ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না খুলনা ওয়াসা প্রকল্পের কাজ

খুলনা অফিস : নির্ধারিত সময়ে ওয়াসার আড়াই হাজার কোটি টাকার খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ছয় মাস। আগামী জুন মাস নাগাদ ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ওয়াসা কর্তৃক খননকৃত সিটি কর্পোরেশনের ভেতরের রাস্তাসমূহ অতি দ্রুত মেরামত ও মানসম্মতভাবে করার জন্য মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ-এর সভা ওয়াসার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে খুলনা নগরীতে ওয়াসা সোয়া লাখ বর্গ মিটার সড়ক খনন করেছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এবং ওয়াসার যৌথ মেজারমেন্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ খননকৃত সড়ক ওয়াসাকে আগামী জুন মাসের মধ্যে মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। সভায় খননকৃত সড়কের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সে মতে, ওয়াসা খনন করে নষ্ট করে ৫৪ হাজার ১৫২ বর্গ মিটার কার্পেটিং সড়ক, ৪ হাজার ৬৫৬ বর্গ মিটার আরসিসি সড়ক, ২২ হাজার ১৮৯ বর্গ মিটার সিসি সড়ক, ২৩ হাজার ৮২৮ বর্গ মিটার সলিং সড়ক ও ৯ হাজার ৬০৬ বর্গ মিটার হেরিংবোন সড়ক। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ বর্গ মিটার সড়ক ওয়াসা খনন করে নষ্ট করে। এ নষ্টকৃত সড়ক মেরামত করতে ব্যয় হবে ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ টাকায় কেসিসি মেরামত করার জন্য স্টিমেট তৈরি করে। ইতোমধ্যে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ খননকৃত কোনো কোনো সড়ক নিজ খরচে মেরামত করেছে। যে কাজটুকু বাকী আছে তা সংস্কার করতে ব্যয় হতে পারে ২৫/২৬ কোটি টাকা। যার জন্য কেসিসির প্রস্তাব ওয়াসা গ্রহণ করেনি। ওয়াসা নিজ খরচে বাকি সড়ক মেরামত করার প্রস্তাব দেয়।
কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল আজিজ বলেন, ওয়াসা কর্তৃক নগরীর খননকৃত সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য মেয়র নির্দেশনা দেন। তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে এবং জুন মাসের ভেতরে খননকৃত সড়ক মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী খান, নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মো. মশিউজ্জামান খান, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন, ওয়াসার এমডি মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ, ডিএমডি কামাল উদ্দীন আহমেদসহ দু’সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, কেসিসি এবং ওয়াসা খননকৃত সড়কের  যৌথ মেজারমেন্ট করে স্টিমেট তৈরি করে। ওই স্টিমেটে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। তবে ওয়াসা ইতোমধ্যে খননকৃত অনেক সড়ক নিজ খরচে মেরামত করেছে। বাকী সড়ক মেরামত করতে হয়তোবা ২৬/২৭ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। ওই কাজ তারা নিজেরাই করবে বলে সভায় অবগত করা হয়। মেয়র তাদের প্রস্তাবে রাজি হন এবং পূর্বের ন্যায় ওয়াসা খননকৃত সড়ক নিজ খরচে মেরামত করবে আর কেসিসি তা মনিটরিং করবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
খুলনা ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড সুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) প্রকৌশলী ও উক্ত প্রকল্পের পরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মেয়রের সাথে তাদের সফল বৈঠক হয়েছে। সভায় খননকৃত সড়ক দ্রুত মেরামত এবং তা মানসম্মত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। বিষয়টি তদারকি করবে কেসিসি, ওয়াসা ও কনসালটেন্ট। এখন ওয়াসার কাজ তেমন নেই। প্রায় কাজ শেষের পথে। ২/৪টি স্পট ছাড়া বাকী কাজ মেশিনে করা হবে। হাউজ টু হাউজ কানেকশনের কাজ চলছে। খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পটি ২ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। ২০১১ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। শেষ করার কথা ছিল ডিসেম্বর’১৮। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের প্রধান কাজ সম্পন্ন হলেও ছোটখাটো কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্বির জন্য আবেদন করা হয়। মন্ত্রণালয় আগামী জুন মাস’১৯ নাগাদ সময় বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন করেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সকল কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ওয়াসা নগরীর রাস্তাঘাট খনন করে কাজ করেছে। সেসব খননকৃত সড়ক দ্রুত মেরামত করার জন্য ওয়াসার সাথে কেসিসি যৌথ সভায় মিলিত হয়। সভায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াসাকে মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়েছে। সে মতে, আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে নগরীতে খননকৃত সকল সড়ক মেরামত সম্পন্ন করবে বলে সভায় ওয়াসা আশ্বস্ত করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ