ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চাপের মুখে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার অনিশ্চিত?

৪ জানুয়ারি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল- জাজিরা : সিরিয়ায় প্রায় আট বছর ধরে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শক্তির ভারসাম্য বর্তমানে সিরিয়া ও তার মিত্রদের অনুকূলে চলে এসেছে।

মার্কিন সেনা মোতায়েনসহ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সিরিয়ায় এ পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে আমেরিকা। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান নীতি হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনা। এ কারণে তিনি গত ১৯ ডিসেম্বর অপ্রত্যাশিতভাবে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএস পরাজিত হয়েছে আর সে কারণেই সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে আনা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকার ভেতরে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের পক্ষ থেকে প্রচ- চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করেছেন এবং দামেস্কের ব্যাপারে সাম্প্রতিক ঘোষিত নীতি অবস্থান থেকে তিনি হয়তো ফের সরে দাঁড়িয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজে দাবি করেছেন, সিরিয়া থেকে তিনি মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়া সত্ত্বেও দেশটির কুর্দিদেরকে সমর্থন দিয়ে যাবেন। অথচ এর আগে তিনি বলেছিলেন, আইএস পরাজিত হওয়ায় সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতির কোনো কারণ থাকতে পারে না। ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার জন্য ট্রাম্প এখন সিরিয়ান কুর্দীদের রক্ষার কথা বলছেন।

কয়েক বছর আগে ওয়াশিংটন সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের সহযোগিতার কথা বলে সেখানে সেনা মোতায়েন করে এবং দাবি করে তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে।

কিন্তু আমেরিকা সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ায় কুর্দিদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। এ কারণে তারা তুর্কি সেনাদের হামলার আশঙ্কায় ফোরাতের পূর্ব এলাকা থেকে সিরিয়ার সেনানিয়ন্ত্রিত এলাকায় চলে যেতে চায়।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের অর্থ হবে আমেরিকার জন্য বিরাট পরাজয় এবং কুর্দিরা একা হয়ে পড়বে।’

যাহোক, ইউরোপীয়রা কুর্দিদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে টেলিফোন আলাপে সিরিয়ায় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা বিশেষ করে কুর্দিদের রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেনা প্রত্যাহারের বিরোধী ট্রাম্পের সমালোচকরা মনে করেন, এ সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে সিরিয়া ইস্যুতে আমেরিকার পুরোপুরি পিছটান এবং কোনো রকম সম্ভাব্য ঝুঁকি ও যাচাই না করেই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে এ অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের পরিণতি ভালো হবে না। 

এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও প্রয়োজনে হামলা চালানোর মতো বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। এ অবস্থায় নানামুখী চাপের কারণে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে পারবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পরও দেশটির পূর্বাঞ্চলে বোমা হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এ হামলা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য ও ছবি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে আল জাজিরা ও দ্য ইন্টারপ্টে।

২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটার পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় আইএস-কে পরাজিত করেছি। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে শুধু আইএস-কে হটানোর জন্যই তাদের সেখানে (সিরিয়া) রাখা হয়েছিল।’ তবে আল জাজিরা ও দ্য ইন্টারসেপ্টের অনুসন্ধান বলছে, সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর হামলা জোরদার হয়েছে।

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তিন সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন ইউফ্রেটিস নদীর নিকটবর্তী আল কাশমাহ গ্রামে। মার্কিন বিমান হামলা ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর গোলা হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও আইএস যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামে পালিয়েছে। ইউফ্রেটিস নদীসংলগ্ন গ্রামগুলোতে জড়ো হয়েছে আইএস সদস্যরা। 

দের আজ জোর এলাকার এক মানবাধিকারকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় এখন ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব এলাকার নিরস্ত্র মানুষদের মার্কিন বোমা হামলা থেকে বাঁচার কিংবা নিজেদের লুকিয়ে রাখার কোনও জায়গা নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র ও আইএস-এর পাশাপাশি সিরীয় সরকারের হামলার কবলেও পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

অপারেশন রাউন্ডআপ নামের অভিযানের অংশ হিসেবে গত নভেম্বর থেকে ইউফ্রেটিসের আশপাশে আইএস নিয়ন্ত্রিত গ্রামগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপারেশন রাউন্ডআপ পরিচালনা করতে গিয়ে বেসামরিক এলাকায়ও হামলা হচ্ছে। একটি হাসপাতালও হামলার শিকার হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ