকগণ ভারত বর্ষে প্রায় আট শত বছর শাসন করে। “ হিন্দু, মুসলিম শাসনকে কখনও অন্তর থেকে গ্রহণ করেনি, বরাবর অপরিত্যাজ্য অপ্রতিরোধ্য পাপ হিসাবে দেখেছে  এ জন্য যতোদিন ‘অস্পৃশ্য বিদেশী ম্লেচ্ছের’  ক্ষাত্রশক্তি প্রবল ও নিরঙ্কুশ থেকেছে, ততদিন অবাঞ্ছিত পাপ হিসাবেই সহ্য করেছে। .. বাহাদুর শাহের পর প্রতীক্ষারত নেকড়ের, মতো দুর্বল মুঘল রাজশক্তির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে “হিন্দু পাদ-পাতশাহী প্রতিষ্ঠা কল্পনায় মত্ত হয়ে উঠেছে।”

 কিন্তু তাদের হিন্দু পাদ-পাতশাহী প্রতিষ্ঠার সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় নি। এক সময় এই শাসন ভার চলে যায়  ইংরেজদের হাতে। আর হিন্দু সমাজ ভারতে ইংরেজ শাসনকে ভগবানের আশীর্বাদ রূপে গ্রহণ করেছিল। মুসলমানদের শাসন যাতে কায়েম না হয় এটাই ছিল হিন্দুদের ইচ্ছা।  শ্রী রতন লাল চক্রবর্তী তার “ফকীর  সন্ন্যাসী বিদ্রোহ” নামক প্রবন্ধে লিখেছেন,  “ফকীরদের সংগ্রাম ছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা। সন্ন্যাসীরা কখনো ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি বা স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের কোন কল্পনা তাদের ছিল না। বরং তাদের সংগ্রাম ছিল  মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের শাসন যাতে আবার কায়েম না হয় সে জন্য তারা ইংরেজদের সহায়তা করেছিল।” (রতন লাল চক্রবর্তী-  ফকীর ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ)   

বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় সে সময় ব্রিটিশের বিরোধিতার পরিবর্তে চরম তোষণ নীতি বেছে নিয়েছিল। এ ব্যাপারে বহু প্রমাণ রয়েছে।  প্রমাণ হিসাবে  উদাহরণ স্বরূপ ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত কর্তৃক সম্পাদিত সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার ২-৭-১৮৫৮ খ্রিঃ হিন্দুদের রাজভক্তি শিরোনামে সম্পাদকীয়টির কিছু অংশ নিচে তুলে ধরা হল। “শ্রীযুক্ত কেদার নাথবাবু বিদ্যোৎসাহী নব যুবক ব্যক্তি। তিনি ‘হিন্দু জাতির রাজভক্তি’ নামক এক খানি অভিনব গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছেন। আমরা উক্ত গ্রন্থ পাঠ করিয়া অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছি। যেহুতু যথার্থ পক্ষে এই পুস্তক নিজ নামের অর্থ প্রকাশ করিতেছে। রাজভক্ত প্রজাগণ এই গ্রন্থ পাঠ করিলে পর তাহাদিগের অন্তরে স্বরূপ রাজভক্তি উদ্দীপিত হইবে সন্দেহ কি? অনুরোধ করি এই পুস্তক ক্রয় করত আপনারা রাজভক্তি বিষয়ে সদুপদেশ গ্রহণ করুন এবং গ্রন্থ কর্তাকে সমুচিত উৎসাহ দিন। অধিকন্তু উক্ত গ্রন্থ সমগ্ররূপে প্রচারিত হইলে পর প্রজাগণের প্রতিও সবিশেষ রাজানুগ্রহ প্রকাশ পাইবে তাহাতে সন্দেহ নাই।” 

এখানেই শেষ নয়, বর্ণহিন্দুদের দাবির নিকট নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালের ১১ই ডিসেম্বর স¤্রাট পঞ্চম জজ ও রাণী মেরীর দিল্লীর দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন। এতে আনন্দে উল্লাসিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পঞ্চম জজের প্রশংসায় রচনা করেন “ জনগণ মন অধিনায়ক  হে ভারত ভাগ্য বিধাতা . . . .” গানটি। প্রভুদের এমন স্তুতিতে তারা কি  খুশি  না হয়ে পারে? 

বৃটিশ শাসকগোষ্ঠী হিন্দুদের কল্যাণে এগিয়ে এসে ছিল গোড়া থেকেই। হিন্দুদের পক্ষে কল্যাণের প্রথম পদক্ষেপ ছিল তাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তন করেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মৌল উদ্দেশ্যই ছিল অধস্তন হিন্দু অফিসারদের জমির মালিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই বন্দোবস্ত প্রথা চালু হওয়ার ফলে “যে সব হিন্দু কর আদায়কারী ঔ সময় পর্যন্ত  নি¤œ পদের চাকরিতে নিযুক্ত ছিল, নয়া ব্যবস্থার বদৌলতে তারা জমিদার শ্রেণীতে  উন্নীত হয়। নয়া  ব্যবস্থা তাদেরকে জমির উপর মালিকানার অধিকার এবং সম্পদ আহরণের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে, অথচ মুসলমানরা নিজেদের শাসনামলে এই সুযোগ সুবিধাগুলিই একচেটিয়াভাবে ভোগ করছে।” বৃটিশদের এমন চক্রান্তই ভারত ভাঙ্গার পেছনে পরবর্তীতে অন্যতম চালিকা শক্তি হসাবে কাজ করেছে। 

চাকরির ক্ষেত্রে বাংলায় মুসলমানদের অবস্থা ছিল বড়ই করুণ। কয়েকটি বিভাগে ১৯৬৯ সালে চাকরির আনুপাতিক হার দেখলেই অনুভব করা সম্ভব কিভাবে মুসলমানদেরকে সব যায়গায় কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল। এ্যাসিস্টান্ট গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের তিনটি গ্রেডে হিন্দুর সংখ্যা ছিল ১৪ জন, মুসলমান একজনও নয়; শিক্ষানবিসী পর্যায়ে হিন্দু  চার ও ইংরেজ দুইজন, কিন্তু মুসলমান একজনও নয়। সাব ইঞ্জিনিয়ার গণপুর্ত বিভাগের সুপারভাইজার পদে হিন্দু ২৪ জন আর মুসলমান একজন; ওভারসিয়ার পদে মুসলমান দুই জন আর হিন্দু তেষট্টি জন। এ্য্কাউন্টস অফিসার পদে হিন্দু পঞ্চাশ জন কিন্তু মুসলমান এক জনও নয়; এবং আপার সাবর্ডিনেট ডিপার্টমেন্টে হিন্দু বাইশ জন; কিন্তু মুসলমানের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। (দি ইন্ডিয়ান মুসলমান) 

এ রকম  হওয়ার কারণ এটা ছিল না যে মুসলমানদের চাইতে হিন্দুরা অধিকতর যোগ্য ছিল। বরং অন্যায়ভাবে উচ্চস্তরের বা নি¤œস্তরের সমস্ত চাকরি ক্রমান্বয়ে মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এভাবে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের উপরে যে উপেক্ষা ও অপমানজনক ব্যবহার প্রদর্শিত হয়েছিল, আধুনিক ভারতীয়  সাহিত্যে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মুসলমানদের প্রতি এই অপমানজনক আচরণ মুসলমানদেরকে হিন্দু থেকে আলাদা হবার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।     

ভারতীয়দের আগা গোড়া চক্রান্ত ছিল ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদেরকে তাদের নিজস্ব জীবনবোধ ও জীবনাচার থেকে দূরে রাখা। ১৮৮৭সালের মাদ্রাজে যে কংগ্রেস অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সে সভাতে লালা লাজপত রায় বলেছিলেন, মুসলমানরা এখানে বহিরাগত। তারা যদি হিন্দুদের আচারবিধি পালন না করে তবে ভারতে তাদের বসবাস করতে দেয়া উচিত নয়।   বৈদিক ধর্মের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠাই ছিল আর্য সমাজের উদ্দেশ্য। আমরা দেখি ১৯৩৮ সালের  ৪ঠা এপ্রিল যুক্তপ্রদেশের আইন সভায় প্রদত্ত ভাষণে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী মিঃ সম্পরনানন্দ বলেনঃ “হিন্দু কিংবা মুসলিম সভ্যতাকে কায়েম রাখা এবং তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে চালু করার জন্য যিনিই পীড়াপীড়ি করেন, তিনি নিশ্চিতভাবে ভারতের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত। আমরা বলতে চাই যে, আজকের ভারতে এ উপসর্গটা না থাকাই বাঞ্ছনীয়। আমরা এমন একটা ভারতীয় সভ্যতা চাই, যা হিন্দু, মুসলমান, অন্য ধর্মাবলম্বী এবং যে কোন বহিরাগত-যে ভারতকে নিজের আবাসভূমি করে’ নিয়েছে, - এ সকলের জন্যই এক ও অভিন্ন।” হিন্দু মুসলমান সবকে এক দেহে লীন করার হিন্দু  ষড়যন্ত্র ছিল ভারত ভঙ্গের আর একটি কারণ। 

  ভারত কেন ভাঙ্গলো? আমাদের ভারত থেকে আলাদা হওয়ার কারণটা কী ছিলো? “কারণটা বোঝা যাবে ‘ইতিহাসের উত্তরাধিকার’ নামে পার্থ চট্টোপধ্যায়ের একটি প্রবন্ধ থেকে। ..একটি উদ্ধৃতি অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য।  উদ্ধৃতিটি তারাকৃষ্ণের ‘রাজভক্তি বিষয়ক’ প্রবন্ধ থেকে।“ পূর্বকালে  যখন এই দেশ হিন্দু জাতির শাসনাধীনে ছিল তখন রাজাগণের পক্ষপাতিতা দোষে জাতি বিশেষ অপর সমস্ত জাতির উপর সম্পূর্ণ প্রভুত্ব করিতেন, ঐ সকল জাতিকে স্বর্গ বা নরকগামী করণের কর্তা ছিলেন। .. .. .. যখন এই রাজ্য যবনদিগের হস্তে ছিল , তখন তাহারা হিন্দুবর্গকে নাস্তিক ও অধার্মিকের শেষ বলিয়া নির্দেশ করিয়া ছিলেন।  স্বজাতি প্রজাবর্গের প্রতি যাবতীয় বিষয়ে অনুগ্রহ, হিন্দু প্রজাদিগের প্রতি সর্বতোভাবে নিগ্রহ  করিতেন।.. ..  ব্রিটিস জাতির রাজনিয়মাবলীতে এই সকল দোষের লেশও নাই, তাহারা আপন জাতীয় এবং এদেশস্থ  ডোমপ্রভৃতি যৎপরোনাস্তি নীচ ব্যক্তিকে বিচারকালে সমান দেখিতেন। .. .. ঐ জাতির পক্ষপাত শূন্যতা গুণের অধিক প্রশংসা কী করিব?” 

এ সব উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্টত  উপলব্ধি করতে পারা যায় , ইতিহাসের ঘাতপ্রতিঘাতে এ দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর চেতনা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর চেতনার মধ্যে একটি বিরাট পার্থক্য ও ভেদ রেখার সৃষ্টি হয়েছিল। পার্থক্যের চেতনাবোধ এমন ভয়ানক  অবস্থায় পৌঁছে গেল। হিন্দুদের মনের কথা জ্ঞানেন্দ্র পা-ে তার বইতে তুলে ধরতে গিয়ে  লিখলেন, “..  যদি মুসলিমরা এই দেশে থাকতে চায়, তা হলে আমাদের মত  করে থাকতে হবে। “.. হিন্দুস্তান মে র‌্যাহনে হায় তো হামসে মিল কর রাহনে হোগা। হিন্দুস্তানমে র‌্যাহনে হায় তো বন্দে মাতরম কাহনে হোগা।” এ সবথেকে প্রমাণিত হয় যে হিন্দু মানসের মধ্যে একটা চিন্তা কাজ করছিল, সেই চিন্তাটা হচ্ছে- যদি মুসলমানরা  ভারতবর্ষে থাকতে চায়, তা হলে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, আচার- আচরণ ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে মিলে মিশে থাকতে হবে তাদেরকে বন্দে মাতরম বলতে হবে। এ চিন্তা মুসলমানদের কাছে কখনই গ্রহণযোগ্য ছিল না । সে কারণে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ  স্পষ্ট বলে ছিলেন “...Our outlook is not only Fundamentally different  but often  radically antagonistic to the Hindus. We are different beings, There is nothing in life which links us together,” 

মুসলমানদেরকে তাদের নিজস্ব বিশ্বাস ও জীবনবোধসহ ভাষা, সংস্কৃতি, আচার- আচরণ নিয়ে অখ- ভারত ভূমিতে বাস করা অসম্ভব হবে ভেবে মুসলমানদের মনে স্বতন্ত্র আবাসভূমির চিন্তা জাগ্রত হয়। এ সত্যের আভাস দিয়ে ছিলেন আল্লামা ইকবাল ১৯৩০ সালে লক্ষেèৗতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ অধিবেশনে।

এ সব ছাড়াও ভারত ভাঙ্গার দৃশ্যমান বড় কারণ বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। ১৯০৫ সালে  বঙ্গ বিভাগের প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে বাঙ্গলা প্রদেশটি বিভক্তিকরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয়েছিল। লর্ড কার্জনের দায়িত্বভার গ্রহণের পূবের্ বঙ্গ বিভাগের প্রস্তাবাবলী পেশ করা হয়। ১৯০৩ সালে সরকারি গেজেটে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রকাশিত হয়। বঙ্গ বিভাগ কার্যকরী করা হয় ১৩ই অক্টোবর  ১৯০৫ সালে। বঙ্গভঙ্গের  ফলে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে আনন্দের বান ডেকেছিল। কিন্তু  বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় এ ব্যবস্থাকে তাদের কায়েমী স্বার্থের মূলে কুঠারাঘাত বিবেচনা করে বঙ্গ বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। স্বার্থবাদী বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলন শুরু করে, এমন কি হিংসাত্মক কার্যক্রমের আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৯১২ সালের ২ মে ডিসেম্বর বাংলা বিভাগ রদ ঘোষিত হলে মুসলমান মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় ব্রিটিশ বিদ্বেষী হয়ে ওঠে।

 এ সময় হিন্দু মুসলমান সম্বন্ধটা আরও তিক্ত হয়ে পড়ে। উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের  উত্থান মুসলমানদেরকে শংকিত করে তোলে এবং তারা তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ও তার অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগের  প্রতিষ্ঠা ছিল এদেশের রাজনৈতিক গগণের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পরে কংগ্রেস চিহ্নিত হয়ে গেল হিন্দুদের, এবং মুসলিম লীগ চিহ্নিত হল মুসলমানদের শ্রেণীবদ্ধ হওয়ার মিলন ক্ষেত্র।

  কংগ্রেসী হিন্দুরা মুসলিম লীগকে কখনও প্রীতির চোখে দেখেনি। তার জন্মলগ্ন থেকে হিন্দুরা সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করল।  মুসলমানদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের দাবী ও ১৯০৯ সালে সে দাবীর  পূরণ হিন্দুদের আরও বিভ্রান্ত করে। ১৯১০ সালে নাগপুর সম্মেলনে কংগ্রেসের মুসলমান সভাপতি সৈয়দ নবীউল্লাহ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের চেষ্টা করেন এবং ১৯১১ সালে উভয় দলীয় নেতাদের এক বৈঠক হয়। কিন্তু কোন ফল হয় নি। 

১৯১৫ সালে ৩০ ডিসেম্বর বোম্বে শহরে মুসলিম লীগের অষ্টম বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের অধিবেশনও এ সময় বোম্বে শহরেই অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের সভাপতি  এস,পি সিংহ ও লীগের সভাপতি মাজহারুর হক তাঁদের ভাষণে হিন্দু মুসলিম ঐক্য ও সহযোগিতার উপরে জোর দেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ ও ৩ শে ডিসেম্বর কংগ্রেস ও লীগের বার্ষিক অধিবেশন লক্ষেèৗতে অনুষ্ঠিত হয়; এ সময় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে একটি চুক্তি হয়  যা লক্ষেèৗ -চুক্তি নামে অভিহিত।  

 লক্ষেèৗ- চুক্তিতে কংগ্রেস ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের মর্লো মিন্টো আইনে অর্জিত মুসলমানদের স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রথা ও আইনসভাগুলিতে আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থার দাবি মেনে নেয় এবংপরোক্ষভাবে পাকিস্তান আন্দেলনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। পৃথক নির্বাচন হিন্দুদেরকে বিচলিত করে তোলে। এ সময় দয়ানন্দ সুরস্বতী শুদ্ধি আন্দোলন শুরু  করে। তার প্রেক্ষাপটে  কোহাট, লক্ষেèৗ, এলাহাবাদ ও কলকাতা সহ বহু স্থানে সাম্প্রদায়িক দাংগা শুরু হয়।  ১৯২৩ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত এ রকম মারাত্মক দাংগার সংখ্যা ১১২ টি।  

লক্ষেèৗ- চুক্তির পরে রাজনৈতিক গতিধারা দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। ১৯১৮ সালে প্রথম মহাযুদ্ধের অবসান হয়। প্রথম মহাযুদ্ধে তুরস্ক হেরে গেলে ভারতীয় মুসলমানগণ ওসমানিয়া খিলাফতের অস্তিত্ব সম্পর্কে শংকিত হয়ে পড়ে এবং বৃটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।  খিলাফতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মৌলানা মুহম্মদ আলী ও শওকত আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন নামে মুসলমানতের সরকার বিরোধী এক শক্তিশালী আন্দোলন শুরু হয়। ১৯১৯ সালে ১৪ই নভেম্বর ফজলুল হকের সভাপতিত্বে খিলাফত বৈঠকের প্রথম অধিবেশন দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়।এ বৈঠকে তুরস্কের অখ-তা ও খলিফার মর্যাদা রক্ষার দাবি করা হয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে , এ বিষয়ে বৃটিশ সরকারের প্রতিশ্রুতি না পেলে মুসলমানগণ সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ করে চলবে।  বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা এ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এবং গান্ধী একটি বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন।  তিনি খেলাফতের বিষয়ে কংগ্রেসের সহযোগিতার ও আশ্বাস দেন। গান্ধী এ সময় কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করে অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করেন। অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের ফলে সর্ব ভারতীয় প্রথম আন্দোলন শুরু হয়। অবশ্য খিলাফত আন্দোলনকালে হিন্দু মুসলমান একত্রে গণআন্দোলন চালালেও মনের মিল হয়নি। 

রাজনীতিক ও ধর্মীয় নানা ক্ষুদ্র প্রশ্নের সমাধানে গোঁড়া নীতি অনুসরণের ফলে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কে ফাটল ধরে। ১৯২৪ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ বাংলাদেশের হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে বেঙ্গলপ্যাক্ট সম্পাদনের চেষ্টা করেন। কিন্তু কংগ্রেসের অনমনীয় মনোভাবে এ চুক্তি ফলবতী হয় নি। 

হিন্দু - মুসলমানের মিলন প্রচেষ্টা চিরতরে ব্যর্থ হয় নেহেরু রিপোর্টের কারণে।  ১৯২৮ সালে এদেশের শাসনব্যবস্থা সংস্কার সম্বন্ধে বিবেচনা করার জন্য সাইমন কমিশন এসে ছিল। কংগ্রেস কমিটি বয়কট করলো। এ বছর দিল্লীতে এক সর্বদলীয় সম্মেলন আহুত হল দেশের ভবিষ্যত শাসনতন্ত্র প্রণয়নের বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য, এবং মতিলাল নেহেরুরর নেতৃত্বে একটি সাব কমিটি গঠিত হলো শাসনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়নের জন্য। কিন্তু নেহেরু রিপোর্ট যখন প্রকাশিত হলো, দেখা গেল স্বতন্ত্র নির্বাচন ব্যবস্থাই অস্বীকৃত হয়েছে, এবং বাংলা ও পাঞ্জাবের মুসলমানের সংরক্ষিত আসনব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া হয়েছে।  গান্ধী প্রকাশ্যে নেহেরু রিপোর্টের প্রশংসা করেন এবং এ রকম রিপোর্ট প্রণয়নের জন্য মতিলাল নেহেরুকে টেলিগ্রাম যোগে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এতে মিলনকামী মুসলিম নেতারা হতবুদ্ধি হলেন এবং হিন্দু মুসলিম মিলন প্রচেষ্টা নেহেরু রিপোর্ট দ্বারা চিরসমাধি লাভ করলো।  রিপোর্টের সংশোধনী হিসাবে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর চৌদ্দ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু  জিন্নাহর সংশোধনী প্রস্তাব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বর্ণহিন্দু প্রধান কংগ্রেস গ্রাহ্য করে নি।  

সকল সম্প্রদায়র অধিকার , দেশীয় রাজাদের মর্যাদা ও বৃটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে বৃটিশ সরকার ১৯৩৫ সালে ভারত আইন প্রণয়ন করে।  ভারত শাসন আইন অনুযায়ী  ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। বাহ্যত এই নির্বাচন যুদ্ধে মুসলিম লীগ ৩৮টি আসন পায় এবং  ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি পায় ৩৯ টি আসন।  পাঞ্জাব , সিন্ধ ুও সীমান্ত প্রদেশে বাংলার মতো মুসলিম লীগের সাফল্য সম্ভব হয়নি। এই নির্বাচনের ফলে পরিষদে কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০ এবং মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির  সদস্য সংখ্যা যথা ক্রমে ৫৯ ও ৫৫ জন। 

১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৯৫ মিলিয়ন ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যাদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ ছিল মুসলমানের ভোট। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মুসলিম লীগের প্রার্থীরা মুসলিম ভোটের মাত্র শতকরা ৫ ভাগ ভোট পায়। এমন বিরাট বিজয় অর্জনের পরে ১৯৩৭ সালের মার্চের গোড়ার দিকে মিঃ নেহেরু বললেন, “ÒThere were only two parties in the country-  Congress and the British” প্রতি উত্তরে মিঃ জিন্ন্াহ বললেন,  “There is a third party..the Muslims..”    

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে  কংগ্রেস আটটি প্রদেশে সরকার গঠন করে, যার ফলে হিন্দু জাতীয়তা উগ্ররূপ ধারণ করে। Sir Percival Griffiths বলেন,  ÒThe Congress  High command refused to sanction Congress- League coalitions and in the Hindu  majority provinces  ministries consisting only of Cogress were formed,”  

কংগ্রেস হিন্দু সংখ্যা গুরু প্রদেশে এমন শাসন পদ্ধতি অবলম্বন করে যে মুসলমানদেরকে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ উভয় কাজ থেকে বেদখল করে দেওয়া হয়। কংগ্রেস তার নয়া শাসনতান্ত্রিক সংস্কার দ্বারা যে কর্মপন্থা অবলম্বন করে, তার একমাত্র অনিবার্য ফল এই ছিল যে, এই শাসনতন্ত্রের কল্যাণে যতটুকু রাজনৈতিক শক্তি বৃটিশ সম্রাজ্যবাদের হাত থেকে ভারতের কাছে  হস্তান্তরিত হবে তা হিন্দুদের কুক্ষিগত হবে। যেখানে মুসলিম সংখ্যা লঘু , সেখানেতো তারা সরাসরি হিন্দু সংখ্যাগুরুর শাসনাধীন হবে। কংগ্রেসী প্রাদেশিক সরকারগুলি সর্বভারতীয়  কংগ্রেস কমিটির নির্দেশে শাসন চালাতে থাকে।     

কংগ্রেস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে নতুন ভারতের কাজ যে মডেলে আরম্ভ করেছিল তাতে মুসমানদের জাতীয়তা ও  কৃষ্টির কোন স্থান ছিল না।  বরদা পরিকল্পনা, বিদ্যামন্দির পরিকল্পনা তার সুস্পষ্ট উদাহরণ। এমনিভাবে ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস সরকারের মুসলমান দলন ও হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠার বাস্তব চিত্র দেখে মুসলমানেরা পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি সাধনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠে।  কংগ্রেসের বঙ্গভঙ্গ রোধ আন্দোলন ও পরবর্তীতে মুসলমানদের সাথে ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর আচরণ মুসলমানদেরকে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য অনুপ্রাণিত করে। ১৯৩৭ সালে জিন্নাহ বলেছিলেন,“বৃটিশরা যদি ভারত ছেড়ে চলে যায়, আর এই  এলাকা যদি পাকিস্তান না হয়  তা হলে হিন্দুরা কোনক্রমেই  আমাদের এমন কোন আইন করতে দেবে না, যার ফলে নিষ্ঠুর জমিদার কুবেরের হাত থেকে মুসলমানদের আমরা মুক্ত করতে পারব।  অতএব পাকিস্তাান আমাদের চাই -ই -চাই।” 

এ নির্বাচন পূর্ব ও উত্তরকালের কংগ্রেসী আচরণ মুসলমানদেরকে আশাহত করে। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ কতগুলি ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নি।  তারা যুক্তপ্রদেশ, বোম্বে ও মাদ্রাজ প্রভৃতি প্রদেশে নির্বাচন মৈত্রী অনুযায়ী এ সমস্ত প্রদেশের মন্ত্রীত্ব গ্রহণকালে লীগের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে।  নির্বাচনের আগে ও পরে এই দুই নীতিকে জিন্নাহ হিন্দুদের বিশ্বাস ভঙ্গ মনে করেন এবং হিন্দু মুসলিম ঐক্যে আজীবন বিশ্বাসী জিন্নাহ কংগ্রেসের উপর আস্থা হারান।

১৯৩৯ সাল থেকে হিন্দু মুসলিম বিরোধ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে । হিন্দুপ্রধান কংগ্রেস ভারতে বসবাসকারী হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান প্রভৃতি এক জাতি এ ধূয়া তুলে সমগ্র বৃটিশ ভারতে বর্ণ হিন্দুদের প্রভুত্ব স্থাপনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। এমন এক প্রেক্ষাপটে  মুহম্মদ আলী জিন্নাহ  ১৯৩৯ সালে তাঁর দ্বি-জাতি তত্ত্ব ¡ঘোষণা করেন।  তিনি বলেন,  We maintain that Muslims and Hindus  are two  major nations  by any definition or test as a nation. . . By  all the canons of international law, We are a nation.-Ó ” জাতীয়তাবাদ নির্ধারণে যে কোন সূত্রই প্রয়োগ করা হোক না কেন হিন্দু এবং মুসলিম  দু’টি জাতি। আমরা দশ কোটি লোকের এক জাতি  আমাদের কৃষ্টি এবং সভ্যতা, ভাষা এবং সাহিত্য, শিল্প এবং স্থাপত্য, নাম এবং নিশানা, মূল্যবোধ এবং এর পরিমাপ, আইন এবং নৈতিকতা , প্রথা এবং পঞ্জিকা, ইতিহাস এবং ঐতিহ্য, মননশীলতা এবং অভিলাষ, সংক্ষেপে আমাদর জীবনবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গী স্বতন্ত্র। আন্তর্জাতিক আইনের যে কোন বিধান অনুযায়ী আমরা একটি জাতি।” জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব  সম্পর্কিত বক্তব্য অতি দ্রুত ভারতীয় মুসলমানের মনে আলোড়ন সৃষ্টি কলে। অতঃপর ১৯৪০ সালের ২৩ শে মার্চ মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এবং মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান হয়।  এ কে ফজলুল হক প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন। লাহোর প্রস্তাবের পর রাজনৈতিক গতিধারা দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। একই বছর ভাইসরয় কংগ্রেসকে জানিয়ে দেন যে, ক্ষমতা পেতে হলে তাদেরকে মুসলিম লীগের সাথে সমঝোতায় আসতে হবে। 

পূর্ব রণাঙ্গনে বৃটিশের বিপর্যয় ঘটলে বৃটিশ সরকার ভারতীয়দের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করে। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার স্ট্যাাফোর্ট ক্রীপসকে একটি শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা সহ ভারতে পাঠান। কিন্তু ক্রীপস প্রস্তাব বিভিন্ন কারণে কংগ্রেস ও লীগের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়নি। কংগ্রেস অখ- ভারত নীতিতে অটল থাকে। অপরদিকে মুসলিম লীগও লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নে অটল থাকে।  ক্রীপস প্রস্তাবে কংগ্রেসের দাবি স্বীকৃত না হওয়ায় সারাদেশে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন শুরু হয়। মুহম্মদ অলী জিন্নাহ মুসলমানদেরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বললেন। তাঁর দাবি ছিল ‘ প্রথমে ভারত বিভক্ত কর, পরে ভারত ছাড়।’ 

 দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে শ্রমিক দলের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। শ্রমিক দল ভারতের স্বাধীনতা দানের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল ছিল।  নতুন প্রধানমন্ত্রী এটলী ১৯৪৬ সালে ও জানুয়ারিতে ভারতে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা করেন। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ