ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গণপিটুনিতে নিহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল (৩৫) চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরের ডবলমুরিং থানাধীন পাহাড়তলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সোহেলর সহযোগী রাসেল নামে একজনকেও মারধর করা  হয়েছে। সোহেল দক্ষিণ খুলশী এলাকার আবদুল বারিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তার চাঁদাবাজিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ ছিলেন। চাঁদা না দিলে, মালামাল লুট ও ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকাও কেড়ে নিতো সোহেল নামে ওই সন্ত্রাসী। সে মূলত সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতো। সোমবারও চাঁদা দাবি করতে এসে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেলসহ সহযোগীদের গণপিটুনি দেন স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা। 
স্থানীয় সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাবের আহমদ দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে সোহেলকে কৌশলে খুন করা হয়েছে। সে বর্তমানে যুবলীগ অথবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেই। ছাত্র থাকা অবস্থায় সে কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপগ্রন্থাগার ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এরপর সেইভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, সোহেল স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করেনি। জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় যুবক ওসমানের সঙ্গে পাহাড়তলী বাজারের পাশে রেলওয়ের জায়গা দখল কেন্দ্রীক দ্বন্দ্ব ছিল তার। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে ওসমান ও তার সহযোগীরা কৌশলে তাকে হত্যা করে।
নগরে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মহিউদ্দিন বলেন, চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষোভ থেকে গতকাল সকালে ব্যবসায়ীরা গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সোহেল চাঁদাবাজি করতো। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ