ঢাকা, শনিবার 5 January 2019, ২২ পৌষ ১৪২৫, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তান : ২০১৯ সালে আরো রক্তাক্ত হবে

আফগানিস্তান : ২০১৯ সালে আরো রক্তাক্ত হবে -ছবি : সংগৃহীত

এএফপি : আফগানিস্তানের ইতিহাসে ২০১৮ সালটি ছিল একটি ভয়াবহ রক্তাক্ত বছর। দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মার্কিন পদক্ষেপ কার্যকর করা হলে চলতি বছরটি খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সাথে এ বছর অনুষ্ঠেয় আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও সহিংসতাপূর্ণ হতে পারে। তালেবানের সাথে শান্তি চুক্তি নিয়ে বসার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। মার্কিন আগ্রাসন ও দখলের পর ১৭ বছর ধরে চলছে লড়াই। এ লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার আশা নেই দেখে ট্রাম্প হয়তো সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তালেবান আক্রমণ আরো জোরদার হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আফগানরা দেশটিতে সঙ্ঘাত তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সামরিক ও বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়ছে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের শিকার সাধারণ আফগানরা। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান কাবুলের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। এখনকার চেয়ে বরং চার-পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতি আরো ভালো ছিল। ফলে কাবুল যখন শান্তি থাকে, তখনো আমরা কখন হামলা হবে প্রতি মুহূর্ত তার আশঙ্কায় থাকি।।আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ময়লা সংগ্রহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাবিহুল্লাহ শিরজাদ বলেন, ২০১৮ সালের মতো এত রক্তাক্ত কোনো বছরের কথা তিনি মনে করতে পারেন না। একই সাথে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০১৯ সালটি এর চেয়ে আরো বেশি খারাপ হবে। এ বছরে আমাদেরকে আরো অনেক বেশি হত্যাকা- ও রক্তপাত দেখতে হবে। ৪২ বছর বয়সী জাবিহুল্লাহ বলেন, এ শান্তি আলোচনার ব্যাপারে আমি আশাবাদী নই।

গত অক্টোবরে গ্যালাপ জরিপেও আফগানদের এ হতাশার চিত্র ধরা পড়ে। গত ডিসেম্বরে এশিয়া ফাউন্ডেশনের একটি জরিপে বলা হয়, ৬০ শতাংশ আফগান নাগরিক মনে করে, দেশ ভুল পথে চলছে। এক বছর আগেও পরিস্থিতি একই রকম ছিল। কিছু সূচকে দেখা গেছে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা সূচক ক্রমেই নিগামী হচ্ছে। গত বছরের প্রথমার্ধে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুহার রেকর্ড করেছিল। অন্য দিকে আফগান বাহিনীর ওপরও আগের তুলনায় হামলা বাড়িয়েছে তালেবান। ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে ২০১৮ সালে। গত জানুয়ারিতে কাবুলের একটি ব্যস্ত রাস্তায় একটি অ্যাম্বুলেন্স বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে শতাধিক লোক নিহত হয় এবং কয়েক শ’ আহত হয়।আফগানিস্তানে ট্রাম্পের ব্যাপক আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে রক্তপাতের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের আগস্টে নেয়া ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালেবান ও দায়েশকে ঠেকাতে সেখানে সেনাবাহিনীর পরিমাণ ব্যাপকহারে বাড়ানো হয় এবং সেই সাথে বিমান হামলাও বৃদ্ধি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্মড কনফ্লিট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্টের দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০১৮ সালে বিভিন্ন সঙ্ঘাতে ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইয়েমেনে মিলে গত বছর এ পরিমাণ লোক নিহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ