ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বরিশালে উজিরপুরে শালিস বৈঠকে সংঘর্ষ আ’লীগ-বিএনপির ১০ সমর্থক আহত

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের আটক গ্রামে জমি বিরোধ নিয়ে ডাকা শালিস বৈঠকে হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে ৪ সহোদর ও শালিসকারীসহ আওয়ামীলীগ, বিএনপির অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ সহোদরকে বরিশাল  শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে উভয় পক্ষ উজিরপুর মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বিএনপি সমর্থক মন্টু হাওলাদার ও প্রতিবেশী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী লাকী ভূইয়ার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এলাকার একটি গ্রাম সমিতির কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠক বসে। শালিস বৈঠকে দুই পরিবারের  লোকজন ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। শালিস বা বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শোলক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জেল কাজী, মিজান তালুকদার, শহিদুল তালুকদার, সেকেন্দার তালুকদার, মাসুম হাওলাদারসহ স্থানীয় আরো কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি।
শালিস বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষ ও শালিসকারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী লাকী ভূইয়ার ছেলে আশিক ভূইয়া শালিসকারীদের (বিচারক) অবমাননা করে বসে। এ ঘটনায় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আশিক ভূইয়া তার ২৫/৩০ জন সহযোগীকে নিয়ে প্রতিপক্ষ মন্টু হাওলাদার ও তার স্বজনদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় মন্টু হাওলাদার (৪৫) ও তার সহোদর মিন্টু হাওলাদার (৩৮), সাহেদুল হাওলাদার (৩০), হাফিজুল হাওলাদার (২৮) গুরুতর আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর জের ধরে উভয় পক্ষ ও শালিসগণের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে এতে লাকী ভূইয়ার পক্ষের ৪ জন আহত হয়। তাদেরকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জন শালিসকারীও আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আহত মন্টু হাওলাদারের সহোদর শহিদুল অভিযোগ করে বলেন, তাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মন্টু একাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন এবং অন্য সবাই ঢাকায় চাকরি করেন। মৃত বাবার নামে দোয়া ও মিলাদ পড়াতে গত বৃহস্পতিবার তারা সবাই গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। একই বাড়ির লাকী ভূঁইয়ার সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে গত শনিবার বিকেলে ওই শালিস বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু শালিসের মধ্যে বিচারকগণ প্রতিপক্ষের কথা শুনে তাদের পক্ষের কথা শুনতেছিল। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ লাকী ভূঁইয়ার ছেলে আশিক একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে শালিস বৈঠকে হামলা চালিয়ে তার চার সহোদরসহ কয়েকজন শালিসকারীকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় আহত মন্টুর স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ লাকী ভূঁইয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৩৩ জনকে আসামী করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার ও প্রতিপক্ষকে দায়ী করে শোলক ইউনিয়ন মহিলা লীগের সভাপতি লাকী ভূইয়া জানান, প্রতিপক্ষরা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি রিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শালিস বৈঠকের বিচারক ও শোলক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান হাওলাদার, আওয়ামীগ নেতা মোফাজ্জেল কাজী, মিজান তালুকদার, শহিদুল তালুকদার, সেকেন্দার তালুকদারসহ অন্যান্যরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শালিস বিচার চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ করে কিছু বহিরাগত লোকজন হামলা চালায়। এতে শালিসগনসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে মন্টু হাওলাদারের পক্ষের লোকজন গুরুত্বরভাবে আহত হয়েছে। তারা আরও জানান, বহিরাগত ওই সকল লোকজনকে লাকী ভূইয়ার ছেলে আশিক ভূইয়া তার বন্ধু বাটাজোর এলাকার আফ্রিদির মাধ্যমে এনেছিল।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে উভয়পক্ষই থানায় পৃথক ২টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ