ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দোয়ারার টেংরাটিলাবাসী ১৪ বছর পরও ক্ষতিপূরণ পাননি

সিলেট ব্যুরোঃ গতকাল ছিল ৭ জানুয়ারি। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলাবাসী গ্যাস বিস্ফোরণে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আজ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। ভয়াবহ বিস্ফোরণের ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন নিয়ে আজও ঘুরাতে হচ্ছে এই এলাকাবাসীর। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলার গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে বিস্ফোরণ হয়।
গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। পরে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর আপনা-আপনি নিভে যায় আগুন। একই বছরের ২৩ জুন রাত ২টায় দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-ক¤পন অনুভূত হয়। প্রথম দফায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই দফা অগ্নিকান্ডে গ্যাসফিল্ডের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় ৫ দশমিক ৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিলিয়ন কিউসেক রিজার্ভ গ্যাস। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুড়ি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি।
 টেংরাটিলার আশপাশের গ্রামের ফাটল দিয়ে গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত আছে। এর প্রভাবে এলাকার জীব-বৈচিত্র্য ক্রমেই বিনষ্ট হচ্ছে এবং বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।
 টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদ সিলেটের সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দু’দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খননকারী প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান কো¤পানি নাইকো যে ক্ষতি করেছে তা কোনোদিন পূরণ হবে না। টেংরাটিলায় এখনও যত্রতত্র গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। বর্ষার মৌসুমে তা দৃশ্যমান হয় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।
স্থানীয়রা জানান, এই গ্যাসফিল্ডের টেংরাটিলা, আজবপুর, কৈয়াজুড়ি, শান্তিপুর ও গিরিশ নগরের অনেক পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। কানাডিয়ান কো¤পানি নাইকো অগ্নিকা-ের পর সিঙ্গাপুর থেকে বীমার টাকা আদায় করে নিয়ে তারা পর্যায়ক্রমে টেংরাটিলা থেকে চলে যায়।
বছর দু’য়েক আগে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা আসলে টেংরাটিলা সম্পর্কে আর কোন আপডেট সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সম্প্রতি নাইকো মামলার আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় এলাকাবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ