ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুই মাস বসে আছে লঞ্চ ॥ লোকসানে ব্যবসায়ীরা খুলনায় পর্যটন ব্যবসায় মন্দা

খুলনা অফিস : নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত হওয়ায় গত দুই মাস ধরে মন্দা যাচ্ছে খুলনাঞ্চলের সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা। গত নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় সুন্দরবনে পর্যটক ছিলো কম। পর্যটক কম থাকায় সুন্দরবনগামী লঞ্চগুলো অলস বসে আছে খুলনার ভৈরব নদে। প্রতি মাসে পর্যটন ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, নবেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তাদের পর্যটন মৌসুম। এর মধ্যে নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার দেশি-বিদেশী পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করে। ভ্রমণের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ হওয়ায় এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে একাধিক নৌযান প্রতিষ্ঠান। ট্যুর অপারেটরদের কাছে লঞ্চ ভাড়া দেওয়াই তাদের ব্যবসা। এছাড়া অনেক নৌযান মালিক নিজেরাই ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। লঞ্চ মালিক, ট্যুর অপারেটর ও সহযোগীসহ এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৫ হাজার মানুষ। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছর নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিটি অপারেটর গড়ে সুন্দরবনে লঞ্চে ৬/৭টি ট্রিপে (প্রতিটি ট্রিপ সাধারণত তিনদিন) পর্যটক নিয়ে যেতো। এ বছর সর্বোচ্চ ট্রিপ হয়েছে ২/৩টি। এবার অনেক অপারেটর কোনো ট্যুর পায়নি। গত দুই মাস ধরে বেকার বসে থেকেছে এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ। ব্যবসায়ীদের কথার সত্যতা পাওয়া গেছে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের তথ্যে। বনবিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনে দেশি পর্যটক ছিলো ১৩ হাজার ৪৮১ জন, বিদেশী পর্যটক ছিলো ৫৯ জন। ২০১৭ সালের নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশি পর্যটক ছিলো ১০ হাজার ৯৬০ জন, বিদেশী পর্যটক ছিলো ৪৪ জন। অনদিকে ২০১৮ সালের দুই মাসে সুন্দরবনে পর্যটক ছিলো ৭ হাজার ৫৩৩ জন। এর মধ্যে নবেম্বর মাসে ৩ হাজার ১২০ জন এবং ডিসেম্বর মাসে ৪ হাজার ৪১৩ জন। বিদেশী মোট পর্যটক ছিলো ৫১ জন। খুলনার পুরাতন পর্যটন ব্যবসায়ী সুন্দরবন ট্যুরিজমের মালিক এনামুল হক জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে ৭টি ট্রিপ দিয়েছি। এবার ট্রিপ হয়েছে মাত্র ৩টি। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর তো কেউ যোগাযোগই করেনি। অবশ্য ৪ জানুয়ারি থেকে অনেকে ফোন দিচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রিপ না থাকায় নদীতে ফাঁকা লঞ্চ বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। দুই মাসে গড়ে লোকসান হয়েছে ৫/৬ লাখ টাকা। পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, সাধারণত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো অপারেটরের সিডিউল ফাঁকা থাকে না। এই সময়ে কেউ ৮/১০টি ট্রিপও করে। কিন্তু এ বছর ডিসেম্বর মাসে অনেকে একটি ট্রিপও পায়নি। তিনি বলেন, এ বছর ডিসেম্বর মাসটি সব ব্যবসায়ীরই মন্দা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় জানুয়ারিতে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশির আল মামুন বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় গত নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পর্যটক কম ছিলো। তবে জানুয়ারির ৪/৫ তারিখ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য আবেদন বাড়ছে। নির্বাচনকালীন ব্যস্ততা কেটে যাওয়ায় সুন্দরবন ফের পর্যটকমুখর হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ